চাঁদাবাজির মামলায় নেত্রকোনার জামায়াত নেতা কারাগারে

ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, অপহরণ, ছিনতাই ও হত্যার হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে স্থানীয় জামায়াত নেতাকে।

নেত্রকোনা, ১৭ জুন — ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, অপহরণ, ছিনতাই এবং হত্যার হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নেত্রকোনার এক জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আসামি নজরুল ইসলাম (৩৬) নেত্রকোনা সদর উপজেলার বাংলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক। মঙ্গলবার তিনি নেত্রকোনা সদর আমলী আদালতে হাজির হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

নজরুল ইসলাম জেলা সদরের কয়ড়া গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম প্রদীপ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত মামলার আসামি নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রুবেল রানা (৩৯)। আদালতে দেওয়া অভিযোগে তিনি দাবি করেন, নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।

রুবেল রানা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় জুতার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি বর্তমানে নেত্রকোনায় ‘মেসার্স সন্ধি ট্রেডার্স’ নামে বালু, পাথর ও কয়লার ব্যবসা করছেন।

অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রুবেল রানা তার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ও গাড়িচালককে সঙ্গে নিয়ে জেলা শহরের অজহর রোডে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় একদল ব্যক্তি তার গাড়ির গতিরোধ করে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পরে তাকে জোরপূর্বক মোক্তারপাড়া মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

রুবেল রানা অভিযোগ করেন, তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার পকেটে থাকা ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, যাওয়ার সময়ও তারা বাকি টাকা পরিশোধ না করলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার হুমকি দেন।

বাদীর দাবি, ঘটনার পরদিন নজরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে তার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে আবারও হুমকি দেন। এছাড়া ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার কিছু অংশ ধারণ হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মামলায় নজরুল ইসলামের পাশাপাশি একই এলাকার আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

জামায়াতে পদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত

বাংলা ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, নজরুল ইসলাম বর্তমানে দলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আজ আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তবে মামলার বিস্তারিত বিষয় আমি জানি না। শুনেছি তাদের মধ্যে পারিবারিক কিছু বিরোধ ছিল।”

এদিকে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নজরুল ইসলাম বা তার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

spot_img