বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (International Crisis Group)। সংস্থাটি বলেছে, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘদিন টিকবে না।
সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের সামনে এখন বড় দুটি চ্যালেঞ্জ। একদিকে অর্থনীতি ঠিক করা। অন্যদিকে রাজনৈতিক স্থিতি ফিরিয়ে আনা।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সংস্থার জ্যেষ্ঠ পরামর্শক থমাস কীন বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই বাস্তবতায় এই নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।”
রাজনৈতিক সমঝোতার তাগিদ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক বিরোধীদের সঙ্গে সংঘাত বাড়ালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। বরং মামলাগুলো পর্যালোচনা করা উচিত। সংলাপের পথ খুলতে হবে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করা জরুরি। একই সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ভারসাম্য রাখতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, “ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। তবে অন্য অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখা দরকার।”
অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ
দেশের অর্থনীতি এখন চাপে আছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে। জ্বালানির দাম বাড়ছে। আমদানি ব্যয় বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানির দাম বাড়াচ্ছে। বাণিজ্যেও বিঘ্ন ঘটছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমতে পারে। মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।”
দেশে ইতোমধ্যে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সমস্যা হচ্ছে। পেট্রল পাম্পে লাইন বাড়ছে। সার উৎপাদনেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
একজন অর্থনীতিবিদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এই সংকট “ভূমিকম্পের মতো” আঘাত করতে পারে।
সীমিত সময়, বড় চ্যালেঞ্জ
সরকার ১৮০ দিনের একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, সময় খুব কম।
থমাস কীন বলেন, “বিএনপির জন্য ঝুঁকি অনেক। নির্বাচনের পর যে সময় পাওয়া গেছে, সেটি কাজে লাগাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু অর্থনৈতিক উন্নতি যথেষ্ট নয়। মানুষ এখন রাষ্ট্রের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তায় বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়।”
সামনে অনিশ্চয়তা
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে আবার অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সরকারবিরোধী আন্দোলন নতুন নয়। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সমর্থন ধরে রাখা কঠিন হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন সবচেয়ে দরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি। সব পক্ষকে নিয়ে এগোতে হবে। তা না হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।

