বাংলাদেশ ২-০ গোলে পাকিস্তানকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলের ফাইনালে

কলম্বোতে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনালে দুর্দান্ত খেলে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠলো লাল-সবুজের কিশোররা।

ঝড়ো সূচনা, পাকিস্তানের হতবিহ্বলতা

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মাঠে নামে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। মাত্র তৃতীয় মিনিটেই অধিনায়ক নজমুল হুদা ফয়সাল পাকিস্তানি গোলকিপারের ভুল কাজে লাগিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন।

পাকিস্তান তখনও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ খুঁজছিল, কিন্তু মিনিট পার হতে না হতেই আবারও আঘাত হানে বাংলাদেশ। ডান দিক থেকে কাট-ইন করে বাঁ পায়ের অসাধারণ শটে অপু রহমান স্কোরলাইন ২-০ করেন। শুরুতেই দুই গোল হজম করে পাকিস্তান কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে।

প্রথমার্ধে চাপ সামলে টিকে থাকে বাংলাদেশ

প্রথমার্ধে পাকিস্তান কয়েকটি আক্রমণ সংগঠিত করলেও সেগুলোতে গোল পায়নি। ১০ মিনিটে মোহাম্মদ আবদুল্লাহর একটি হেড পোস্টের বাইরে চলে যায়। পরে দু’দলের একটি করে গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দৃঢ়। ফলে বিরতিতে ২-০ গোলের লিড ধরে রাখে ফয়সালরা।

দ্বিতীয়ার্ধেও দৃঢ় রক্ষণ

দ্বিতীয়ার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে hat-trick করা রিফাত kazi ৪৯ মিনিটে একটি শট নেন, কিন্তু পাকিস্তানি গোলকিপার সামার রাজ্জাক সেটি ফিরিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর ফয়সালের শটও অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।

অন্যদিকে পাকিস্তান চেষ্টা চালালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও গোলকিপারের দৃঢ়তায় সব আক্রমণ ব্যর্থ হয়। শেষ দিকে বদলি খেলোয়াড় আকাশ আহমেদ ও মোহাম্মদ ওয়াইসের প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান।

ফাইনালের প্রতীক্ষা

এই জয়ে টানা তিন আসরে ফাইনালে পৌঁছালো বাংলাদেশ। এর আগে তারা গ্রুপপর্বে টানা জয় পেয়েছিল এবং কোনো গোল হজম করেনি। এবার সেমিফাইনালেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলো ছোটনের দল।
২৭ সেপ্টেম্বর কলম্বোতেই অনুষ্ঠিত হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। প্রতিপক্ষ হবে ভারত বা নেপাল — এই দুই দলের মধ্যকার সেমিফাইনালের জয়ী।

বাংলাদেশের পূর্ববর্তী সাফল্য

দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ বরাবরই অন্যতম ধারাবাহিক দল। সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ (পূর্বে অনূর্ধ্ব-16 নামে পরিচিত) চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ এর আগে দুইবার শিরোপা জিতেছে।

  • ২০১৫ সালে সিলেটে আয়োজিত আসরে প্রথমবারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে লাল-সবুজরা। ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বাংলাদেশ আলোচিত সাফল্য পায়।
  • এরপর ২০১৮ সালে নেপালের ললিতপুরে অনুষ্ঠিত আসরে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনালে পাকিস্তানকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরে দল।

এই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী যুব দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আর এবার কলম্বোতে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে ওঠা তাদের সেই সাফল্যের ইতিহাসকেই আরও সমৃদ্ধ করল।

সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ: ভারত বা নেপাল

ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে ভারত বা নেপাল—দুই দলই দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে ঐতিহ্যশালী।

  • ভারত বয়সভিত্তিক ফুটবলে সবচেয়ে সফল দল। বহুবারের সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ শিরোপাজয়ী তারা। ভারতীয় কিশোররা শারীরিক গঠন, গতি এবং টেকনিক্যাল খেলার জন্য পরিচিত। বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বৈরথ সবসময়ই উত্তেজনা ছড়ায়, তাই ফাইনালে ভারত আসলে ম্যাচটি হবে মর্যাদার লড়াই।
  • অন্যদিকে নেপাল নিজেদের মাঠে সবসময় ভালো খেলে, তবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও তাদের দলগত খেলা এবং ফাইটিং স্পিরিট শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে। বাংলাদেশের বিপক্ষে নেপাল ঐতিহাসিকভাবেই চ্যালেঞ্জিং প্রতিপক্ষ, কারণ তারা রক্ষণ থেকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে দক্ষ।

শিরোপা লড়াইয়ের চিত্র

২৭ সেপ্টেম্বর কলম্বোর রেসকোর্স আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচে দেখা যাবে দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ ফুটবলারদের সেরা প্রদর্শনী। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে গোল হজম করেনি। তাই রক্ষণভাগের এই দৃঢ়তা এবং শুরুর মিনিটেই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সামর্থ্যই হবে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
অন্যদিকে ভারত বা নেপাল যেই প্রতিপক্ষ হোক না কেন, তাদের শক্তি হবে আক্রমণাত্মক খেলা। ফাইনাল ম্যাচ তাই হবে রক্ষণ ও আক্রমণের কৌশলগত লড়াই।

বাংলাদেশের লক্ষ্য এবার তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয় করে সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলের ইতিহাসে নিজেদের আধিপত্য আরও পোক্ত করা।

দক্ষিণ এশীয় কিশোরদের লড়াইয়ে বাংলাদেশ শীর্ষে

সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করছে—এ অঞ্চলের বয়সভিত্তিক ফুটবলে তারা অন্যতম শক্তিশালী দল। ফাইনালে প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলিত ফুটবল ধরে রাখতে পারলে লাল-সবুজেরা আবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।

spot_img