সিলেট ও মৌলভীবাজারে হেফাজতে দুই মৃত্যু; আসকের উদ্বেগ

সিলেট ও মৌলভীবাজারে হেফাজতে মৃত্যু মানবাধিকার লঙ্ঘন, জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান জানালো আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সিলেট ও মৌলভীবাজারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, এ ধরনের মৃত্যু শুধু নাগরিকের নিরাপত্তা অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহির ঘাটতিকেও প্রকাশ করছে।

সিলেটে র‍্যাব হেফাজতে মৃত্যু

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর তানভীর চৌধুরী (২৪) নামের এক যুবককে র‍্যাব-৯ সদস্যরা গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে র‍্যাব অফিসে নেওয়া হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। র‍্যাব কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তানভীর গলায় কম্বল পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

মৌলভীবাজারে পিবিআই হাজতে লাশ

এ ঘটনার মাত্র একদিন পর, ১৫ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর হাজতখানার ভেতরে মো. মকদ্দুছ মিয়া (৫০) নামের এক আসামির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।

আসকের উদ্বেগ ও সমালোচনা

আসক তাদের বিবৃতিতে বলেছে, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা বারবার ঘটছে। প্রতিটি মৃত্যু সরাসরি মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর জবাবদিহির অভাবকে ফুটিয়ে তোলে।”

সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, এ ধরনের ঘটনায় প্রমাণ সংগ্রহের সঠিক প্রক্রিয়া অনেক সময়ই নিশ্চিত হয় না। পুলিশের হেফাজতে সিসিটিভি ক্যামেরার অনুপস্থিতির অজুহাত প্রায়ই শোনা যায়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

স্বাধীন তদন্তের দাবি

আসক মনে করে, হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অপরিহার্য। যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন

আসক তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, “হেফাজতে মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নাগরিকের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব, আর তা মানবাধিকারের মৌলিক শর্ত।”

এই দুটি মৃত্যুর ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা হারাবে, যা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

spot_img