ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়ম ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। সমিতির প্রকাশিত নোটিশ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরও একাধিক প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, যা আইনজীবী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
সমিতির নোটিশ অনুযায়ী, প্রার্থীরা নিয়ম মেনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করেই কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের দাবি, নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার একটি সাংবিধানিক অধিকার। প্রার্থিতা বাতিলের মাধ্যমে শুধু ব্যক্তিগত অধিকারই ক্ষুণ্ন হয়নি, বরং পুরো আইনজীবী সমাজের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ব্যাহত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এক জরুরি নোটিশে বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক কিছু আইনগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এ ধরনের ব্যাখ্যা অস্পষ্ট এবং আইনের শাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতিফলন, যেখানে ভিন্নমত ও অংশগ্রহণের পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারকে ঘিরে দেশ-বিদেশে নানা বিতর্ক রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ওই সময় থেকে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে সহিংসতা, গ্রেপ্তার ও প্রশাসনিক হয়রানির ঘটনা বেড়েছে। আইনজীবী সমিতির এই নির্বাচনী সংকটকেও অনেকেই সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের অংশ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে, আইনজীবী সমাজের একাংশ ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি, বাতিল হওয়া প্রার্থীদের প্রার্থিতা দ্রুত পুনর্বহাল করতে হবে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে এটি কেবল একটি পেশাজীবী সংগঠনের সংকটেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও আইনের শাসন নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

