বিগত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিলো “মব সন্ত্রাস”। সেই সময়ে এই মব সন্ত্রাস বা সংস্কৃতি এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল যে ওই সময়কার বাংলাদেশকে এখনো অনেকেই “মবের মুল্লুক”, সরকারকে “মবের সরকার” এবং ড. ইউনুসকে “মব সম্রাট” বলে অভিহিত করছেন ।
জনগণের মনে আশা ছিলো যে ইউনুস সরকারের বিদায় নেয়ার পর নতুন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলে এই মব সন্ত্রাস অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে দেশে মব সন্ত্রাস এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দেশে এখনো প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন জায়গায় মব সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে। এই জন্য অপরাধ বিশ্লেষকরা সরকারের আন্তরিকতার অভাব ও দ্বিমুখী নীতিকে অনেকটা দায়ী করছেন। তারা বলছেন যে মব সন্ত্রাস বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মহামারী আকার ধারণ করেছিল তা বর্তমান সরকারের সত্যিকারের আন্তরিকতার অভাব এবং দ্বিমুখী নীতির কারণে এখনো অব্যাহত আছে।
এবার দেখি সরকারের নীতি নির্ধারকরা মব সন্ত্রাস নিয়ে কি বলছেন:
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন ‘মব ইজ আ রিঅ্যাকশন অব দ্য পিপল’ বা মব হচ্ছে জনগণের প্রতিক্রিয়া। ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে গত সোমবার বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন (প্রথম আলো)।
ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের যে সংজ্ঞা, সেখানে…ওয়াইডস্প্রেড, পূর্বপরিকল্পিত এ ধরনের যে কাজগুলো হয়, পরিকল্পিতভাবে যে হত্যাকাণ্ড হয়, সেগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ। ৫ আগস্ট পর্যন্ত আপনারা দায়মুক্তি দিয়েছেন। ৫ আগস্টের পরে যে মবগুলো হয়েছে, সেগুলোও একধরনের সিস্টেমেটিক ওয়েতে (পদ্ধতিগতভাবে) হয়েছে এবং ওয়াইডস্প্রেড (ব্যাপক মাত্রায়) হয়েছে। এগুলোও কি ভবিষ্যতে তদন্ত করে ট্রাইব্যুনালে বিচার করা যাবে কি না?’
এর জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মব ইজ নট সিস্টেমেটিক অর ওয়াইডস্প্রেড (মব পদ্ধতিগত বা ব্যাপক মাত্রার নয়)। মব ইজ আ রিঅ্যাকশন অব দ্য পিপল (মব জনগণের প্রতিক্রিয়া)। এবং সেটা যদি অর্ডিনারি ক্রাইমের (সাধারণ অপরাধ) মধ্যে পড়ে, সেটা অর্ডিনারি আইন অনুসারে দেখা হবে। আপনি যদি সেই বিচার করতে যান অনেক বিষয় চলে আসবে এর পেছনে। তাহলে যেকোনো স্বাধীনতাসংগ্রাম, যেকোনো গণ–অভ্যুত্থান, যেকোনো বিপ্লবকে আপনার অসম্মান করা হবে।’

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ১৫ এপ্রিল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মব বা গণপিটুনির ঘটনাগুলোকে অনেকটাই প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
ডা. জাহেদ বলেন, কোনো অবস্থাতেই গণপিটুনি বা মব জাস্টিস মেনে নেওয়া হবে না। অপরাধী যত বড়ই হোক না কেন, শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র রাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে অরাজকতা তৈরি করে এবং এটি সম্পূর্ণরূপে দণ্ডনীয় অপরাধ।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন মব সন্ত্রাস বা মব জাস্টিস নিয়ে সরকারের উল্লিখিত দুই গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারকের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য থেকেই বোঝা যায় সরকার এটা নিয়ে দ্বিমুখী নীতি নিয়ে আগাচ্ছে। তারা বলছেন এই দ্বিমুখী নীতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে মব সন্ত্রাসীরা উৎসাহ পাচ্ছে এবং মবের ঘটনার জন্ম দিচ্ছে।
যার ফলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও মব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অনেক সময় কোন শক্ত পদক্ষেপ নিতে পারছে না এবং এক্ষেত্রে এক প্রকার দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা
গত ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ এনে একটি দরবার বা আস্তানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ওই দরবারের কথিত প্রধান পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুষ্টিয়ার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ এ এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে। হামলায় আরো দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
তার দাবি, তিন বছর আগের একটি ভিডিও’র সূত্র ধরে কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে দুপুরের দিকে স্থানীয় একদল লোক একত্রিত হয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। পরে আহত অবস্থায় তিনজনকে দৌলতপুরের থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে নেওয়া হয়।
এর আগের দিন অর্থাৎ ১০ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগে মব সৃষ্টি করে আড্ডারত কয়েকজন নারী–পুরুষকে ‘সমকামী’, ‘ট্রান্সজেন্ডার’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা হয়। তার এক দিন বাদে মব সৃষ্টি করে হত্যাকাণ্ডই ঘটে কুষ্টিয়ায়।
কুষ্টিয়ার ঘটনার পর বাংলাদেশের একজন সিনিয়র সাংবাদিক শাহীন রাজা তার ফেসবুক পেজে “মব দানব এখনই বধিতে হইবে” একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন সরকারের দেড়মাস সময়ে সব থেকে আলোচিত ঘটনা, একজন পীরকে পিটিয়ে হত্যা। দেশের মানুষ যেমন যার যার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তেমনি দেশের বাইরে সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। যারা এই কাজের সাথে জড়িত তারা এটাই চেয়েছে। অথচ সরকার নীরব !
রাজা বলেন কে কি চাইলো সেটা আমার বা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এর বোঝাপড়া সরকারের। আমরা নিরাপত্তা চাই। কখন কি অজুহাতে মব দানব আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে না, এর কি কোন নিশ্চয়তা আছে। আমি আমার নিরাপত্তা চাই। সরকার যদি দিতে না পারে তাহলে তো আমাকেই বা আমাদের সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে সরকার বা সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা কেন ? এ-তো বড় ঘটনা ঘটলো অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দৃশ্যমান নয়। এই ভাঙচুর এবং পীরকে পিটিয়ে হত্যা পাঁচ, দশমিনিটের কাজ নয়। কমপক্ষে দেড় থেকে দুই ঘন্টা। এরমধ্যে কি পুলিশ আসার সময় পায়নি। বা পুলিশ আসার ক্ষেত্রে কে বাঁধা দিয়েছে। সে যত বড় শক্তিই হোক তাঁকে আমরা দেখতে চাই।
রাজা তার পোস্টের শেষে লিখেন এই নৈরাজ্য কে প্রশ্রয় দিলে আগামীতে আর আইনশৃঙ্খলা থাকবে না। বাংলাদেশের সকল প্রান্তে ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র সামন্ত প্রভুর সৃষ্টি হবে। কেউ ধর্মের নামে। কেউ আদর্শের কথা বলে। এরা শক্তি প্রয়োগের মধ্য দিয়ে যার যার এলাকায় আধিপত্য কায়েম করতে চাইবে। আমি আমরা এর বাইরের নই ! আমাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হইলে আমরা কি চেয়ে চেয়ে দেখবো ? তা হয় না বা হবে না। এর ফলে দেশ হয়ে যাবে গোষ্ঠী বিভাজিত নৈরাজ্যের রাজ্য !
বাংলাদেশে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ‘মব কালচারের দিন শেষ, দাবি আদায়ের নামে মব কালচার করা যাবে না ‘।
কিন্তু সরকারের প্রায় তিন মাস পূর্ণ হওয়ার পর এই ঘোষণার তেমন কোন প্রতিফলন দেশের মানুষ দেখছেন না। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও এই ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। মব এর ব্যাপারে বিএনপি সরকারের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী রাজনীতিকদের অনেকে।
অপরাধ বিশ্লেষকেরা বলছেন, মবের এসব ঘটনায় এটাই প্রতিফলিত হয়েছে যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রধানের চিন্তা-ভাবনা তার দলীয় নেতা-কর্মীরা ধারণ করতে পারছেন কি না, সেই প্রশ্ন থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনায় বিচার না হওয়ায় তা আবার ঘটছে। এখনি কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের সহিংসতা বাড়তে থাকবে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গভর্নর পদে আহসান এইচ মনসুরকে যখন সরানোর প্রক্রিয়া চলছিল, সে সময় তার উপদেষ্টাসহ তিন কর্মকর্তাকে ‘মব’ বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকার বাইরে বরিশালে আদালতের এজলাসে এবং সুপ্রিমকোর্টে আইনজীবীদের কক্ষে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায়ও বিএনপি সমর্থিতদের বিরুদ্ধে ‘মব’ বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের জামিন দেওয়ার কারণে বরিশালে বিচার চলাকালীন আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বিএনপিপন্থী আইনজীবী সাদিকুর রহমান লিংকনসহ কয়েকজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে। পরে লিংকনকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। সেই গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।
এই ঘটনায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো তিন থেকে আটজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেছেন বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার।
বরিশাল আদালতের পর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনেও। পরদিন দুপুর আড়াইটার দিকে সুপ্রিমকোর্টে আওয়ামীপন্থী কয়েকজন আইনজীবীর কক্ষে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। কারণ আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা বরিশালে আদালতের এজলাসে হামলার প্রতিবাদে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছিলেন। এই হামলার ঘটনায়ও বিএনপিপন্থী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। যে আইনজীবীদের কক্ষে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, তাদের মধ্যে আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস দাবি করেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ২০-২৫ জন এই হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই আলোচনায় ছিল ‘মব ভায়োলেন্স’ বা ‘দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির নানা ঘটনা। এর বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। মব তৈরি করে কখনও নিরপরাধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি যেমন হয়েছে, তেমনি মারপিট করা হয়েছে ভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের। এমনকি দলবদ্ধভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বছর গণপিটুনি বা ‘মব সন্ত্রাসের’ শিকার হয়ে প্রাণ গেছে ১৯৭ জনের। আগের বছর সংখ্যাটি ছিল ১২৮। এমন পরিস্থিতিতে গত বছরের ৩১ জুলাই তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা ও মব সন্ত্রাস অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।
মানবাধিকার কর্মী ও অপরাধ বিশ্লেষকেরা বলছেন, একেক সরকারের সময় ‘মব ভায়োলেন্স’ এর মত অপরাধ একেক ধরনের রূপ ধারণ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক শূন্যতা ও বিচারহীনতার কারণেই মব সৃষ্টি করে হামলার ঘটনা বেড়েছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন বা এমএফএস এর প্রধান নির্বাহী আইনজীবী সাইদুর রহমান বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বরিশাল আদালত, সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের কক্ষে ভাঙচুর সব ঘটনাই মবের আরেক রূপ।
লেখক ও শিক্ষক আনু মুহাম্মদ বলেন, আগের ঘটনাগুলোর বিচার হয়নি বলে আবার একই ঘটনা ঘটেছে। আগে যেসব মব সৃষ্টি করে হামলা হয়েছে, সরকারের উচিত সেসব ঘটনা তদন্ত করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা এবং ব্যবস্থা নেওয়া। বিচার না করলে বুঝতে হবে এসব ঘটনায় সরকারের সমর্থন রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই প্রবণতা বেড়ে যাওয়া নিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, অনেক ঘটনায় তারা নিষ্ক্রিয় ছিল, নমনীয় ছিল, অনেক ঘটনায় তাদের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। কোনো ক্ষেত্রে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা ছিল। ফলে মব সহিংসতা আরও ডালপালা ছড়িয়েছে। শাহবাগ ও কুষ্টিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাকে পরিকল্পিত মনে করেন তিনি। এটা ঠেকাতে না পারার জন্য সরকারকেও তিনি দায়ী করেন।
অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে কাউকে পদত্যাগে বাধ্য করা, অসম্মান করা বা শক্তি প্রদর্শনের মতো ঘটনাকে বিক্ষোভ, সংক্ষুব্ধ জনতার উচ্ছৃঙ্খল আচরণ যেভাবেই আখ্যায়িত করা হোক তা মবের সংজ্ঞার মধ্যেই পড়ে। ফলে রাজনৈতিক দলের এই সরকারকে ‘মব’ এর মতো অপরাধ সতর্কতার সাথে আইনগতভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
বরিশাল আদালতের ঘটনায় যেভাবে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেটা ওই অঙ্গনের জন্য একটি বার্তা, তাই অন্যান্য ক্ষেত্রেও এমন কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করেন হক। তিনি বলেন,”মব এর ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং প্রচলিত ফৌজদারি আইনানুযায়ী দ্রুত গতিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।”
বিচার না হওয়ায়ই নতুন ঘটনা ঘটার পথ তৈরি করে দিচ্ছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম সোহাগও। তিনি বলেন, মব সহিংসতা যারাই করুক, বিচার হতে হবে।
লেখক: সাজ্জাদ হোসেন সবুজ —সাংবাদিক, কূটনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

