ঢাকা/নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে শেখ হাসিনা এখনও এক অপরিহার্য ও দূরদর্শী নেতা। রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর বুদ্ধিমত্তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক প্রজ্ঞার সুফল বাংলাদেশ এখনও ভোগ করছে এবং ভবিষ্যতেও বর্তমান সরকারকে তাঁর রেখে যাওয়া কাঠামোর ওপরই নির্ভর করতে হবে।
সম্প্রতি প্রখ্যাত সাংবাদিক ফজলুল বারীর উপস্থাপনায় একটি বিশেষ ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে যুক্ত হয়ে ভারতের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ‘প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া’র সাবেক সভাপতি গৌতম লাহিড়ী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনাই শেষ কথা আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং দলটির নেতৃত্ব নিয়ে নানা মহলের জল্পনা-কল্পনা নাকচ করে দিয়ে গৌতম লাহিড়ী স্পষ্ট জানান, আওয়ামী লীগ মানেই শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার দল। তিনি তাঁর দলকে কীভাবে পরিচালনা করবেন, সেই সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। অন্য কেউ, বিএনপি বা তৃতীয় কোনো পক্ষ বলে দেবে আর সে অনুযায়ী হবে, এটা হওয়া সম্ভব নয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা তাঁর দলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার রাখেন।
অসাধারণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা শেখ হাসিনার কূটনৈতিক সাফল্য ও অসামান্য দূরদর্শিতার উদাহরণ দিতে গিয়ে এই প্রবীণ সাংবাদিক গঙ্গা চুক্তির প্রসঙ্গ টানেন। তিনি শেখ হাসিনাকে একজন বিরল প্রজ্ঞাবান নেতা আখ্যা দিয়ে বলেন, “তাঁর (শেখ হাসিনার) মতো বুদ্ধিমতী নেত্রী খুবই কম আছেন, যারা ভবিষ্যৎ বোঝেন। তিনি গঙ্গা চুক্তিতে এমন বিধান রেখে গিয়েছিলেন যে, যদি কোনো কারণে মতভেদ হয় বা চুক্তি নবায়ন না-ও হয়, তাহলেও পুরনো চুক্তিটিই বলবৎ থাকবে।” এর ফলে বাংলাদেশ পানি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে না। লাহিড়ী মন্তব্য করেন, বর্তমান সরকারকেও শেখ হাসিনার করে যাওয়া এই চুক্তির ওপরই নির্ভর করে চলতে হবে।
শেখ হাসিনার তৈরি করা পাইপলাইনেই ভরসা বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি ও অর্থনৈতিক চাহিদার কথা উল্লেখ করে গৌতম লাহিড়ী জানান, বর্তমান সরকারকেও শেখ হাসিনার গড়ে দেওয়া কাঠামোর ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “বাংলাদেশের এখন ডিজেল প্রয়োজন। এই ডিজেল কে দেবে? পাকিস্তান নাকি চীন? পাইপলাইন তো শেখ হাসিনাই তৈরি করে গেছেন। সেই পাইপলাইন দিয়েই তো জ্বালানি যাবে।” অর্থাৎ, শেখ হাসিনার দূরদর্শী উন্নয়ন প্রকল্পগুলোই এখন দেশের সংকট মোকাবিলার প্রধান ভরসা।
চাপের মুখে শেখ হাসিনাকে ফেরাবে না ভারত
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে সব জল্পনা ও গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন গৌতম লাহিড়ী। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, “শেখ হাসিনাকে ভারতের ফেরত দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। চট করে কাল-পরশুর মধ্যে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, বিষয়টা এমনও নয়।” ভারতের কাছে শেখ হাসিনা অত্যন্ত সম্মানজনক ও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন এবং কোনো চাপের মুখে ভারত তাঁকে ফেরত দেবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
সব মিলিয়ে, প্রবীণ সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ীর বিশ্লেষণে এটিই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যে, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক দূরদর্শিতার বিকল্প নেই। বাংলাদেশের রাজনীতি ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে শেখ হাসিনার প্রভাব ও অবদান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

