জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি সরবরাহ, সংগ্রহ ও স্বল্পমেয়াদি কৌশল গ্রহণ ও নতুন গ্যাস কূপ অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬ ) ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবেলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) সহায়তায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এ সভার আয়োজন করে। সভায় বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূচনা বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানি করে, যার ৯০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও ডলার সংকটে দেশের জ্বালানি খাত নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত কমে যাচ্ছে। দ্রুত আমদানি করা না হলে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বিপর্যয় ঘটতে পারে।
জ্বালানি সংকটে পোশাক খাতে উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশ কমেছে জানিয়ে তাসকীন আহমেদ বলেন, প্রতি ব্যাগ সিমেন্ট উৎপাদন ব্যয় ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কনটেইনারে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে চার হাজার ডলার পর্যন্ত বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ, সংগ্রহ ও স্বল্পমেয়াদি কৌশল গ্রহণের পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমাতে বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদারের পরামর্শ দেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প সচিব ওবায়দুর রহমান বলেন, আগামী জুন পর্যন্ত কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য দেশে ছয় লাখ টন সার মজুত রাখা প্রয়োজন। গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হলে ঘাটতি থাকতে পারে চার লাখ টন।
এফবিসিসিআইর প্রশাসক আব্দুর রহিম খান বলেন, জ্বালানির সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদ্যমান শুল্ক হার প্রত্যাহার ও নতুন গ্যাস কূপ অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানো ও জ্বালানি আমদানি উৎসের বহুমুখীকরণে জোর দিতে হবে।
বিইআরসির সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফশোর ও অনশোরে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর বিকল্প নেই।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো দরকার।
বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২৭ থেকে ৩০ শতাংশ শুল্ক রয়েছে, যা এ খাতের অগ্রগতিতে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা।
বিজিএমইএর সহসভাপতি বলেন, ইউরোপের দেশগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ বেশি ব্যবহারের কারণে বিদ্যমান জ্বালানি সংকটে দেশগুলোর ভোগান্তি তুলনামূলক কম।

