ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে আইন শিক্ষার্থীর মৃত্যু: পুলিশের বর্ণনায় মিলছে না নানা তথ্য

পরিবারের দাবি, আটক করে মারধরের পর ‘মিথ্যা’ মাদক মামলা; ডিবির বক্তব্যে অসংগতির অভিযোগে উঠছে হেফাজতে মৃত্যুর প্রশ্ন

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের (২৪) মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবার, স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ডিবির ঘটনাবিবরণে একাধিক অসংগতি পাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।

গত ২০ জুন বিকেল ৫টার দিকে মধুখালীর বাড়ি থেকে বের হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে ডিবির একটি দল প্রান্তকে আটক করে। পরদিন ২১ জুন সকালে ডিবি হেফাজতেই তার মৃত্যু হয়।

ডিবির দাবি, প্রান্তের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার হওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছিল। তাকে মারধর করা হয়নি এবং তার সঙ্গে ‘ভদ্র ও সৌজন্যমূলক’ আচরণ করা হয়। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, হেফাজতে থাকাকালে ফজরের নামাজের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে ডিবির এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে প্রান্তের পরিবার, স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের অভিযোগ, পশ্চিম গোন্দারদিয়ায় বাড়ির সামনে প্রান্তকে মারধর করে আটক করা হয়। পরিবারের অনুরোধ সত্ত্বেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তার বিরুদ্ধে একটি ‘মিথ্যা’ মাদক মামলা দেওয়া হয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে প্রান্তের বাড়িতে গিয়ে পরিবার, স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ডিবির বর্ণনায় অসংগতি পাওয়া গেছে। এতে প্রান্তকে আটকের পর ডিবি কার্যালয়ের ভেতরে কী ঘটেছিল এবং হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি কীভাবে মারা গেলেন—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশে পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু ও আটক ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার উদ্বেগের বিষয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১ এবং ২০২৩ সালে ছিল আট।

spot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles