ব্রিটেনের ম্যানচেস্টারে সিনাগগে গাড়ি ও ছুরি হামলা, নিহত ২

গাড়ি নিয়ে জনতার ভেতরে ঢুকে হামলাকারী ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পুলিশ গুলি চালিয়ে সন্দেহভাজনকে হত্যা করে। অন্তত তিন জন গুরুতর আহত।

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে একটি ইহুদি মন্দিরে প্রার্থনা চলাকালীন ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে জনতার ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং পরে ছুরি নিয়ে হামলা চালান। এতে অন্তত দুই জন নিহত ও তিন জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ গুলি চালিয়ে ওই হামলাকারীকে হত্যা করেছে।

কীভাবে ঘটল হামলা

বৃহস্পতিবার সকালে ক্রাম্পসাল এলাকার হিটন পার্ক হিব্রু কংগ্রিগেশন সিনাগগের বাইরে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুরুতে এটি সাধারণ এক গাড়ি দুর্ঘটনা মনে হলেও মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গাড়ি থামার সঙ্গে সঙ্গেই চালক ছুরি হাতে বেরিয়ে এসে জনতার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং সিনাগগে ঢোকার চেষ্টা করেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “সে প্রথমে নিরাপত্তাকর্মীর দিকে যায়, পরে সিনাগগের দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। ভেতরে প্রার্থনা চলছিল, ভক্তরা তড়িঘড়ি করে দরজা আটকে দেয়।”

পুলিশের তৎপরতা

পুলিশ জানায়, তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীকে থামানোর নির্দেশ দেয়। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করায় গুলি চালাতে বাধ্য হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে গুলিতে পড়ে গেলেও হামলাকারী আবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, তখন দ্বিতীয়বার গুলি চালানো হয়।

হামলাকারীর কোমরে বিস্ফোরক জাতীয় কিছু থাকার সন্দেহে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকেও ডাকা হয়। এ কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ কিছুটা সময় নেয়।

নিহত ও আহত

পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ঘটনাস্থলে দুই জন বেসামরিক মানুষ মারা গেছেন। আরও তিন জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

প্রার্থনালয়ে আতঙ্ক

ঘটনার সময় সিনাগগে শতাধিক মানুষ ইয়োম কিপুরের বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছিলেন। রাব্বি ড্যানিয়েল ওয়াকার উপস্থিতদের শান্ত থাকতে বলেন এবং সহায়তা করে নিরাপদে বের হতে সহায়তা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাঁকে “নায়কোচিত ভূমিকা” পালনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে জরুরি কোবরা (COBR) বৈঠক আহ্বান করেন। তিনি বলেন, “ইয়োম কিপুরে একটি সিনাগগে এমন হামলা ঘৃণ্য ও ভয়াবহ। এটি শুধু ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর নয়, গোটা সমাজের ওপর আঘাত।”

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এবং মনে হচ্ছে হামলাকারী একাই এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।

লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের অন্যান্য শহরে সব সিনাগগ ও ইহুদি উপাসনালয়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

তদন্তের অগ্রগতি

পুলিশ এখনো হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি সন্ত্রাসবাদী বা ইহুদিবিদ্বেষী হামলা হতে পারে। সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে।

যুক্তরাজ্যের ইহুদি সংগঠনগুলো বলছে, এ ঘটনায় পুরো সম্প্রদায় আতঙ্কিত। সম্প্রতি দেশটিতে ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা-অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

spot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles