বাংলাদেশের মাটিতে রোহিঙ্গা প্রশিক্ষণ কি পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক খেলা?

ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ

চৌধুরী মুজাহিদুল হক সৌরভ

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ময়মনসিংহের একটি সামরিক কমপ্লেক্সকে এই প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে রোহিঙ্গাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই কর্মকাণ্ডের পেছনে পাকিস্তানের গভীর ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে ভারতকে অস্থিতিশীল করা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের সামরিক কমপ্লেক্সটি রোহিঙ্গা প্রশিক্ষণের অন্যতম সক্রিয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এছাড়া, কক্সবাজার ও বাগেরহাটের বিভিন্ন গোপন আস্তানাতেও এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (RSO) এবং আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (ARSA)-র মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতে অস্ত্রধারী যোদ্ধাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা প্রশিক্ষণের বিষয়টিকেই সমর্থন করে।

এরই মধ্যে, গত ২৯ জুলাই পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধি দলের টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত পুরো এলাকা পরিদর্শনের ঘটনাটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও তাদের সঙ্গে ছিলেন, যা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মূল উদ্দেশ্য রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোয় সহায়তা করা নয়, বরং বাংলাদেশকে একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে ভারতের পূর্বাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করা।

এই ধারণাকে আরও জোরালো করে দ্য ইকোনমিস্ট-কে দেওয়া এক পাকিস্তানি জেনারেলের মন্তব্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই জেনারেল বলেন, “আমরা পূর্ব দিক থেকে শুরু করব।” এই উক্তিটি বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্যই বড় হুমকি নয়, বরং পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে, যেখানে বাংলাদেশ অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি বড় শক্তির খেলার গুটি হয়ে উঠতে পারে।

লেখক: চৌধুরী মুজাহিদুল হক সৌরভ
পিএইচডি ফেলো, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এণ্ড জিওপলিটিক্স,
হুনান ইউনিভার্সিটি।

spot_img