পোর্টল্যান্ডে সেনা পাঠানোর ঘোষণা ট্রাম্পের, পূর্ণ শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ

আইসিই স্থাপনায় হামলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পোর্টল্যান্ডে সেনা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় নেতারা একে অবৈধ বলছেন।

ওয়াশিংটন, সেপ্টেম্বর ২০২৫ — যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওরেগনের পোর্টল্যান্ড শহরে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় অভিবাসন দপ্তরের (আইসিই) স্থাপনাগুলো বিক্ষোভকারীদের হামলার মুখে রয়েছে। প্রয়োজনে “পূর্ণ শক্তি” প্রয়োগেরও অনুমোদন দিয়েছেন তিনি।

শনিবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লেখেন, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে নির্দেশ দিয়েছেন পোর্টল্যান্ডে “প্রয়োজনীয় সব সেনা” পাঠাতে। তাঁর ভাষায়, “আমাদের আইসিই অফিসগুলো অ্যান্টিফা ও অন্যান্য দেশীয় সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার। আমি এগুলো রক্ষায় পূর্ণ শক্তি প্রয়োগের অনুমতি দিচ্ছি।”

আইসিই দপ্তর ঘিরে উত্তেজনা

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পোর্টল্যান্ডের একটি আইসিই প্রসেসিং সেন্টারের বাইরে বিক্ষোভ চলছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা বারবার স্থাপনাটিতে হামলা চালিয়েছে। বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে ফেডারেল অপরাধে অভিযুক্তও করা হয়েছে।

দপ্তর অভিযোগ করেছে, স্থানীয় রোজ সিটি অ্যান্টিফা নামের সংগঠনটি আইসিই কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ঠিকানা প্রকাশ করেছে এবং তাদের ওপর প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই অ্যান্টিফাকে দেশীয় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন আইনে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নেই যা কোনো সংগঠনকে এভাবে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করতে পারে।

স্থানীয় ও ডেমোক্র্যাট নেতাদের তীব্র সমালোচনা

ওরেগনের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রন ওয়াইডেন বলেন, ট্রাম্প আবারও “২০২০ সালের পুনরাবৃত্তি” ঘটাতে চাইছেন, যখন ফেডারেল বাহিনী জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদের সময় শহরে নামানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে সহিংসতা উসকে দিতে চাইছেন। আমি ওরেগনের জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাই।”

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওমেন সুজান বনামিসি অভিযোগ করেন, আইসিই শুধু অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে না, বরং সাধারণ মানুষকেও আটক করছে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন—একজন বাবা নিজের সন্তানের স্কুল থেকে বের হওয়ার সময় আটক হয়েছেন, এমনকি বনাঞ্চলে আগুন নেভানো এক অগ্নিনির্বাপককেও তুলে নেওয়া হয়েছে।

কাটো ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, আইসিই-এর হাতে আটক ৬৫ শতাংশ মানুষের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই।

সমর্থনও পাচ্ছেন ট্রাম্প

যদিও স্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতারা কঠোর সমালোচনা করছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী লরি চাভেজ-ডি রেমার। তিনি বলেছেন, পোর্টল্যান্ডকে “অপরাধে জর্জরিত যুদ্ধক্ষেত্র” বানিয়ে ফেলেছে অরাজকতা। তাঁর ভাষায়, “আইসিই স্থাপনাগুলো রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ।”

আইনের সীমাবদ্ধতা ও বিতর্ক

মার্কিন আইন পসি কোমিটাটাস অ্যাক্ট (Posse Comitatus Act) ফেডারেল সরকারকে দেশে সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে আইন প্রয়োগে সীমাবদ্ধ করে। এ আইন ভঙ্গের অভিযোগে সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেসে সেনা মোতায়েনকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন এক ফেডারেল বিচারক।

তবে ব্যতিক্রম হিসেবে ইনসারেকশন অ্যাক্ট (Insurrection Act) আছে, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে সেনা ব্যবহারের অনুমতি দেয়। কিন্তু ট্রাম্প এই আইনের আওতায় সেনা মোতায়েন করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। পেন্টাগন বা ওরেগন কর্তৃপক্ষ কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

জাতীয় প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা

পোর্টল্যান্ড হলো চতুর্থ শহর, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন সেনা পাঠিয়েছে বা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসি ও মেমফিসে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছিল।

সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সংবিধান ও নাগরিক অধিকারের ওপর হুমকি তৈরি করছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস বলছে, অবৈধ অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলার সংকট মোকাবিলায় এসব পদক্ষেপ জরুরি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত পোর্টল্যান্ডে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনপ্রণেতারা একে “অবৈধ” ও “উসকানিমূলক” আখ্যা দিলেও ট্রাম্প বলছেন, আইসিই স্থাপনাগুলো রক্ষায় তাঁর হাতে আর কোনো বিকল্প নেই।

spot_img