গাজাগামী বহর ভূমধ্যসাগরে আটক: সংগঠকদের গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েল

ভূমধ্যসাগরে আটকে দেয়া হয় সুমুদ ফ্লোটিলা। ইসরায়েলের পদক্ষেপকে অবৈধ বলছে সংগঠকরা, আর আয়ারল্যান্ড দাবি করছে আন্তর্জাতিক আইন মেনে আচরণ করার।

ইসরায়েলি নৌবাহিনী ভূমধ্যসাগরে গাজাগামী মানবিক সহায়তা বহরের (গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা) একাধিক জাহাজ আটক করেছে। এর মধ্যে অন্তত সাতজন আইরিশ নাগরিক ও সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ রয়েছেন। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

আটক আইরিশ নাগরিকদের মধ্যে সংসদ সদস্যও

আইরিশ সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই জানিয়েছে, আটক হওয়া নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন সিন ফেইন দলের সেনেটর ক্রিস অ্যান্ড্রুজ, কমেডিয়ান তাধগ হিকি, মানবাধিকার কর্মী তারা ও’গ্রেডি, লুইস হিনি, কবি সারা ক্ল্যান্সি, আন্দোলনকারী ডায়ারমুইড ম্যাক ডুভগ্লেইশ এবং থমাস ম্যাককিউন।
মোট ২২ জন আইরিশ নাগরিক ফ্লোটিলায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

কোথায় আটক হলো বহর

সংগঠকরা জানিয়েছেন, গাজা উপকূল থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে ঘিরে ফেলে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, এগুলো ছিল “যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি”, তাই তারা জাহাজগুলোকে ঘুরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করায় অভিযান চালানো হয়।

ফ্লোটিলার দাবি

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ মানবিক সহায়তা বহর। তারা পানি, খাদ্য ও ওষুধ গাজার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিল। ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের এ পদক্ষেপকে “অবৈধ” এবং “হতাশার প্রকাশ” বলে আখ্যায়িত করেছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আয়ারল্যান্ডে

আইরিশ পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইসরায়েলে তাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে।
আইরিশ উপপ্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস বলেছেন, “এটি শান্তিপূর্ণ মানবিক মিশন। আমরা আশা করি আন্তর্জাতিক আইন মেনে সব কর্মীকে মর্যাদার সঙ্গে আচরণ করা হবে।”

আইরিশ প্রেসিডেন্ট মাইকেল ডি. হিগিন্স বলেছেন, “এই মানবিক উদ্যোগে যারা অংশ নিয়েছেন, তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এখন সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয়। জাতিসংঘে সম্প্রতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির বিষয়ে যে ঐকমত্য দেখা গিয়েছিল, আজ তার প্রতি আস্থার প্রশ্ন উঠছে।”

আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিন কোপেনহেগেনে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের নাগরিকদের আমরা বারবার সতর্ক করেছি, সমুদ্রপথে গাজা যাওয়া নিরাপদ নয়। তবে এটিও সত্য যে, এটি সামরিক অভিযান নয়, বরং একটি মানবিক মিশন। ইসরায়েলি সরকারের দায়িত্ব এটি আইনসম্মত ও সংযতভাবে মোকাবিলা করা।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক মহল থেকে ইতিমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তুরস্ক, স্পেন, ব্রাজিলসহ একাধিক দেশ ইসরায়েলের এ পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গাজার অবরুদ্ধ জনগণের কাছে সহায়তা পৌঁছানো ঠেকানো মানবিক বিপর্যয়কে আরও গভীর করবে।

মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপট

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান সংঘাতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, কয়েক মিলিয়ন মানুষ এখনো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার জন্য মরিয়া। এই পরিস্থিতিতে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সেটি গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই থামিয়ে দেওয়া হলো।

spot_img