তহবিল চুক্তি ভেস্তে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সরকার অচলাবস্থা শুরু

ট্রাম্প ও কংগ্রেসে সমঝোতা না হওয়ায় কার্যত বন্ধ হয়ে গেল ফেডারেল সরকার; লাখো কর্মচারী বেতনহীন, সীমিত পরিষেবায় চলছে জরুরি খাত।

ওয়াশিংটন, ১ অক্টোবর, ভয়েস নিউজ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আবারও শুরু হয়েছে সরকার অচলাবস্থা বা শাটডাউন। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে কংগ্রেস ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে তীব্র মতবিরোধের কারণে।

ফেডারেল তহবিল বাড়ানোর বিষয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী বেতন ছাড়া ছুটিতে বা কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

শাটডাউনের প্রভাব

কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফেডারেল কর্মচারী কর্মস্থল থেকে সাময়িকভাবে ছুটিতে (ফার্লো) থাকবেন। অন্যদিকে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক, নিরাপত্তা এজেন্ট, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের বিনা বেতনে কাজ করতে হবে। সরকার পুনরায় চালু হলে কর্মীরা বকেয়া বেতন পেলেও এ খাতে করদাতাদের ৪০০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ হবে।

জাতীয় উদ্যানগুলো আংশিক খোলা থাকলেও পরিষেবা সীমিত হবে। মেডিকেয়ার ও সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা চালু থাকলেও নতুন আবেদনকারীরা বিলম্বের মুখে পড়বেন। শিক্ষা বিভাগ প্রায় ৮৭ শতাংশ কর্মীকে সাময়িক ছুটিতে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থাগুলোতেও বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাই কার্যকর হচ্ছে।

রাজনৈতিক অচলাবস্থা

রিপাবলিকানরা অস্থায়ী অর্থায়ন বিল আনলেও ডেমোক্র্যাটরা দাবি জানায় স্বাস্থ্যখাতের ভর্তুকি ও সামাজিক খাতে নির্দিষ্ট বরাদ্দ নিশ্চিত করার। বিশেষ করে ওবামাকেয়ার ভর্তুকি বন্ধ হয়ে গেলে স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম বেড়ে যাবে বলে ডেমোক্র্যাটরা সতর্ক করে। রিপাবলিকানরা এ দাবিকে “সরকারকে জিম্মি করা” বলে অভিহিত করছে।

সেনেট রিপাবলিকান নেতা জন থুন বলেন, “ডেমোক্র্যাটদের ভেতরে ভাঙন শুরু হয়ে গেছে।” তবে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার জবাব দেন, “রিপাবলিকানরা দ্বিদলীয় আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে আমেরিকাকে শাটডাউনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।”

ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল

ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন শাটডাউন চলাকালে তিনি “অনেক” ফেডারেল কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করতে পারেন—যা আধুনিক আমেরিকার ইতিহাসে নজিরবিহীন। হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন জনমত চাপ সৃষ্টি করবে এবং ডেমোক্র্যাটরা শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় আসবে।

তবে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও কংগ্রেসে আরও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এতে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ও হাকিম জেফরিজকে বিদ্রূপ করা হয়। জেফরিজ প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পকে “coward” আখ্যা দিয়ে চ্যালেঞ্জ করেন মুখোমুখি এসে বলার জন্য।

জনমতের অবস্থান

সাম্প্রতিক জরিপগুলো বলছে, অধিকাংশ আমেরিকান রিপাবলিকানদেরকেই দায়ী করছে। নিউইয়র্ক টাইমস–এর এক জরিপে ২৬ শতাংশ রিপাবলিকানদের দায়ী করেছে, ১৯ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৩ শতাংশ উভয়কেই সমানভাবে দায়ী করেছে। অন্য একটি জরিপে ৩৮ শতাংশ রিপাবলিকানদের দিকে আঙুল তুলেছে।

সামনে কী?

এখনো স্পষ্ট নয় অচলাবস্থা কতদিন চলবে। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, অন্তত এক সপ্তাহ এটি চলবে এবং পরে আলোচনা শুরু হতে পারে। অন্যদিকে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জনমতের চাপ ক্রমশ বাড়বে এবং তা কংগ্রেসকে সমঝোতায় বাধ্য করতে পারে।

২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ৩৪ দিনের দীর্ঘ শাটডাউন হয়েছিল—যা ছিল মার্কিন ইতিহাসের দীর্ঘতম। এবারের অচলাবস্থা কতদিন স্থায়ী হবে তা বলা কঠিন, তবে এরই মধ্যে সরকারি কর্মচারীরা বেতনহীন জীবনের অনিশ্চয়তায় এবং সাধারণ আমেরিকানরা পরিষেবায় ভোগান্তিতে পড়তে শুরু করেছেন।

spot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles