গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা বোমাবর্ষণে নতুন করে অন্তত ৯১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া হামলায় শুধু গাজা সিটিতেই প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৭৬ জন। অবরুদ্ধ এই নগরীটি দখল করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল, ফলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গোটা শহরের জনগণকে জোরপূর্বক উৎখাতের চেষ্টা চলছে।
গাজা সিটির তুফ্ফাহ এলাকায় একটি ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত হন। পশ্চিমাংশের শাতি শরণার্থী ক্যাম্পে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে দু’জন শিশু কন্যা। অ্যাম্বুলেন্স কর্মীরা নিশ্চিত করেছেন—বাসাবাড়ি ও শরণার্থী শিবিরগুলো এখন সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছে, গত দুই সপ্তাহে গাজা সিটিতে অন্তত ২০টি বহুতল ভবন ধ্বংস করা হয়েছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স বলছে, শহরের প্রায় অর্ধেক মানুষ—অর্থাৎ সাড়ে চার লাখ বাসিন্দা—আগস্টে দখলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকে পালিয়ে গেছে।
তবে পালানোর সময়ও নিরাপত্তা নেই। আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খোদারি জানিয়েছেন, সেনারা কোয়াডকপ্টার ও রোবোটিক বিস্ফোরক ব্যবহার করে পালাতে থাকা মানুষকে লক্ষ্য করছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিটি বিস্ফোরণ ভূমিকম্পের মতো কাঁপুনি তৈরি করছে।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস শনিবার প্রকাশ করেছে বন্দি ৪৮ ইসরায়েলির একটি তথাকথিত “বিদায়ী ছবি”। তারা সতর্ক করেছে—বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযান জোরদার হলে বন্দিদের জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে। হামাস দাবি করছে, বন্দিরা গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে রাখা হয়েছে।
গাজার দক্ষিণেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। রাফাহ শহরের কাছে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে সহায়তা নিতে গিয়ে ইসরায়েলি গুলিতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। আর ইসরায়েলের ঘোষিত “নিরাপদ অঞ্চল” আল-মাওয়াসি এখন এতটাই জনাকীর্ণ যে সেখানকার মানুষ রাস্তাঘাটের পাশে তাঁবু গেড়ে বসবাস করছেন।
আল জাজিরার খোদারি জানাচ্ছেন, সেখানে নেই পানি, নেই বিদ্যুৎ, নেই কোনো অবকাঠামো। চিকিৎসা সেবা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)-এর কর্মী মিখাইল ফোতিয়াদিস বলেছেন, “এলাকায় তাঁবু টাঙানোর জায়গা নেই, উপকরণও নেই। পানির প্রবল সংকট। যারা উত্তর দিক থেকে পালিয়ে আসছে, তারা কিছুই সঙ্গে আনতে পারেনি।”
তিনি আরও বলেন, “বেঁচে থাকার জন্য সাধারণত মানুষ শেষ চেষ্টা করে। কিন্তু গাজার মানুষকে বারবার উৎখাত ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আজ তারা হতাশার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।”
গাজা উপত্যকার বর্তমান বাস্তবতা শুধু যুদ্ধ নয়, বরং মানবিক বিপর্যয়ের এক ভয়াল ছবি। মৃত্যু, ধ্বংস আর দুর্ভিক্ষের ছায়ায় সেখানে প্রতিদিনই গভীরতর হচ্ছে হতাশা।

