ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় আওয়ামী লীগের ১৩ নেতা ও কর্মীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল ও নারী সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তামন্না নুসরাত বুবলী।
ডিবির মোটিজিল বিভাগ রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকা থেকে বাদলকে গ্রেপ্তার করে। অপরদিকে, ডিবি সাইবার বিভাগ মোহাম্মদপুর থেকে বুবলীকে আটক করে।
আরও ১১ জনকে টার্গেট
একই সঙ্গে আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে আছেন যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ ও বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সক্রিয় নেতাকর্মীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা তৃণমূল সংগ্রামী লীগের সভাপতি মো. মণিকুরুর রহমান, জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতা আব্দুর রাজ্জাক শাকিল, শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা আলম মাতবর, সাবেক ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মহবুবুল হক হিরকসহ অনেকে।
আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ
আওয়ামী লীগ যৌথ সাধারণ সম্পাদক এ. এফ. এম. বাহাউদ্দিন নাছিম এসব গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
“ইউনুসের অবৈধ সরকার সন্ত্রাসী আর জঙ্গিদের ছেড়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে, অথচ নির্বিচারে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, শিল্পী, সাংবাদিক আর বুদ্ধিজীবীদের গ্রেপ্তার করছে,” নাছিম দ্য ভয়েসকে বলেন।
তিনি অবিলম্বে সকল নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে “বিরোধী কণ্ঠরোধের হাতিয়ার” বলে উল্লেখ করেন।
গণগ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট
গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দমননীতি চলছে। প্রথম আলোর তথ্যমতে, গত ১৩ মাসে আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অন্তত ৪৪ হাজার ৪৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জামিন অধিকার খর্ব
আওয়ামী লীগ অভিযোগ করছে, আদালতের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে সরকার। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার কাজ হলো কেন এত আটক ব্যক্তি আদালত থেকে জামিন পাচ্ছেন তা “তদন্ত” করা।
নাছিম বলেন, “জামিন প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু ইউনুস সরকার আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, বিচারকদের কাজ করতে দিচ্ছে না এবং নির্বাহী বিভাগ দিয়ে বিচার বিভাগের দায়িত্ব কেড়ে নিচ্ছে।”
‘ডেভিল হান্ট’ ও হঠাৎ মিছিল
“অপারেশন ডেভিল হান্ট” নামের যৌথ বাহিনীর অভিযানে চলতি বছরের শুরুর দিকে ১১ হাজারের বেশি আওয়ামী লীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সম্প্রতি ঢাকা শহরে এক অভিযানে হঠাৎ প্রতিবাদী মিছিলে অংশ নেওয়া ২৪৪ জনকে আটক করে। পুলিশ দাবি করে, টেলিগ্রাম ও বোটিমের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে সমন্বয় করা হচ্ছিল এসব কর্মসূচি। আওয়ামী লীগ বলছে, এগুলো ছিল শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক সমাবেশ।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন সম্প্রসারণ করে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করা হচ্ছে। সংস্থাটি আইনের সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও আন্তর্জাতিক মহল আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও গ্রেপ্তার অভিযানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছে, তারা আদালতে আইনি লড়াই চালাবে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও এ দমন-পীড়নের তথ্য তুলে ধরবে। দলের আইনজীবীরা বলছেন, এসব মামলার কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই, আর আদালতের স্বাধীনতাকে খর্ব করা হচ্ছে।
নাছিম বলেন, “সরকার চায় আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে, কিন্তু জনগণকে মুছে ফেলা যাবে না। এই দমননীতি আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করছে।”

