নিউ ইয়র্ক সফরে বিএনপির প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন

দুর্বল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সাংগঠনিক ভঙ্গুরতায় ডুবছে বিএনপি; ফায়দা তুলছে ইউনূস-জামায়াত; ১৬ বছরের উন্নয়ন ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিউ ইয়র্ক সফর নিয়ে দেশে-বিদেশে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ চলছে। এ সফর বিএনপির কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ালেও বাস্তবে এর ফায়দা কুড়োচ্ছে জামায়াত ইসলামী, এনসিপি এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিএনপি বরং তাদের ছায়াতলে অবস্থান করছে। ফলে আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সম্ভাব্য চিত্র এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এই সফরের প্রভাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সম্ভাব্য চিত্র

আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় বাধা তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু এবং ঢাকার অদূরে জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভরাডুবি বিএনপির মাঠ পর্যায়ের ভঙ্গুর বাস্তবতাকে প্রমাণ করেছে। এ অবস্থায় নির্বাচনে বিএনপি মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং সহযাত্রী দল হিসেবেই প্রতিফলিত হচ্ছে।

যদি নির্বাচন সময়মতো না হয়, বা স্থগিত হয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও বিএনপি নয়, বরং জামায়াত ও এনসিপিই বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য দেবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল বিএনপিকে স্বাধীন শক্তি হিসেবে নয়, বরং ইউনূস-জামায়াত জোটের সহযাত্রী হিসেবে দেখছে। পশ্চিমা কূটনীতিক মহলও ইউনূসকে ঘিরেই রাজনৈতিক আলোচনার ফোকাস রাখছে। এতে বিএনপির আন্তর্জাতিক পরিচয় আরও দুর্বল হচ্ছে।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা

বিএনপির ভেতরে নেতৃত্বের সংকট এবং সাংগঠনিক ভাঙন প্রকট। ছাত্রদল-যুবদলের বিভাজন, মাঠ পর্যায়ের দুর্বল সংগঠন, আর লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের ওপর অতিনির্ভরতা দলটিকে আরও অকার্যকর করেছে। এ অবস্থায় বিএনপি জনআস্থা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে।

দস্তগীর জাহাঙ্গীর

কেন শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে

অরাজক পরিস্থিতির মাঝেও মানুষ ক্রমশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দিকেই তাকিয়ে আছে। কারণগুলো হলো:

  • বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব — নেতৃত্বহীনতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বিএনপি জনগণের কাছে বিকল্প শক্তি নয়।
  • জামায়াতের পুনরুত্থান — অন্তর্বর্তী সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় জামায়াত রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পুনরুত্থান মানুষকে আতঙ্কিত করছে।
  • ইউনূসের শাসনব্যবস্থা — দেশে প্রতিদিন হত্যাকাণ্ড, বিচারহীনতা, মব সন্ত্রাস চলছে। সংখ্যালঘু থেকে রাজনৈতিক বিরোধীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বাংলাদেশ যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।
  • শেখ হাসিনার উন্নয়নশীল নেতৃত্ব — একাধারে ১৫ বছর ৭ মাস ৫ দিনের শাসনামলে দেশ অভূতপূর্ব উন্নয়নের সাক্ষী হয়েছে।
  • অর্থনৈতিক সূচক: ধারাবাহিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬–৭% এর উপরে ছিল। ২০২২ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছিল। তৈরি পোশাক রপ্তানি ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
  • নারীর ক্ষমতায়ণ: প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের ভর্তি হার ৯৮%। নারী শ্রমশক্তি অংশগ্রহণ ৪০% এর বেশি।
  • নিরাপত্তা ও জঙ্গিবাদ দমন: হোলি আর্টিজান হামলার পর জঙ্গি নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে। সাইবার জঙ্গিবাদ মোকাবেলায়ও সফলতা এসেছে।
  • অবকাঠামো উন্নয়ন: পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল—সবই বাংলাদেশকে উন্নয়নের নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছে।
  • সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি: ৭৫ লাখ প্রবীণ, ৪৯ লাখ বিধবা ও পরিত্যক্ত নারী, এবং লাখ লাখ প্রতিবন্ধী সরকারি ভাতা পাচ্ছেন। উপসংহার

ফখরুলের নিউ ইয়র্ক সফর বিএনপির জন্য কূটনৈতিকভাবে প্রতীকী হলেও রাজনৈতিকভাবে প্রায় শূন্য। এ সফরের প্রকৃত ফায়দা তুলছে জামায়াত, এনসিপি এবং ড. ইউনূস। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ণ, সামাজিক সুরক্ষা ও জঙ্গিবাদ দমন বাংলাদেশকে আজ দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হচ্ছে শেখ হাসিনার প্রতি, যিনি বারবার প্রমাণ করেছেন তিনিই সংকটকালে সবচেয়ে পরীক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব।

spot_img