রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, নারী ও শিশু নির্যাতন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা ঘটনার কারণে গত জুন মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) প্রকাশিত জুন ২০২৬ মাসের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
ঢাকাভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থাটি দেশজুড়ে প্রকাশিত সংবাদ, মাঠপর্যায়ের তথ্য এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগৃহীত ঘটনার ভিত্তিতে মাসিক এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এতে বলা হয়েছে, জুন মাসজুড়ে রাজনৈতিক সংঘাত, গণপিটুনি, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ এবং ব্যাপক গ্রেপ্তারের মতো ঘটনাগুলো মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের অধীনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে
এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ৫৮টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৪৬ জন। মে মাসের তুলনায় রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে। এইচআরএসএস জানায়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ২১টি সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং ১৪৬ জন আহত হন।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অনেক এলাকায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, প্রভাব বিস্তার এবং সাংগঠনিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহিংস প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত বহন করে।
গণপিটুনির প্রবণতা উদ্বেগজনক
জুন মাসে গণপিটুনির ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে অব্যাহত ছিল।
এইচআরএসএসের হিসাবে, গণপিটুনি ও জনতার হাতে বিচার (ভিজিলান্টিজম)-সংক্রান্ত ৬৩টি ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৩ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিরোধ এবং গুজবকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ গণপিটুনির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই জনতার হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ঘটনায় পুলিশ সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন।
এইচআরএসএস জানায়, জুন মাসে ২৯টি ঘটনায় ৬৬ জন পুলিশ সদস্য আহত বা হামলার শিকার হন, যখন তারা জনতাকে নিয়ন্ত্রণ বা সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছিলেন।
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা দুর্বল হলে এবং অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে গণপিটুনির মতো প্রবণতা বাড়তে পারে। ফলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন তারা।
নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র আরও ভয়াবহ
জুন মাসে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার চিত্রও ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এইচআরএসএসের তথ্যমতে, ৩৫২ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হন ১০৬ জন, যাদের ৭৫ জনই শিশু। এছাড়া ১৯টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ধর্ষণের পর দুই কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
পারিবারিক সহিংসতাও ছিল উদ্বেগজনক মাত্রায়। জুন মাসে পারিবারিক সহিংসতায় ৫৭ জন নারী নিহত, ৪৮ জন আহত এবং ৩৬ জন আত্মহত্যা করেছেন বলে এইচআরএসএস জানিয়েছে।
এ ছাড়া ৯৪ জন নারী ও কিশোরী যৌন হয়রানির শিকার হন। অন্যদিকে, ২৯১ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; অপরাধের দ্রুত তদন্ত, বিচার, ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
জুন মাসে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ২৭ জুন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করে যে, আইনটি বর্তমান রূপে পাস হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে।
বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, “প্রস্তাবিত আইনটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করবে।”
সংস্থাটি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায়, আইনটি এমনভাবে সংশোধন করতে হবে যাতে কমিশন স্বাধীনভাবে অভিযোগ তদন্ত করতে পারে এবং কার্যকর জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়।
এইচআরএসএসের জুন মাসের প্রতিবেদন এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ—উভয়ই বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্যাপক গ্রেপ্তার ও আইন প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
জুন মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেশব্যাপী অভিযান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এইচআরএসএস।
সংস্থাটির তথ্যমতে, মাসজুড়ে ২৫৭টি অভিযানে অন্তত ৪ হাজার ৭৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অভিযানের অনেকগুলোই ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং বিভিন্ন জেলার পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়, যেখানে একেকটি অভিযানে একসঙ্গে বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে।
এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার এসব অভিযানকে অপরাধ দমন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরলেও, গ্রেপ্তারের ব্যাপকতা ও ধরন নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৫৫৯ জন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছিলেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অন্তত ৩৫ জন নেতাকর্মীকেও একই ধরনের অভিযানে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধ দমন রাষ্ট্রের বৈধ দায়িত্ব হলেও প্রতিটি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ করা জরুরি।
হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ
জুন মাসে হেফাজতে মৃত্যু এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সময় প্রাণহানির ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে এইচআরএসএস।
সংস্থাটির হিসাবে, অন্তত তিনজন ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় মারা গেছেন।
এর মধ্যে একজনের মৃত্যু ঘটে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) হেফাজতে। ঘটনাটি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশে হেফাজতে মৃত্যু দীর্ঘদিন ধরেই দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের বিষয়। তারা প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছে।
অন্যদিকে সরকার বরাবরই বলে আসছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানি
জুন মাসে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে এইচআরএসএস।
সংস্থাটির তথ্যমতে, ৩৯টি পৃথক ঘটনায় ৪৭ জন সাংবাদিক হামলা, হুমকি, হয়রানি অথবা ইচ্ছাকৃত আটকের শিকার হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংঘাত, চাঁদাবাজি কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক হামলার মুখে পড়েন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা
এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাও উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে ১২টি মন্দির এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাতটি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া একজন আদিবাসী নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে সংস্থাটি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।
মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
জুন মাসে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনা জোরালো হয়।
গত ২৭ জুন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, “প্রস্তাবিত আইনটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করবে।”
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, কমিশনের স্বাধীনতা সীমিত হলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কার্যকর ও নিরপেক্ষ তদন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটির সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সরকারের অবস্থান
সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং আইনগত অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার ও অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া
এইচআরএসএসের জুন মাসের প্রতিবেদন প্রকাশের পর আওয়ামী লীগ তাদের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে দাবি করে, জুন মাসের ঘটনাপ্রবাহ দেশে মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিফলন।
নিবন্ধে দলটি মন্তব্য করে, “ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি এখন বেড়ে চলা সহিংসতা, দায়মুক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়ের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।”
দলটির দাবি, হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, গণপিটুনি এবং ব্যাপক গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে এসব মূল্যায়ন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান, যা সরকার প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সামগ্রিক চিত্র
জুন মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এইচআরএসএসের পর্যবেক্ষণে এমন একটি চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতা এবং ব্যাপক গ্রেপ্তারের ঘটনা একই সময়ে আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে, সরকার বলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে তারা আইনানুগভাবেই কাজ করছে।
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এই দুই ভিন্ন অবস্থানের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও, জুন মাসের ঘটনাগুলো দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন, কূটনৈতিক মহল এবং নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আগামী মাসগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষিত হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

