রোজ গার্ডেন থেকে যাত্রা শুরু আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরে পদার্পণ

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আগামী ২৩ জুন মঙ্গলবার। অর্থাৎ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরনো ঢাকার বিখ্যাত কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেন থেকে যেই দলের যাত্রা শুরু করেছিলো সেই ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলটি ৭৬ পেরিয়ে ৭৭ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দ্বিতীয় বারের মতো একটি বৈরী পরিবেশে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করবে নিষিদ্ধ ঘোষিত দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলটি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১২ই মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সেই বিতর্কিত অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে। অর্থাৎ যেই দলটি স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বেশি সময় (ছয় বার) রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিল সেই দলটিকে এক প্রকার গায়ের জোরে প্রায় দুই বছর যাবত নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ইতিহাস, বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল অর্জন ও সংগ্রামের ইতিহাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ বাঙালি জাতির যা কিছু শ্রেষ্ঠ অর্জন, তার মূলে রয়েছে জনগণের এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব। জন্মলগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস জনগণ, শক্তির উৎস সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

পুরনো ঢাকার রোজ গার্ডেন থেকে যাত্রা শুরু

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এই রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে আটক ছিলেন। তাঁকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ করা হলেও পরবর্তী সময়ে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের অধিকতর প্রতিফলন ঘটানোর জন্য এর নাম ‘আওয়ামী লীগ’ করা হয়।

সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কিংবদন্তি ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ আওয়ামী লীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৩ সালের ২৪ জুন ডেইলি ষ্টার পত্রিকায় একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন।

সেখানে তিনি লিখেন ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতারা দলের আত্মপ্রকাশের দিন হিসেবে ইতিহাস থেকে ২৩ জুন তারিখটি বেছে নিয়েছিলেন। কারণ ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর বঙ্গবন্ধু হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন, ‘এই পাকিস্তান বাঙালীদের জন্য হয় নাই। একদিন বাংলার ভাগ্যনিয়ন্তা বাঙালীদেরই হতে হবে।’

তোফায়েল আহমেদ লিখেন ১৯৪৭ সালের শেষে বঙ্গবন্ধু সতীর্থ-সহযোদ্ধাদের নিয়ে ১৫০, মোগলটুলিতে ‘ওয়ার্কার্স ক্যাম্প’ সংগঠিত করেন ও ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ‘ছাত্রলীগ’ প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছরের ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের উদ্যোগে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সফল ধর্মঘটের মাধ্যমে সূচিত হয় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের। ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্ন বেতনভোগী কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া আদায়ের সংগ্রাম সংগঠিত করার কারণে ১৯ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুকে প্রথমে কারারুদ্ধ ও পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে শর্ত দেওয়া হয়, যদি তিনি মুচলেকা দিতে সম্মত থাকেন, তবে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বঙ্গবন্ধু অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করেননি। ঢাকার রোজ গার্ডেনে আওয়ামী লীগের জন্মকালে বঙ্গবন্ধু কারারুদ্ধ ছিলেন।

এ সম্পর্কে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘সকলেই একমত হয়ে নতুন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গঠন করলেন; তার নাম দেওয়া হল “আওয়ামী মুসলিম লীগ।” মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, জনাব শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং আমাকে করা হল জয়েন্ট সেক্রেটারি। খবরের কাগজে দেখলাম, আমার নামের পাশে লেখা আছে “নিরাপত্তা বন্দী”।’ (পৃষ্ঠা: ১২০-১২১)।

‘ছাত্রলীগ’ ও ‘আওয়ামী লীগ’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মহান ভাষা আন্দোলন ও মহত্তর মুক্তিযুদ্ধের বীজ রোপিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মতান্ত্রিক পথে সংগ্রাম করে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে ‘আওয়ামী লীগ’, ‘বঙ্গবন্ধু’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘বাংলাদেশ’ গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত হয়ে নামগুলো পরস্পর সমার্থক হয়েছে।

সাজ্জাদ হোসেন সবুজ

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর ১৯৫৫ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। আর ‘পূর্ব পাকিস্তান’ শব্দ দুইটি বাদ পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে। বাংলাদেশে স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর থেকে প্রবাসী সরকারের সব কাগজপত্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নাম ব্যবহার শুরু হয়। ১৯৭০ সাল থেকে এই দলের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা।
পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম প্রাচীন এই সংগঠনটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে এদেশের গণমানুষের সংগঠনে পরিণত হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বের জন্যই আওয়ামী লীগকে ’৭০-এর নির্বাচনে পূর্ব-বাংলার মানুষ তাদের মুক্তির ম্যান্ডেট দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ভূখন্ডে প্রতিটি প্রাপ্তি ও অর্জন সবই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে।  ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, সব আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ গঠনে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করেছে আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার পর থেকে দেশ বিরোধীদের ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধ্বংসস্তুপ থেকে উঠে এসে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে।

দীর্ঘ আট দশকের অভিযাত্রায় আওয়ামী লীগের ওপর বারবার আঘাত এসেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত দুইবার দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা এবং পরবর্তীতে কারাগারের অভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর আওয়ামী লীগ বলতে গেলে এক প্রকার নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছিল। স্বাধীনতা বিরোধী খুনীচক্র ভেবেছিল আওয়ামী লীগ আর কখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না এবং ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কিন্তু তাদের সেই ভাবনাকে মিথ্যা প্রমাণ করে মাত্র ৫ বছরেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সূযোগ্য নেতৃত্বে দল আবারও সুসংগঠিত হয়ে ঠিকই ঘুরে দাঁড়ায় এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটায়। দীর্ঘ ২১ বছরের সংগ্রাম ও লড়াইয়ের পর ১৯৯৬ সালে ১২ জুনের নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আবারও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলটি। তারপরের ইতিহাসতো দেশ ও বিশ্ববাসি দেখেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর জনগনের সমর্থন নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তিনটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অত্যন্ত সফলভাবে দেশ পরিচালনা করে দেশকে পৃথিবীর বুকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে। কিন্তু দেশি-বিদেশি যড়ষন্ত্র অর্থাৎ মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এক বিতর্কিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করে। তারই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সেই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরিত করে যাতে করে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও জনপ্রিয় দলটি আর রাজনীতি করার সুযোগ না পায়।

বাঙালি জাতি, বাংলা ভাষা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অবিচ্ছেদ্য ও একই সূত্রে গাঁথা।এবং একে অপরের পরিপূরক। আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন আওয়ামী লীগ শুধু একটা রাজনৈতিক দল নয়। হাজারও শহীদের রক্ত, জাতির পিতার রক্ত, জাতীয় চার নেতার রক্ত, হাজার হাজার নেতাকর্মীর আত্মত্যাগ সব মিলিয়েই আওয়ামী লীগ। এই আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটা অনুভূতি। এই হাজারও বন্ধুর রক্ত, চার নেতার রক্ত, ভাষা আন্দোলনের রক্ত-সেই অনুভূতি। এই অনুভূতিতে সৃষ্টি হয়েছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করতে পারেনি এবং কোনোদিনই পারবে না। কারণ আওয়ামী লীগ অজেয় রাজনৈতিক সংগঠন। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে পৃথিবীর কোনো শক্তি নাই, এই আওয়ামী লীগকে স্তব্ধ করে দিতে পারে।

আওয়ামী লীগ কোন ভূঁইফোড় রাজনৈতিক দল নয় এবং ক্যান্টনমেন্টেও এই দলের জন্ম হয়নি। এই দলের প্রতিষ্ঠার পিছনে রয়েছে সংগ্রামী ইতিহাস এবং এই সেই দল যারা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ হচ্ছে কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ হুসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমেদের মতো নেতাদের হাতে গড়া দল এবং এই দলের শিকড় দেশের প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় বিস্তৃত রয়েছে। যেই দলটি দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ ভাগ প্রতিনিধিত্ব করে এবং যে দলে রয়েছে কোটি কোটি ত্যাগী নেতা-কর্মী সেই দলকে কোন আইন দিয়ে নিষিদ্ধ করা যায় না এবং সম্ভবও নয়। আওয়ামী লীগ হচ্ছে সেই ফিনিক্স পাখি, যার ছাই থেকেও পুনর্জন্ম নেয়ার ইতিহাস রয়েছে।

আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে দলের কোটি কোটি ত্যাগী নেতা-কর্মী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে দল যে কঠিন সময় পার করছে তা অচিরেই দূর হবে এবং এই আঁধার কেটে গিয়ে অতীতের মতো আবারও ঘুরে দাড়াবে। তারা আরো আশা করেন যে দলের ওপর অন্যায়ভাবে এবং গায়ের জোরে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তা শীঘ্রই প্রত্যাহারে সরকারকে বাধ্য করা হবে এবং জনগণের ভালোবাসা নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরে আসবে।

এই প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত হচ্ছে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিকে উৎসাহিত করা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা উচিত। এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন দলটিও প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আওয়ামী লীগের একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারবে। অন্যথায়, ভবিষ্যতে তারা দেশের প্রধান বিরোধী বা বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবেও নিজেদের অবস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বর্তমান বিএনপি সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে বরেণ্য অর্থনীতিবিদ প্রফেসর রেহমান সোবহান বলেছিলেন, দেশের দ্বিদলীয় রাজনীতির দুটি স্তম্ভের একটি আওয়ামী লীগ। প্রায় আট দশকের ইতিহাস ধারণ করা রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ এবং তাদের উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক রয়েছে। নিষিদ্ধ করলেই রাজনীতি থেকে আওয়ামী শক্তি হঠাৎ করে বিলীন হয়ে যাবে—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। বিষয়টির সুরাহা সরকারকেই করতে হবে। আর সেটি করতে ব্যর্থ হলে আমাদের ‘সংস্কারকৃত’ রাজনৈতিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।

লেখক: সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, সাংবাদিক ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক প্রেস মিনিস্টার

spot_img