মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Columbus |
| Columbus
দ্য ভয়েস নিউজ
কূটনীতি, রাজনীতি ও নীতি — কাছ থেকে
সর্বশেষ

আমার সন্তান কোথায়?

মানবাধিকার | ২ দিন আগে

এনবিআরের আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার দণ্ড মওকুফ

- ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

ঢাকা — জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভাগ করার অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়ে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ করেছে সরকার।

রোববার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ পৃথক আদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের এসব কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করে। এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একই আন্দোলনের ঘটনায় শাস্তি পাওয়া আরও চার কর্মকর্তার দণ্ডও শিগগির মওকুফ হতে পারে।

গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে শাস্তি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন এনবিআরের কর্মকর্তারা। শাস্তির আশঙ্কায় রাজস্ব আদায়ের কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কার কথা জানান।

সে সময় অতীত ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি শাস্তি মওকুফের আশ্বাস দেন।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির কাছে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তাদের শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে। আন্দোলনে ‘সংগঠকের ভূমিকা’ পালনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁদের মূল বেতন দুই ধাপ বা তার বেশি কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এনবিআর ভাগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার এনবিআরকে ভাগ করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের জন্য অধ্যাদেশ জারি করে।

এর প্রতিবাদে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন। কলম বিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।

আন্দোলনের মুখে ওই বছরের ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে। সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এনবিআর আগের কাঠামোতেই কার্যক্রম চালাবে।

এরপর তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা তাঁকে এনবিআর কার্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

দাবি আদায়ে ২৮ জুন থেকে পূর্ণ কর্মবিরতি শুরু করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার এনবিআরের সেবাকে অত্যাবশ্যকীয় ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়।

পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে।

এরপর আন্দোলনের সামনের সারির নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তথ্য অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

নতুন সরকার গঠনের আগেই কয়েকজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। অন্য কয়েকজনকে দেওয়া হয় লঘুদণ্ড।

আন্দোলনকারীদের নেতারা বলছেন, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ২৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াকে তাঁরা আন্দোলনের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এনবিআরের তিন সদস্য ও একজন কর কমিশনারকেও সরকার চাকরিতে পুনর্বহাল করবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

মন্তব্য

Scroll to Top