কলম্বোতে নারী বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দাপট দেখাল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। পাকিস্তানের মতো অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষকে মাত্র ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করল নিগার সুলতানার দল।
পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপদে পড়ে পাকিস্তান। বাংলাদেশের তরুণ পেসার মারুফা আক্তার প্রথম ওভারেই দুই উইকেট তুলে নেন। এরপর মাঝের ওভারে শর্না আক্তার দুর্দান্ত স্পেল করে পাকিস্তানের রান আটকে দেন এবং মাত্র ৫ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন।
পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ জোড়া লাগাতে পারেনি—সবচেয়ে বেশি রান এসেছে রামিন শামীমের ব্যাট থেকে ২৩। দলীয় সংগ্রহ গড়িয়ে শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় মাত্র ১২৯ রান (৩৮.৩ ওভার)।
ব্যাট হাতে রুবিয়ার স্বপ্নের অভিষেক
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশও শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে—১০ ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে বসে। তবে অভিষেক ম্যাচেই নতুন তারকা হয়ে উঠলেন ওপেনার রুবিয়া হায়দার। তিনি শান্ত মাথায় ইনিংস গড়ে ৭৭ বলে অপরাজিত ৫৪ রান করেন। তার সঙ্গে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি (২৩) এবং পরে সোবহানা মোস্তারী (২৪)* সহজ জয় নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৩১.১ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩১ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয়।
ম্যাচের নায়ক-নায়িকারা
- মারুফা আক্তার: বল হাতে ঝড় তুলেছেন, নতুন বলে ধারালো স্পেল খেলে ২ উইকেট নেন এবং ম্যাচসেরা হন।
- শর্না আক্তার: স্পিনে বিধ্বংসী, মাত্র ৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট।
- রুবিয়া হায়দার: অভিষেকেই অপরাজিত অর্ধশতক, শান্ত ব্যাটিংয়ে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন।
পাকিস্তানের হতাশা, বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস
পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা ম্যাচ শেষে বলেন, “শুরুতেই অনেক উইকেট পড়ে যাওয়ায় আমরা চাপ সামলাতে পারিনি।” অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা বলেন, “বোলাররা দারুণ পরিকল্পনা মেনে বল করেছে। রুবিয়া অভিষেকেই যে আত্মবিশ্বাস দেখাল, তা দলের জন্য বড় সম্পদ।”
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা
টুর্নামেন্টের শুরুতেই এমন একতরফা জয় নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ নারী দলকে আত্মবিশ্বাসী করবে। এই জয়ে কেবল দু’পয়েন্টই নয়, ভালো নেট রানরেটও অর্জন করেছে বাংলাদেশ। সামনে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ থাকলেও প্রথম ম্যাচে ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে তারা প্রমাণ করল—এই বিশ্বকাপে অবহেলার কোনো দল নয় বাংলাদেশ।

