স্থানীয় আলেমদের আপত্তির মুখে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দুই নারী দলের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থগিত করেছেন আয়োজকেরা।
সোমবার বিকেলে দিরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে স্থানীয় স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের নারী ফুটবলারদের মধ্যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ও কোচ রাকিব আহমেদ জানান, ২০১৯ সাল থেকে তারা এলাকার কিশোরীদের নিয়ে ফুটবল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ক্লাবের মেয়েরা জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও নিয়মিত অংশ নেয়।
তিনি বলেন, প্রীতি ম্যাচটি আয়োজনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল এবং পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তবে স্থানীয় আলেমদের আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি স্থগিত করতে হয়েছে।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব সরকার জানান, পাঁচ-ছয় দিন আগে উপজেলা স্টেডিয়ামে কিশোরীদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি নিয়েছিলেন আয়োজকেরা।
তবে ম্যাচের আগের রাতে মাইকে ‘নারীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ’ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এরপর স্থানীয় একদল আলেম ইউএনওর সঙ্গে দেখা করে এ ধরনের আয়োজন এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সঞ্জীব সরকার বলেন, স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব অনেক বছর ধরে মেয়েদের ফুটবল নিয়ে কাজ করলেও সংগঠনটি নিবন্ধিত নয়।
আপত্তি তোলা ব্যক্তি ও আয়োজকেরা স্থানীয় হওয়ায় উভয় পক্ষকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান ইউএনও। পরে আয়োজকেরা ম্যাচটি স্থগিতের ঘোষণা দেন।
ম্যাচ আয়োজনে আপত্তি জানানো আলেমদের নেতৃত্ব দেন মাওলানা শরিফ উদ্দিন। সাংবাদিকদের কাছে তিনি নিজেকে ‘দিরাইয়ে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন।
শরিফ উদ্দিন বলেন, প্রথমে তারা কিশোরীদের ফুটবল খেলার কথা শুনেছিলেন। পরে মাইকে নারীদের ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের ঘোষণা শুনতে পান।
তার দাবি, দিরাইয়ে এর আগে নারীদের ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। মাঠে নারীদের নিয়ে ‘নাচ ও অশ্লীলতা’ হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা ম্যাচটি আয়োজনে আপত্তি জানিয়েছেন।
তবে তারা খেলাধুলার বিরোধিতা করছেন না বলেও দাবি করেন শরিফ উদ্দিন।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, আয়োজকেরা উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছিলেন এবং নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী পুলিশ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিয়েছিল।
পরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আয়োজকেরাই ম্যাচটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান ওসি। এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও তিনি জানান।

মন্তব্য