বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা ব্রিজ এলাকায় স্ত্রী ফাতেমা গুলিতে নিহত হয়েছেন—এমন অভিযোগ এনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কোনও সত্যতা পায়নি পুলিশ। তদন্ত শেষে সব আসামির অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মামলার বাদী মো. সুমনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে প্রসিকিউশন দাখিলের আবেদন করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কথিত ভুক্তভোগী ফাতেমার অস্তিত্ব কিংবা তার মৃত্যুর কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাদী নিজেও জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তিনি ভুক্তভোগীকে চিনতেন না এবং কিছু ব্যক্তির প্ররোচনা ও আর্থিক প্রলোভনে মামলার বাদী হতে রাজি হন।
মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন গত ২৭ এপ্রিল আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাদী কোনও হাসপাতালের কাগজপত্র, মৃত্যুসনদ বা দাফনের তথ্য দিতে পারেননি। আশুলিয়ার ইয়ারপুর কবরস্থানে দাফনের দাবি করা হলেও সেখানে এমন কোনও দাফনের তথ্য মেলেনি।
পুলিশ আরও জানায়, মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনে নিহত ২৩ জনের সবাই পুরুষ ছিলেন। সেখানে কোনও নারীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, নসরুল হামিদ, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ সাবেক সরকারের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিল।

