বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ৩৮১ জন শিক্ষকের যৌথ বিবৃতি

গ্রেফতারকৃত শিক্ষকদের নিঃশর্ত মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, চাকরিচ্যুতি ও সাময়িক বহিষ্কার বাতিল এবং শিক্ষকদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক অধিকার পুনর্বহাল।

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ আজ চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জাতি গঠনের কারিগর শিক্ষকরা অন্যায়ভাবে গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তরুণ প্রভাষক থেকে শুরু করে বর্ষীয়ান অধ্যাপক পর্যন্ত অনেককে একাডেমিক, প্রশাসনিক ও গবেষণা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হচ্ছে, বহিষ্কার করা হচ্ছে এবং গ্রেফতার করে জেলে প্রেরণ করা হচ্ছে—যা এক অকল্পনীয় ও দুঃখজনক বাস্তবতা।

আইনের তোয়াক্কা না করে অসংখ্য শিক্ষককে একাডেমিক শাস্তি, সামাজিক বয়কট, ট্যাগিং ও মানসিক নিপীড়নের শিকার করা হচ্ছে। এটি শুধু শিক্ষক সমাজের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য অপমানজনক ও মর্যাদাহানিকর।

বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তা, ভিন্নমত ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্র। অথচ সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে দেখা যাচ্ছে, প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন করা হচ্ছে, যা ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।

শিক্ষকদের কণ্ঠরোধ করতে ‘মব কালচার’-এর সৃষ্টি, প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ ও নীরব পৃষ্ঠপোষকতা পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলছে। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর এ ধরনের দমনপীড়ন নজিরবিহীন। এটি ব্যক্তি-অধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি দেশের শিক্ষা, চিন্তা ও গবেষণার পরিবেশকে ধ্বংস করছে।

ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি জাতীয় সংগ্রামে শিক্ষকরা রক্ত, কলম ও কণ্ঠ দিয়ে লড়াই করেছেন। তাদের রক্তে স্বাধীনতার দাম, বুদ্ধিবৃত্তির স্বাধীনতা ও মানবতার জয় লুকিয়ে আছে। তাই শিক্ষক সমাজকে দমন করার যে কোনো প্রচেষ্টা দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

আমাদের দাবিসমূহ:

১. অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত, অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, অধ্যাপক শিবলী রুবায়েতুল ইসলাম, অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, সহযোগী অধ্যাপক মো. শরিফুল ইসলামসহ সকল গ্রেফতারকৃত শিক্ষকের নিঃশর্ত মুক্তি।

২. শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার।

৩. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ যেসব শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের চাকরিচ্যুতি বাতিল করে অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহাল।

৪. সারাদেশে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত অর্ধশতাধিক শিক্ষকদের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে দ্রুত যোগদানের সুযোগ প্রদান।

৫. যেসব শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বেআইনি ও অনৈতিকভাবে বিরত রাখা হয়েছে, তাদের পূর্ণ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।

৬. শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সকল মত ও পথের শিক্ষকদের সহাবস্থান নিশ্চিত করা।

৭. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
8.

spot_img