বহুল প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ফুটবল যাকে বলা হয় ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ সেই বিশ্ব ফুটবলের মহারণ অর্থাৎ সবচেয়ে বড় আসরের পর্দা উঠছে আজ বৃহস্পতিবার। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে এই দিন বিকেলে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্ধোধন করা হবে ফুটবল বিশ্বকাপের।
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই শুধু মাঠের সবুজ গালিচার লড়াই নয়, মাঠের বাইরের সুরের মূর্ছনা আর গ্ল্যামারের ছটাও সমান আকর্ষণীয়। সেই দিকে নজর রেখেই মূলত সাজানো হয়েছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলোর।
অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিখ্যাত ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মার্কো বালিচের তত্ত্বাবধানে তিনটি দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ফুটবলের মেলবন্ধনে এই অনুষ্ঠানগুলো সাজানো হয়েছে। প্রতিটি অনুষ্ঠানই নিজ নিজ দেশের ম্যাচের ঠিক ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি ভিন্ন দেশে তিনটি জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে যার প্রথমটি হতে চলেছে মেক্সিকোর এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বিকেলে। অপর দুই আয়োজক দেশ কানাডা এবং যুক্তরাস্ট্রে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে শুক্রবার যাতে ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করবেন সংস্কৃতির এক দারুণ মেলবন্ধন ও বৈশ্বিক তারকাদের চোখ ধাঁধানো পরিবেশনা।
বিশ্বকাপের এই উদ্বোধনী ত্রয়ীর সূচনা হচ্ছে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে। বিশ্বখ্যাত ল্যাটিন পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস শিল্পী বার্না বয় কর্তৃক যৌথভাবে এবারের আসরের অফিশিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ পরিবেশনের মাধ্যমে এর সূচনা হবে। মেক্সিকোর ঐতিহ্য ও আধুনিক ল্যাটিন সুরের মিশেলে সাজানো এই অনুষ্ঠানে জে বালভিন, আলেজান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় শিল্পী টাইলা এবং পপ ব্যান্ড মানার মতো জনপ্রিয় তারকারাও পারফর্ম করবেন।
আগামীকাল শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে কানাডার টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় উদ্বোধনী আয়োজন। কানাডিয়ান সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরতে এই মঞ্চে পারফর্ম করবেন মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট এবং আলিসিয়া কারার মতো বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পীরা। ভারতের “ডান্সিং কুইন” খ্যাত নোরা ফাতেহিও এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতাবেন বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠান শেষে কানাডা তাদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম হোম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে।
একই দিন বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে বসবে উদ্বোধনী ত্রয়ীর আরেক আসর। হলিউড ঘরানার এই চোখ ধাঁধানো আয়োজনে মঞ্চ মাতাবেন ক্যাটি পেরি, ব্ল্যাকপিংক ব্যান্ডের লিসা, ফিউচার এবং অ্যানিত্তার মতো জনপ্রিয় বিশ্ব তারকারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ের।
বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত এই মেগা আয়োজন সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকরা ফক্স স্পোর্টস, টেলেমুন্ডো এবং টুবি অ্যাপের মাধ্যমে বিনামূল্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচগুলো দেখতে পাবেন। কানাডায় সিটিভি ও টিএসএন এবং মেক্সিকোতে টেলেভিসা ও টিভি আজতেকা এই অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে বিবিসি এবং আইটিভিতে খেলা দেখা যাবে। স্টেডিয়ামগুলোতে প্রায় দুই লাখ দর্শকের উপস্থিতির পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ টেলিভিশনের পর্দায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই ফুটবল উৎসবের সূচনা প্রত্যক্ষ করবেন।
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে
সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা চলছে। প্রতিটি বিশ্বকাপের মতো, এবার দেশের অধিকাংশ মানুষ ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা এই দুই শিবিরে ভাগ হয়ে গেছে। পাড়া-মহল্লায় পতাকা ওড়ানো থেকে শুরু করে কোন দল সেরা—তা নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। অনেকেই রীতিমতো পার্টির আয়োজন করে খেলা দেখার পরিকল্পনা করছেন, খেলা দেখার সময় কী কী খাবেন ভাবছেন। গভীর রাতে কিংবা ভোরে যেসব ম্যাচ হবে সেগুলো দেখার প্রস্তুতি কেমন হবে, তার চিন্তা করছেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সবগুলো খেলা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। পাশাপাশি টি-স্পোর্টস ও সময় টিভিও সরাসরি প্রচার করবে সবগুলো খেলা।
১১ জুন বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপের লড়াই। আর ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৩৯ দিনের এই আসর।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখন উত্তর আমেরিকায়। নতুন ফরম্যাট, নতুন দল এবং নতুন রেকর্ডের সম্ভাবনায় ভরপুর এই বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা।
এক মাসের বেশি সময়জুড়ে চলা এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রদর্শন করতে প্রস্তুত। নতুন ফরম্যাট, বাড়তি দল এবং জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তিরা। পাশাপাশি কাতার ও উজবেকিস্তানের মতো উদীয়মান দলগুলোর উপস্থিতিও বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।
তিন আয়োজক দেশ
এবারের আসরটি শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্যই নয়, বরং বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী ঘটনার কারণেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
আয়োজক দেশ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এবার তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা একসঙ্গে এই বিশাল আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে। এর আগে বিশ্বকাপ এক বা দুই দেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলেও তিন দেশের যৌথ আয়োজনে এটিই প্রথম বিশ্বকাপ।
রেকর্ড ৪৮ দেশ অংশ নিচ্ছে
বিশ্বকাপের এই ২৩তম আসরটি ১১ই জুন থেকে ১৯শে জুলাই পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৬ সালের ট্রফির জন্য রেকর্ড সংখ্যক ৪৮টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যা চার বছর আগে কাতারে অংশগ্রহণকারী দলের চেয়ে ১৬টি বেশি। এর ফলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে এবং ম্যাচসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১০৪-এ। ফলে বিশ্বকাপের সময়কালও বাড়ানো হয়েছে এবং পুরো টুর্নামেন্ট প্রায় ৩৯ দিন ধরে চলবে।
৪৮ দলের ১,২৪৮ জন খেলোয়াড় যাচ্ছে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রমাণ করতে। যার মধ্যে ৩৫৭ জনের রয়েছে অন্তত একটি বিশ্বকাপ খেলার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা। আর প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের ময়দানে নিজেদের পরীক্ষা দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ৮৯১ জন।
কোন গ্রুপে কারা খেলবে
গ্রুপ ‘এ’: মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র
গ্রুপ ‘বি’ : কানাডা, বসনিয়া, কাতার ও সুইজারল্যান্ড
গ্রুপ ‘সি’ : ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড
গ্রুপ ‘ডি’ : যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক
গ্রুপ ‘ই’ : জার্মানি, কুরাসাও, আইভরিকোস্ট ও ইকুয়েডর
গ্রুপ ‘এফ’ : নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়া
গ্রুপ ‘জি’ : বেলজিয়াম, মিসর, ইরান ও নিউজিল্যান্ড
গ্রুপ ‘এইচ’ : স্পেন, কেপভার্দে, সৌদি আরব ও উরুগুয়ে
গ্রুপ ‘আই’ : ফ্রান্স, সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ে
গ্রুপ ‘জে’ : আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান
গ্রুপ ‘কে’ : পর্তুগাল, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া
গ্রুপ ‘এল’ : ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামা
১১ জুন বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপের লড়াই। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা এবং বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী দিন থেকে ২৭শে জুন, শনিবার পর্যন্ত ১৭ দিনে মোট ৭২টি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।এরপর অনুষ্ঠিত হবে ৩২ দলের পর্ব (২৮শে জুন-৩রা জুলাই), তারপরে ১৬ দলের পর্ব (৪ঠা-৭ই জুলাই), কোয়ার্টার-ফাইনাল (৯ই-১১ই জুলাই), সেমি-ফাইনাল (১৪ই-১৫ই জুলাই) এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ (১৮ই জুলাই)।
প্রায় ছয় সপ্তাহব্যাপী এই আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
উদ্বোধনী আয়োজনে বাংলাদেশী সংগীতশিল্পী সঞ্জয়
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিশিয়াল অ্যালবামে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয়। শুধু অ্যালবামেই নয়, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনে পারফর্ম করার তালিকাতেও আছেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো- এই তিন দেশ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা পারফর্ম করবেন। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন সঞ্জয়। তিনি পারফর্ম করবেন কেটি পেরি এবং ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসার মতো তারকাদের সঙ্গেও।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সঞ্জয় নিজেই এই খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের কাজ তুলে ধরা। সেটি এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
সঞ্জয় লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেতে বেড়ে ওঠার সময় থেকেই বহুসংস্কৃতির সংগীত তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। সেই পথ ধরেই আজ ফিফা বিশ্বকাপের মতো বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া তার জন্য বড় অর্জন।
তিনি আরও জানান, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিশিয়াল সাউন্ডট্র্যাকে তার গানটির নাম ‘সির সির’। এই প্রকল্পে তার সঙ্গে আরও আছেন নোরা ফাতেহি ও ভেজড্রিমের মতো আন্তর্জাতিক শিল্পীরা।
একই অ্যালবামে বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড ‘দ্য রোলিং স্টোনস’, পপ তারকা ‘শাকিরা’, রেগেটন কিংবদন্তি ‘ড্যাডি ইয়াঙ্কি’ এবং আফ্রোবিটস তারকা ‘বার্না বয়’ ও ‘রেমা’-র মতো বৈশ্বিক মিউজিক আইকনদের গানও স্থান পেয়েছে।
জন্ম শ্রীমঙ্গলে হলেও সঞ্জয়ের শৈশব কেটেছে চট্টগ্রামে। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানেই সংগীতজগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। পরিবারেও সংগীতের পরিবেশ ছিলো। মা গান করতেন এবং নানি ছিলেন সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত।
কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
এই বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো তিনটি দেশের ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে: যুক্তরাষ্ট্রে ১১টি, মেক্সিকোতে তিনটি এবং কানাডায় দুটি। যেহেতু ফিফা স্টেডিয়ামের জন্য আগে থেকে বিদ্যমান বাণিজ্যিক নাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ভেন্যুগুলোর নামকরণ আয়োজক শহরের নামে করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানকার আটলান্টা, বোস্টন, ডালাস, হিউস্টন, কানসাস সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি, নিউ ইয়র্ক বা নিউ জার্সি, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো বা সান্তা ক্লারা এবং সিয়াটলে খেলা হবে।
মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য খেলাগুলো হবে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম, গুয়াদালাহারা এবং মন্টেরেতেও।কানাডায় দুটি স্থানে খেলা হবে, টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভারে।
বিশ্বকাপে যাদের অভিষেক হবে
চারটি দেশ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছে।
গ্রুপ ‘ই’-তে জার্মানি, আইভরি কোস্ট এবং ইকুয়েডরের মুখোমুখি হওয়ার মাধ্যমে ছোট্ট ক্যারিবিয়ান দ্বীপ কুরাসাও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সর্বকনিষ্ঠ দেশ (১,৫০,০০০ বাসিন্দা এবং ৪৪৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা) হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, কুরাসাও এবং আইসল্যান্ডের পর কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জনকারী তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের ১০টি দ্বীপের একটি দ্বীপপুঞ্জ, যার জনসংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজারেরও কম। গ্রুপ এইচ-এ তারা স্পেন, সৌদি আরব এবং উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে।
এশিয়া থেকে দুটি নতুন দেশ রয়েছে: উজবেকিস্তান ও জর্ডান
২০১১ সালের এশিয়ান কাপের সেমিফাইনালিস্ট উজবেকিস্তান এই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। বিশ্বকাপজয়ী ইতালীয় দলের অধিনায়ক ফাবিও ক্যানাভারো যিনি এই দলের টেকনিকাল ডাইরেক্টর।
ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভ এবং রোমার প্রাক্তন স্ট্রাইকার এলদর শোমুরোদভের মতো খেলোয়াড় রয়েছেন উজবেকিস্তান দলে এবং তারা লড়বে পর্তুগাল, কলম্বিয়া ও ডিআর কঙ্গোকে নিয়ে গড়া গ্রুপে।
জর্ডান এশীয় বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে ১০ ম্যাচে চারটি জয় ও চারটি ড্র নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পেছনে থেকে শেষ করেছে।বিশ্বে তাদের অবস্থান ৬৪তম এবং তাদের অগ্রগতি ধরে রেখেছে। তারা ২০২৩ এশিয়ান কাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল, যেখানে স্বাগতিক দেশ কাতারের কাছে পরাজিত হয়। গ্রুপ জে-তে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া এবং অস্ট্রিয়া।
এই বিশ্বকাপে চারটি করে দল নিয়ে ১২টি গ্রুপের একটি নতুন ফরম্যাট চালু হবে। ১২টি গ্রুপের প্রতিটির শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দল ৩২ দলের রাউন্ড থেকে শুরু হওয়া বর্ধিত নকআউট পর্বে উন্নীত হবে।
ক্ষুদ্র কুরাসাও’র রেকর্ড
এবারের বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়ে নতুন এক রেকর্ড গড়েছে কুরাসাও। মাত্র প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার জনসংখ্যার এই ক্যারিবীয় দেশটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের অনেক শহরের চেয়েও ছোট এই দেশটি এখন বিশ্বের সেরা ফুটবল শক্তিগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাবে। তাদের এই সাফল্য ছোট দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু আরেকটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়; এটি হতে যাচ্ছে নতুন ইতিহাস, নতুন রেকর্ড এবং নতুন স্বপ্নের এক মহোৎসব। বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলোর পাশাপাশি নতুন ও উদীয়মান দলগুলোর উপস্থিতি এবারের আসরকে আরও বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় করে তুলবে। ফুটবলপ্রেমীরা তাই আশা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে তারা উপভোগ করতে পারবেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় এক আসর।
খেলার সময়সূচি
যেহেতু ম্যাচগুলো চারটি ভিন্ন টাইম জোনে এবং ৪,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে অবস্থিত ভেন্যুগুলোতে খেলা হবে, তাই মোট ১৩টি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ম্যাচ শুরু হবে।
আমেরিকাই হবে সেই মহাদেশ, যারা সবচেয়ে সহজে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবে, কারণ সব ম্যাচ নিজ নিজ ভেন্যুতে দুপুর ১টার আনুষ্ঠানিক বাঁশি বাজার পর থেকে মধ্যরাতে খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
কিন্তু আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং ব্রাজিলের বেশিরভাগ অংশের ক্ষেত্রে, যদি তারা দিনের শেষ ম্যাচগুলো দেখতে চায়, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের ভোর চারটার পরেও জেগে থাকতে হবে।
অন্যান্য মহাদেশের ক্ষেত্রে সময় ভিন্ন হবে। ইউরোপে বেশিরভাগ ম্যাচ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন ভোর ৫টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়ায় এগুলো মূলত ভোরবেলা দেখানো হবে।
প্রাইজমানি: ইতিহাসের সর্বোচ্চ
২০২৩-২০২৬ চক্রে ফিফার আয় ছোঁবে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার। স্বাভাবিকভাবেই এর বড় অংশ আসছে বিশ্বকাপ থেকে। আর তাই দলগুলোর জন্য পারফরম্যান্সভিত্তিক প্রাইজমানি ৫০ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের প্রত্যেকে প্রস্তুতি খরচ বাবদ পাবে ১৫ লাখ ডলার। এমনকি কোনো ম্যাচ না জিতে বিদায় নিলেও প্রতিটি দেশের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার নিশ্চিত! মেটলাইফের মঞ্চে যারা সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে, সেই চ্যাম্পিয়ন দল বাড়ি ফিরবে রেকর্ড ৫ কোটি ডলার নিয়ে। রানার্সআপ পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এ ছাড়া তৃতীয়, চতুর্থ ও কোয়ার্টার ফাইনালিস্টরা পাবে যথাক্রমে ২ কোটি ৯০ লাখ, ২ কোটি ৭০ লাখ এবং ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে। নতুন চালু হওয়া শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পাবে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার আর গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর পকেটে যাবে ৯০ লাখ ডলার।
টিকিট ও সম্প্রচার: রেকর্ড দাম
টিকিটের দামও এবার আকাশছোঁয়া। ডাইনামিক প্রাইসিং মডেলে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম শুরু ৭০০ ডলার থেকে। আর ফাইনালের ক্যাটাগরি-১ টিকিটের দাম অফিশিয়াল চ্যানেলেই ছাড়িয়েছে ১০ হাজার ডলার। আয়োজক শহরগুলোয় হোটেলের ভাড়া গড়ে ৯০ শতাংশ বেড়েছে—রাতপ্রতি গড় ভাড়া ২২৭ থেকে লাফ দিয়ে উঠেছে ৪৮০ ডলারে।
সম্প্রচার অধিকার ও স্পনসরশিপ থেকে ফিফার প্রত্যাশিত আয় ১ হাজার ৯০ কোটি ডলার। শুধু মিডিয়া রাইটস থেকেই আসবে ৪২০ কোটি ডলার, গ্লোবাল স্পনসর থেকে আরও ২৮০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজি ও স্প্যানিশ সম্প্রচার অধিকার পেয়েছে যথাক্রমে ফক্স ও টেলেমুন্ডো। ১০৪ ম্যাচের এই ফরম্যাট সম্প্রচারকারীদের জন্য বিজ্ঞাপনের জায়গাও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই আসরকে “পৃথিবী কখনও দেখেনি এমন সর্বশ্রেষ্ঠ প্রদর্শনী” বলে অভিহিত করেছেন।
তবে ইনফান্তিনোর এই আশাবাদকে চ্যালেঞ্জ করেছে নানা সংশয়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই টিকিটের মূল্য, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। টিকিটের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। ফিফা ও ইনফান্তিনা এ নিয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন|
২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য ছিল প্রায় ১,৬০০ ডলার। অথচ ২০২৬ সালে ফিফার বিক্রি করা সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য ৩২,৯৭০ ডলার| ১০৪টি ম্যাচজুড়ে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেখা গেছে| ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও অনেক ম্যাচের টিকিট এখনও পুনর্বিক্রয় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
এমনকি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই মূল্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচের টিকিটের মূল্য ১,০০০ ডলার শুনে তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, আমিও এত টাকা দিযয়ে টিকিট কিনতাম না।”
সবচেয়ে বেশি মুসলিম দেশ
২৩তম ফিফা বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ১২টি মুসলিম দেশ অংশ নিচ্ছে। এশিয়া থেকে খেলবে সউদী আরব, কাতার, জর্ডান, ইরান, ইরাক ও উজবেকিস্তান। আফ্রিকা মহাদেশের আলজেরিয়া, মরক্কো, তিউনিসিয়া, মিশর ও সেনেগাল এবং ইউরোপের তুরস্ক ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা খেলছে বিশ্বকাপে।
বয়স্ক খেলোয়াড়ের সর্বকালীন রেকর্ড
এবারের বিশ্বকাপে চল্লিশ বা চল্লিশোর্ধ খেলোয়াড়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে রেকর্ড আটজন। তারা হলেন ক্রেগ গর্ডন, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, গিয়ের্মো ওচোয়া, লুকা মদ্রিচ, এডিন জেকো, ম্যানুয়াল নয়্যার, জোসিমার দিয়াজ ও ফার্নান্দো মুসলেরা। মজার বিষয়, ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর পর আগের সব আসর মিলিয়ে ৪০ বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড়ের সংখ্যাই ছিল মাত্র ৮।
সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়
বিশ্বকাপ শুরুর দিনে অর্থাৎ ১১ জুন মেক্সিকোর অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরার বয়স হবে ১৭ বছর ২৪০ দিন । ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে সর্বোকনিষ্ঠ খেলোয়াড় তিনি ।এছাড়া আসরে ২২ জন ফুটবলার আছে বিভিন্ন স্কোয়াডে, যাদের বয়স ২০-এর নীচে।
ঝুঁকিতে মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড
বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ১৬টি গোলের মালিক জার্মানির সাবেক ফরোয়ার্ড মিরোস্লাভ ক্লোসা। ২০০২ থেকে টানা বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ২৪ ম্যাচ খেলেছেন ক্লোসা। তার পরেই রয়েছে ব্রাজিলের রোনাল্ডো নাজারিও (১৫) আর জার্ড মুলার (১৪)। তারা কেউ খেলায় নেই। বর্তমানে খেলছেন এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে লিওনেল মেসির গোলের সংখ্যা ১৩টি আর কিলিয়ান এমবাপ্পের ১২টি। ব্রাজিলের কালো-মানিক পেলেও ১৯৫৮ থেকে চারটি বিশ্বকাপে খেলে ১২ গোল করেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি ৪টি আর এমবাপ্পে ৫টি গোল করলেই সৃষ্টি হবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। ৩৯ বছরের মেসি রেকর্ড ষষ্ঠ আর নিজের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলবেন। অন্যদিকে ২৭ বছরের এমবাপ্পে খেলবেন নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ। এবার না পারলেও ২০৩০ সালে এমবাপ্পে হয়ত পাবেন ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ। যা মেসি পাবেন না। মেসির সমান ১৩টি গোল আছে ফ্রান্সের জ্যাঁ ফঁন্তেইনের। তবে ১৯৫৮ সালে একটিমাত্র বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচ খেলেই ১৩ গোল করেছেন। যা এক বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। রেকর্ডটি এখনও অক্ষুন্ন।
ইতালি-ব্রাজিলের রেকর্ড ভাগ বসাবার সুযোগ
এখন পর্যন্ত টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব আছে ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) আর ব্রাজিলের (১৯৫৮, ১৯৬২)। ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে ইতালি আর ব্রাজিলের কৃতিত্বের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা।
পোজ্জো ছাড়া দুটি বিশ্বকাপ নেই কোন কোচের
১৯৩৪ আর ১৯৩৮ সালে ইতালিকে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন ভিত্তোরিও পোজ্জো। আর কেউ কোচ হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ জেতেন নি। আর্জেন্টিনার লিওনেল স্কালোনি আর ফ্রান্সের দিঁদিয়ের দেঁশমের সামনে রয়েছে পোজ্জোর কাতারে শামিল হওয়ার সুযোগ। ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতে গেলে সবচেয়ে বেশী ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়বেন দেঁশম। বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে তিনি জয়ের মুখ দেখেছেন ১১বার। সর্বাধিক ১৬টি জয় আছে পশ্চিম জার্মানির হেলমুট শনের।
২০০ গোলের মাইলফলক ছোঁবে বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী ১৭২টি গোল হয়েছে কাতারে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উত্তর আমেরিকার মাটিতে প্রথমবার এক বিশ্বকাপে ২০০+ গোলের দেখা মিলে যেতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক হামলার প্রভাবও বিশ্বকাপের ওপর পড়েছে। এই কারণে ইরান তাদের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনার টাকসন থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিহুয়নায় নিয়ে গেছে। ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে যার প্রথমটি ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে।
মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদাহ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ইরানকে ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে হবে এবং ম্যাচ শেষেই ফিরে যেতে হবে। এর আগে দলের খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেলেও, প্রায় ১৫ জন প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা কর্মীকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ জিতবে কে, ভবিষ্যদ্বাণী করলেন মামদানি
২০২৬ বিশ্বকাপের খেলা শুরু হচ্ছে আজ থেকে। তবে তার আগে চলছে ভবিষ্যদ্বাণীর খেলা। নানা মুনি নানা মত দিচ্ছেন, কে জিতবে এবারের বিশ্বকাপ। সে ধারায় গা ভাসিয়েছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতবে মরক্কো। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ইতিহাস গড়বে উত্তর আফ্রিকার দেশটি। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর সেমিফাইনালে ওঠার রূপকথার উদাহরণ টেনে তিনি এই ভবিষ্যদ্বাণী করেন।
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ২২ আসরের আয়োজক ছিল কোন দেশ, শিরোপা জয়ী ও রানার্সআপ হয়েছে কোন দল সেগুলো দেখে নেয়া যাক:
১৯৩০ সাল প্রথম বিশ্বকাপ। আয়োজক: উরুগুয়ে
শিরোপা- উরুগুয়ে, রানার্সআপ-আর্জেন্টিনা
ফাইনাল: উরুগুয়ে ৪-২ আর্জেন্টিনা
১৯৩৪ সাল দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। আয়োজক: ইতালি
শিরোপা- ইতালি, রানার্সআপ-চেকোস্লোভাকিয়া
ফাইনাল: ইতালি ২-১ চেকোস্লোভাকিয়া
১৯৩৮ সাল, তৃতীয় বিশ্বকাপ। আয়োজক: ফ্রান্স
শিরোপা- ইতালি, রানার্সআপ-ফ্রান্স
ফাইনাল: ইতালি ৪-২ ফ্রান্স
১৯৫০ সাল, চতুর্থ বিশ্বকাপ। আয়োজক: ব্রাজিল
শিরোপা- উরুগুয়ে, রানার্সআপ-ব্রাজিল
ফাইনাল: উরুগুয়ে ২-১ ব্রাজিল
১৯৫৪ সাল, পঞ্চম বিশ্বকাপ। আয়োজক: সুইজারল্যান্ড
শিরোপা- পশ্চিম জার্মানি, রানার্সআপ-হাঙ্গেরি
ফাইনাল: পশ্চিম জার্মানি ৩-২ হাঙ্গেরি
১৯৫৮ সাল, ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। আয়োজক: সুইডেন
শিরোপা- ব্রাজিল, রানার্সআপ-সুইডেন
ফাইনাল: ব্রাজিল ৫-২ সুইডেন
১৯৬২ সাল, সপ্তম বিশ্বকাপ। আয়োজক: চিলি
শিরোপা- ব্রাজিল, রানার্সআপ-চেকোস্লোভাকিয়া
ফাইনাল: ব্রাজিল ৩-১ চেকোস্লোভাকিয়া
১৯৬৬ সাল, অষ্টম বিশ্বকাপ। আয়োজক: ইংল্যান্ড
শিরোপা- ইংল্যান্ড, রানার্সআপ-পশ্চিম জার্মানি
ফাইনাল: ইংল্যান্ড ৪-২ পশ্চিম জার্মানি
১৯৭০ সাল, নবম বিশ্বকাপ। আয়োজক: মেক্সিকো
শিরোপা- ব্রাজিল, রানার্সআপ-ইতালি
ফাইনাল: ব্রাজিল ৪-১ ইতালি
১৯৭৪ সাল, দশম বিশ্বকাপ। আয়োজক: পশ্চিম জার্মানি
শিরোপা- পশ্চিম জার্মানি, রানার্সআপ-নেদারল্যান্ডস
ফাইনাল: পশ্চিম জার্মানি ২-১ নেদারল্যান্ডস
১৯৭৮ সাল, একাদশ বিশ্বকাপ। আয়োজক: আর্জেন্টিনা
শিরোপা- আর্জেন্টিনা, রানার্সআপ-নেদারল্যান্ডস
ফাইনাল: আর্জেন্টিনা ৩-১ নেদারল্যান্ডস
১৯৮২ সাল, দ্বাদশ বিশ্বকাপ। আয়োজক: স্পেন
শিরোপা- ইতালি, রানার্সআপ-পশ্চিম জার্মানি
ফাইনাল: ইতালি ৩-১ পশ্চিম জার্মানি
১৯৮৬ সাল, ত্রয়োদশ বিশ্বকাপ। আয়োজক: মেক্সিকো
শিরোপা- আর্জেন্টিনা, রানার্সআপ-পশ্চিম জার্মানি
ফাইনাল: আর্জেন্টিনা ৩-২ পশ্চিম জার্মানি
১৯৯০ সাল, চতুর্দশ বিশ্বকাপ। আয়োজক: ইতালি
শিরোপা- পশ্চিম জার্মানি, রানার্সআপ-আর্জেন্টিনা
ফাইনাল: পশ্চিম জার্মানি ১-০ আর্জেন্টিনা
১৯৯৪ সাল, পঞ্চদশ বিশ্বকাপ। আয়োজক: যুক্তরাষ্ট্র
শিরোপা- ব্রাজিল, রানার্সআপ-ইতালি
ফাইনাল: টাইব্রেকারে ব্রাজিল জয়ী
ব্রাজিল ০(৩)- ০(২) ইতালি
১৯৯৮ সাল, ষোড়শ বিশ্বকাপ। আয়োজক: ফ্রান্স
শিরোপা- ফ্রান্স, রানার্সআপ-ব্রাজিল
ফাইনাল: ফ্রান্স ৩-০ ব্রাজিল
২০০২ সাল, সপ্তদশ বিশ্বকাপ। আয়োজক: কোরিয়া ও জাপান
শিরোপা-ব্রাজিল, রানার্সআপ-জার্মানি
ফাইনাল: ব্রাজিল ২-০ জার্মানি
২০০৬ সাল, অষ্টাদশ বিশ্বকাপ। আয়োজক: জার্মানি
শিরোপা- ইতালি, রানার্সআপ-ফ্রান্স
ফাইনাল: টাইব্রেকারে ইতালি জয়ী
ইতালি ১(৫)-১(৩) ফ্রান্স
২০১০ সাল, উনবিংশ বিশ্বকাপ। আয়োজক: সাউথ আফ্রিকা
শিরোপা- স্পেন, রানার্সআপ-নেদারল্যান্ডস
ফাইনাল: স্পেন ১-০ নেদারল্যান্ডস
২০১৪ সাল, বিংশ বিশ্বকাপ। আয়োজক: ব্রাজিল
শিরোপা- জার্মানি, রানার্সআপ-আর্জেন্টিনা
ফাইনাল: জার্মানি ১-০ আর্জেন্টিনা
২০১৮ সাল, একবিংশ বিশ্বকাপ। আয়োজক: রাশিয়া
শিরোপা- ফ্রান্স, রানার্সআপ-ক্রোয়েশিয়া
ফাইনাল: ফ্রান্স ৪-২ ক্রোয়েশিয়া
২০২২ সাল: ২২তম বিশ্বকাপ। আয়োজক: কাতার
শিরোপা-আর্জেন্টিনা, রানার্সআপ-ফ্রান্স
ফাইনাল: টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনা জয়ী
আর্জেন্টিনা ৩ (৪)-৩(২) ফ্রান্স

