আশা থেকে বিভীষিকা
নিউইয়র্ক, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রবাসী নেতা, সাংবাদিক, রাজনীতিক ও মানবাধিকারকর্মীরা।
নিউইয়র্কে এক প্রবাসী সমাবেশে তারা অভিযোগ করেন, ইউনুস সরকার গণহত্যা, ধর্ষণ, অর্থনৈতিক পতন, সংখ্যালঘু নিপীড়ন এবং বিদেশি শক্তির আঁতাতে দেশকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেন, “মিটিকুলাস ডিজাইনে বিভিন্ন রকম প্রচারণার দ্বারা মানুষকে ক্ষেপিয়ে, তাদের মধ্যে এক ধরনের আশা জাগিয়ে বিশেষ করে তরুণদের বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন ড. ইউনুস। মানুষের সেই আশা শিগগিরই বিভীষিকায় রূপান্তরিত হয়েছে।”
“বাংলাদেশ প্রতিদিন ধ্বংস হচ্ছে, চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে,” বলেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার। “এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। ইউনুসের সরকার অবৈধ এবং অসাংবিধানিক।”
মুসোলিনির ছায়া বাংলাদেশে
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বলেন, ইউনুস গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে বেআইনিভাবে ক্ষমতা দখল করেছেন এবং ইতালির স্বৈরশাসক বেনিতো মুসোলিনির মতো কৌশল অনুসরণ করছেন।
“মুসোলিনি ব্ল্যাকশার্ট বাহিনী ব্যবহার করেছিল, আর ইউনুস ব্যবহার করছেন উগ্র জঙ্গি বাহিনী,” বলেন মোমেন। “ভয়, প্রচারযন্ত্র, বিরোধীদের দমন—এটাই দুই শাসকের মিল।”
অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি কমে ৬.৮ শতাংশ থেকে ৩.৩ শতাংশে নেমেছে, দারিদ্র্য দ্বিগুণ হয়েছে, ৩০ লাখ চাকরি হারিয়েছে মানুষ—এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ নারী। প্রায় ৩৯ মিলিয়ন মানুষ দিনে দুই বেলা খাবার জোগাড় করতে পারছে না।
“২৬৮টি কারখানা ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়েছে, বছরের শেষ নাগাদ অর্ধেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে,” সতর্ক করেন তিনি।
বিচার বিভাগ নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন মোমেন। তার দাবি, প্রধান বিচারপতি পর্যন্ত মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ হয়েছেন। “৩ লাখের বেশি বিরোধী নেতা, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ২৮ হাজার ভুয়া হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিচার বিভাগ প্রতিশোধের হাতিয়ার হয়ে গেছে,” তিনি বলেন।
বিদেশি আঁতাতের অভিযোগ
মোমেন প্রশ্ন তোলেন, “যে ইউনুস চীনা অস্ত্র কিনছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি তাকে বিশ্বাস করতে পারে?”
ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার আরও বলেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই প্রতি মাসে বাংলাদেশে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। “বাংলাদেশকে চীন-ভারত বিরোধের প্রক্সি যুদ্ধক্ষেত্র বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে,” মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধান ব্যাখ্যা করে ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার বলেন, “এই সরকার বেআইনি, অসাংবিধানিক এবং ধ্বংসাত্মক- যারা বাংলাদেশের সমাজকে ভেঙে ফেলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি নীরব থাকে, বাংলাদেশ কেবল ভেঙে পড়বে না, বরং সন্ত্রাস ও স্বৈরাচারের প্রক্সি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হবে।”
প্রবাসী কণ্ঠে প্রতিবাদ
- ভারতে বাংলাদেশের সাবেক প্রেস মিনিস্টার ও বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমুদ বলেন, “অবস্থা পরিবর্তন করতেই হবে। সাংবাদিকদের মুক্তভাবে লেখার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি অবাধ নির্বাচন জরুরি।”
- নির্বাসিত জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন জানান, “ইউনুস সরকার ও তার সহযোগীরা ৬০০-র বেশি সাংবাদিককে খুনের মামলায় মিথ্যা জড়িয়েছে।”
- সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা প্রদীপ রঞ্জন কর বলেন, “বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে যা করার করতে হবে—এই হত্যাকারী স্বৈরাচারী সরকারকে সরাতেই হবে।”
- আয়োজক দ্য ভয়েস সম্পাদক দস্তগীর জাহাঙ্গীর উল্লেখ করেন, “এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই সরকার ক্ষমতা দখল করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে অন্তত ৩,২৪০ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে।”
মুজিববাদ মুছে ফেলার চেষ্টা
মানবাধিকারকর্মী ড. দিলীপ নাথ বলেন, “৭০ বছর ধরে পাকিস্তানপন্থীরা বাংলাদেশকে হাঁটু গেড়াতে চেয়েছে। তারা মুজিববাদ মুছে খিলাফত কায়েম করতে চায়। ইউনুস তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করছেন।”
ড. রবি আলম সতর্ক করেন, “আইএসআইএস, আল-কায়েদা আর তালেবানের অনুপ্রেরণায় কাজ করছে বাংলাদেশি দুষ্কৃতকারীরা। তারা সরকারের সহায়তায় সারাদেশে মব সন্ত্রাস চালাচ্ছে। মানবাধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
সভায় অন্যদের মধ্যে সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক, ও বরকত আলম, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, সিনিয়র সাংবাদিক শিহাবউদ্দিন কিসলু, লাবলু আনসার, পিনাকি তালুকদার, ৭১’এর প্রহরীর সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া, নারী অধিকার কর্মী ও সাংবাদিক রওশন আরা নিপা বক্তব্য রাখেন।
সব বক্তার কণ্ঠে এক সুর—বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণতন্ত্র হত্যার বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নিতে হবে।

