অনির্দিষ্টকালের গণছুটিতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীরা

কর্মসংস্থানে বৈষম্য ও প্রশাসনিক হয়রানির প্রতিবাদ—পুনর্বহাল, নিয়মিতকরণ ও দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপের দাবি

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চাকরির বৈষম্য ও হয়রানির প্রতিবাদে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণছুটিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন সমিতির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহ-দপ্তর সম্পাদক অঞ্জু রানী মালাকার অভিযোগ করেন, সরকার বারবার সমাধানের আশ্বাস দিলেও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মীদের চাকরিচ্যুতি, বদলি ও বরখাস্ত করে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে মাঠপর্যায়ে চরম ক্ষোভ জমেছে।

তাদের দাবি চারটি—
১. পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একীভূত করতে হবে, অথবা অন্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির মতো কোম্পানি গঠন করতে হবে। সব চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে স্থায়ী করতে হবে, মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে, চাকরিচ্যুতদের আবার কাজে ফিরিয়ে নিতে হবে।
২. ১৭ আগস্ট থেকে যাদের বরখাস্ত বা বদলি করা হয়েছে, তাদের আদেশ বাতিল করতে হবে।
৩. জরুরি সেবার লাইন কর্মীদের কাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে এবং যেসব লাইনকর্মী অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি, তাদের পুরোনো কর্মস্থলে ফেরাতে হবে।
৪. পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের আন্দোলন ক্রমেই জোরদার হয়েছে। মানববন্ধন, সিট-ইন, স্মারকলিপি দেওয়ার পরও সমাধান না হওয়ায় এবার তারা গণছুটির মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করলেন।

বিদ্যুৎ কর্মীদের এই অসন্তোষ পুরো সেক্টরকে সংকটে ফেলতে পারে। আন্দোলন দীর্ঘ হলে গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে মনে করা হচ্ছে।

সরকার বলছে, এই আন্দোলন পল্লী বিদ্যুতের সব কর্মীকে প্রতিনিধিত্ব করে না। পরিস্থিতি সমাধানে ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তবে কর্মীরা বলছেন, শুধু কমিটি করলেই হবে না, তাদের দাবি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

spot_img