বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-কে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশ-বিদেশের ৫০১ জন প্রকৌশলী। তারা এই সিদ্ধান্তকে ‘অসাংবিধানিক ও নব্য-ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় দেশপ্রেমিক জনতা ও পেশাজীবী সমাজ অধিকার আদায়ে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে প্রকৌশলীরা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি গভীর রাজনৈতিক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সমঝোতায় গঠিত সরকার পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের দাবি, একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলকে নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি এবং জনগণের ভোটাধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ।
প্রকৌশলীরা আরও বলেন, বিরোধী রাজনীতির শূন্যতা তৈরি করে ক্ষমতাসীন জোট এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং জাতীয় নিরাপত্তাকেও বিপদের মুখে ফেলতে পারে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তাই রাষ্ট্রের এমন সংকটময় সময়ে তারা নীরব থাকতে পারেন না। তারা সতর্ক করে বলেন, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং জাতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।
প্রকৌশলীরা দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

