বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক রায়: ‘আবু সাঈদ হত্যা মামলা’ রায় প্রত্যাখ্যান ছাত্রলীগের

রায়কে ‘ক্যাঙারু কোর্টের সিদ্ধান্ত’ দাবি; নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাজা নিয়ে প্রশ্ন

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটি এই রায়কে ‘ক্যাঙারু কোর্টের সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে পক্ষপাতদুষ্ট ও পূর্বনির্ধারিত বলে অভিযোগ তুলেছে।

এক বিবৃতিতে ছাত্রলীগ দাবি করে, মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ছিল অসম্পূর্ণ এবং এতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়নি। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও জনতুষ্টিমূলক একটি রায় জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সংগঠনটি আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত কখনোই সম্পন্ন হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ, বিশেষ করে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ঘটনার প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়াকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা ইস্যুতে আন্দোলন শুরুর পর থেকেই ছাত্রলীগ শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, সংলাপের আহ্বান এবং প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি, ১১ জুলাই ২০২৪ থেকে কোটা কার্যকর না থাকার বিষয়ে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরা হয়।
তবে ছাত্রলীগের অভিযোগ, একটি ‘অশুভ ঘাতকগোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনকে ব্যবহার করে সহিংসতা সৃষ্টি করে এবং টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলে। তাদের দাবি, তৎকালীন সরকার এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করেছিল।

পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে সংগঠনটি বলে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখলকারী সরকার ও তাদের নিয়ন্ত্রিত বিচারব্যবস্থা প্রকৃত সত্য আড়াল করেছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গকে ব্যবহার করেছে। সাম্প্রতিক রায় সেই পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করা হয়।
রায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর, শিক্ষক ও বহু শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ছাত্রলীগ। তাদের দাবি, অনেক অভিযুক্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও দুর্বল ও ‘কাল্পনিক’ অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
সবশেষে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রায়টি প্রত্যাখ্যান করে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।

spot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles