জাপানে এশিয়া কাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের ছেলে ও মেয়েদের

এএইচএফ অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে কঠিন গ্রুপে পড়েছে দুই দল; প্রথম ম্যাচেই চীন ও চাইনিজ তাইপের মুখোমুখি বাংলাদেশ

এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বয়সভিত্তিক হকি প্রতিযোগিতা এএইচএফ অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে শনিবার থেকে মাঠে নামছে বাংলাদেশের ছেলে ও মেয়েদের দল। জাপানের গিফু প্রিফেকচারের কাকামিগাহারায় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে লড়াই করে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে চায় বাংলাদেশের দুই দলই।

এশিয়ান হকি ফেডারেশনের (এএইচএফ) আয়োজনে ২৯ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত চলবে এই প্রতিযোগিতা। কাকামিগাহারার কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের আসর। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সেরা অনূর্ধ্ব-১৮ দলগুলোকে নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টকে ভবিষ্যৎ তারকা খেলোয়াড় তৈরির অন্যতম বড় মঞ্চ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশ পুরুষ দল কঠিন একটি গ্রুপে জায়গা পেয়েছে। ‘বি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও চীন। শনিবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চীন। এরপর রোববার মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের এবং মঙ্গলবার খেলবে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের মেয়েদের দলও ‘বি’ গ্রুপে পড়েছে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক জাপান, চীন ও চাইনিজ তাইপে। শনিবার চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে বাংলাদেশের মেয়েরা। এরপর রোববার স্বাগতিক জাপান এবং মঙ্গলবার চীনের মুখোমুখি হবে তারা।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ভারতের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশের ছেলেরা। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, সেই ম্যাচটি ড্র হয়েছে। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ড্র করতে পারায় দলটির আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছেলেদের ও মেয়েদের—উভয় বিভাগেই অংশ নিচ্ছে আটটি করে দল। দলগুলোকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। গ্রুপ পর্ব শেষে সেরা দলগুলো নকআউট ও শ্রেণিবিন্যাস পর্বে খেলবে। সেখান থেকেই নির্ধারিত হবে চূড়ান্ত অবস্থান।

এএইচএফ অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপকে এশিয়ার হকিতে ভবিষ্যৎ প্রতিভা গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসর হিসেবে দেখা হয়। ভারত, পাকিস্তান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রতিযোগিতাকে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ খেলোয়াড় বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ভারত অনূর্ধ্ব-১৮ দলের অধিনায়ক কেতন কুশওয়াহা এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী এবং টুর্নামেন্ট নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। ভোপালে অনুশীলন ক্যাম্প এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচগুলো দল হিসেবে আমাদের অনেক উন্নতি করতে সাহায্য করেছে। প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হবে, তবে আমরা দেশের জন্য সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছি।”

একইভাবে ভারত অনূর্ধ্ব-১৮ নারী দলের অধিনায়ক সুইটি কুজুরও প্রতিযোগিতাটির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তিনি বলেন, “পুরো দল মুখিয়ে আছে প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার জন্য। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা কঠোর অনুশীলন করেছি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচগুলো আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অভিজ্ঞতা দিয়েছে, যা এশিয়া কাপের আগে খুব কাজে এসেছে।”

বাংলাদেশের জন্য এবারের আসর শুধু ফলাফলের লড়াই নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। দেশের হকির দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ সীমিত। ফলে এই ধরনের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে।

বিশেষ করে ছেলেদের দলের সামনে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকায় প্রতিটি ম্যাচই হবে কঠিন। অন্যদিকে মেয়েদের দলকে খেলতে হবে স্বাগতিক জাপান ও শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে। তবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অংশগ্রহণের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির সুযোগ দেখছেন কোচ ও কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশে নারী হকির প্রসার এবং বয়সভিত্তিক পর্যায়ে নতুন খেলোয়াড় তৈরির যে উদ্যোগ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেওয়া হয়েছে, এই টুর্নামেন্ট সেই প্রচেষ্টারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আগামী ৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল এবং ৬ জুন হবে ফাইনাল। এশিয়ার সেরা তরুণ হকি খেলোয়াড়দের এই মিলনমেলায় বাংলাদেশের দুই দল কতটা সফল হতে পারে, এখন সেদিকেই নজর দেশের হকি সমর্থকদের।

spot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles