দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি) বাস্তবায়নে আবারও চীনের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নদীভিত্তিক অবকাঠামো প্রকল্প নতুন করে আঞ্চলিক ভূরাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। একইসঙ্গে ভারত-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিতও দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে আরও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে। কারণ, ভারতও এই প্রকল্পে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ দেখছে।
বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেন, “অতীতের টানাপোড়েন পেছনে ফেলে দুই দেশ বাস্তবতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে এগোতে পারে।” তার এই বক্তব্যকে ঢাকা-দিল্লির ভবিষ্যৎ নদীকেন্দ্রিক আলোচনায় ভারতের আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। একইসঙ্গে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তিস্তা ইস্যুতে ঢাকার নতুন করে বেইজিংমুখী হওয়া দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-চীনের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করতে পারে।
তিস্তা ইস্যুটি নতুন করে সামনে আসে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র বৈঠকে। সেখানে দুই দেশ “সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব” আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র আমন্ত্রণে ৫ থেকে ৭ মে চীন সফর করছেন ড. খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম সরকারি চীন সফর। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সফরটি স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে তিস্তা এখন আবারও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতির কেন্দ্রীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনাটি মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় পরিকল্পিত হয়। সেই সময় এটিকে শুধু একটি নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি, জ্বালানি, পর্যটন ও পরিবেশ রক্ষার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হয়েছিল।
২০১১ সালের অমীমাংসিত চুক্তি
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে বিরোধ নতুন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘ আলোচনার পর ২০১১ সালে দুই দেশ একটি খসড়া চুক্তিতে পৌঁছায়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে সেটি আর চূড়ান্ত হয়নি।
বুধবার নয়াদিল্লিতে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশ যদি নিজেদের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে, তাহলে দিল্লি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
“অতীতের টানাপোড়েন পেছনে ফেলে দুই দেশ বাস্তবতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে এগোতে পারে। বাংলাদেশ যদি তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে, আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত,” বলেন তিনি।
যদিও তিস্তা চুক্তি নিয়ে তিনি সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে জানান, দুই দেশের ৫৪টি অভিন্ন নদী নিয়ে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা চলবে।
তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে নতুন করে তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী পরাজয় ২০১১ সালের চুক্তির পথে থাকা অন্যতম বড় রাজনৈতিক বাধা সরিয়ে দিতে পারে।
তবে সংশয় এখনো কাটেনি।
শেখ হাসিনার আমলে যেভাবে শুরু হয়েছিল তিস্তা মহাপরিকল্পনা
তিস্তা পুনরুদ্ধারের মহাপরিকল্পনাটি বাস্তব রূপ পেতে শুরু করে শেখ হাসিনার সরকারের সময়। তখন বাংলাদেশ সরকার চীনের সহায়তায় নদী ব্যবস্থাপনার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা শুরু হয় ২০১৬ সালে। বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চীনের পাওয়ার চায়না যৌথভাবে কয়েক বছর ধরে সমীক্ষা পরিচালনা করে। ২০২৩ সালে এর মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়।
মহাপরিকল্পনার আওতায় তিস্তার বাংলাদেশ অংশে একটি বহুমুখী ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১০২ কিলোমিটার নদী খনন, ২০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ১৭১ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার, নদীর দুই তীরে স্যাটেলাইট শহর, পর্যটন কেন্দ্র, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ১৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এর বড় অংশ ঋণের মাধ্যমে আসার কথা ছিল।
চীন শুরু থেকেই প্রকল্পটিতে অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখিয়ে আসছিল। তবে ভারতের কৌশলগত উদ্বেগ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে প্রকল্পটি মূল বাস্তবায়ন পর্যায়ে যেতে পারেনি।
রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটের কেন্দ্রে তিস্তা
হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে ভারতের সিকিম, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তিস্তা নদী। আন্তর্জাতিক এই নদীর উজানে ভারত একাধিক ব্যারেজ ও বাঁধ নির্মাণ করায় গত কয়েক দশকে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে বদলে গেছে।
এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে। রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধাসহ তিস্তা তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় মানুষ বছরের পর বছর ধরে খরা, বন্যা ও নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে।
শুষ্ক মৌসুমে ভারত পর্যাপ্ত পানি না ছাড়ায় নদীর বিশাল অংশ শুকিয়ে যায়। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হয়, সেচ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, নদীকেন্দ্রিক জীবিকা সংকটে পড়ে। আবার বর্ষাকালে হঠাৎ করে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দেয়। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারায়, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
“শুকনো মৌসুমে যখন আমাদের পানি দরকার, তখন ভারত পানি ছাড়ে না। আবার বর্ষাকালে একসঙ্গে এত বেশি পানি ছাড়ে যে মানুষের ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হয় পানিতে তলিয়ে যায়, না হয় নদীভাঙনের শিকার হয়,” দ্য ভয়েসকে বলেন ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’-এর সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী।
তিনি বলেন, বছরের পর বছর আলোচনা হলেও বাস্তবে তিস্তা সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের ক্ষোভও বাড়ছে।
তিস্তা ঘিরে ভারত-চীনের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা প্রকল্প শুধু নদী ব্যবস্থাপনার বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি এখন দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর সঙ্গে এই আগ্রহের সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিস্তা অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
ভারতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষক অনুসূয়া বসু রায় চৌধুরী ২০২৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, চীনের বৃহত্তর আঞ্চলিক সংযোগ পরিকল্পনার সঙ্গে তিস্তা অবকাঠামো প্রকল্পের সম্পর্ক রয়েছে।
ভারত বরাবরই বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে সতর্কতার সঙ্গে দেখে এসেছে। ২০২৪ সালে ভারত যখন নতুন করে তিস্তা প্রকল্পে আগ্রহ দেখায়, তখন বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সে বছরের মে মাসে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা ঢাকা সফর করেন। পরের মাসে শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রকাশ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় ভারতের আগ্রহের কথা জানান এবং ভারতীয় কারিগরি দল ঢাকায় পাঠানোর ঘোষণা দেন।
ভারত সফর শেষে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “তিস্তার পানির দাবিটা অনেক দিনের। তো ভারত যদি আমাদের তিস্তার প্রজেক্টটা করে দেয়, তাহলে আমাদের সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। সেটাই আমার জন্য বেশি সহজ হলো না?”
সে সময় অনেক বিশ্লেষক ধারণা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত ভারতই হয়তো প্রকল্পটির দায়িত্ব নেবে।
কিন্তু পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর ২০২৫ সালের মার্চে তার চীন সফরের সময় সরকারিভাবে জানানো হয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনই মূল অংশীদার হবে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা এবং মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বিএনপিও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। নির্বাচনের আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
আশ্বস্ত নন তিস্তাপাড়ের মানুষ
কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও তিস্তা তীরবর্তী মানুষের বড় অংশ এখনো আশ্বস্ত নন।
“এ ধরনের আলোচনা আমরা আগেও অনেকবার দেখেছি। কিন্তু প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হওয়া পর্যন্ত বা সরকার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না দেওয়া পর্যন্ত আমরা ভরসা পাচ্ছি না,” বলেন নজরুল ইসলাম হক্কানী।
তার মতে, শুধু অভ্যন্তরীণ নদী ব্যবস্থাপনা করলেই হবে না, পানির ন্যায্য হিস্যাও নিশ্চিত করতে হবে।
“মহাপরিকল্পনাটা মূলত অভ্যন্তরীণ নদী ব্যবস্থাপনা। কিন্তু এর সঙ্গে পানির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদী হিসেবে তিস্তার যে হিস্যা বাংলাদেশের পাওয়ার কথা, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে,” বলেন তিনি।
চীন সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও বলেন, বাংলাদেশ আর বসে থাকতে পারে না।
“তাদের মাইন্ড রিড করার কাজ আমার না। তবে প্রত্যাশা থাকবে, যাতে আগের চুক্তিটা বর্তমান পরিস্থিতিতে বিবেচনা করা যায়। কিন্তু সে জন্য তো বসে থাকা চলবে না, আমাদের কাজ আমাদের করতে হবে,” বলেন তিনি।
উত্তরাঞ্চলের বঞ্চনার প্রতীক হয়ে উঠেছে তিস্তা
অনেকের কাছে তিস্তা এখন শুধু একটি নদীর নাম নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অবহেলা ও অসম উন্নয়নের প্রতীক।
তিস্তা তীরবর্তী মানুষ বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ করে আসছেন, সরকারগুলো প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব কম। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, কুটনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টাই প্রকল্পটিকে দীর্ঘদিন আটকে রেখেছে।
শেখ হাসিনা সরকারের সময় নেওয়া তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে সমর্থনকারীরা মনে করেন, এটি ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাগুলোর একটি। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে প্রকল্পটির গতি কমে যায়, যখন উত্তরাঞ্চল ইতোমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, বাস্তুচ্যুতি ও কৃষি ক্ষতির বাড়তি চাপ মোকাবিলা করছিল।
বর্তমান সরকার আবারও চীনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলেও এখনো অর্থায়ন, কূটনৈতিক সমীকরণ, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং ভারত শেষ পর্যন্ত সহযোগিতা করবে নাকি আপত্তি তুলবে— এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— তিস্তা সংকট আর দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ নেই।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বন্যা, খরা ও নদীভাঙন বাড়তে থাকায় তিস্তা এখন শুধু কূটনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের পানি নিরাপত্তা, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

