তিন দাবিতে শাহবাগ অবরোধ করেছে প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা

বুয়েট ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবরোধে যানজটে স্থবির; নবম–দশম গ্রেড, পদবি-ব্যবহার ও BAETE নিয়ে বিতর্ক

ঢাকা | ২৬ আগস্ট ২০২৫ — ডিপ্লোমাধারীদের নামে ‘প্রকৌশলী/ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, নবম গ্রেডে (সহকারী প্রকৌশলী সমমান) কোটাভিত্তিক পদোন্নতির বিধান বন্ধ এবং টেকনিক্যাল দশম গ্রেডে (উপসহকারী প্রকৌশলী সমমান) বিএসসি ও ডিপ্লোমা—উভয়ের জন্য উন্মুক্ত নিয়োগ পরীক্ষার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও কয়েকটি বেসরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেলা ৩টার পর শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগের সংযোগমুখে অবস্থান নেন; ফলে চারদিকের রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়ে। শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর জানিয়েছেন, ”মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে শুরু হওয়া অবরোধে এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গণপরিবহণগুলো বিকল্প রুটে ঘোরানো হয়।”

আন্দোলনকারীদের দাবি, রংপুরে এক স্নাতক প্রকৌশলীকে আটক রেখে হুমকি দেওয়া হয়; এ ঘটনায় মামলা হলেও গ্রেপ্তার হয়নি। এই অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় ঢাকায় কর্মসূচি কঠোর হয়।

দাবি কী কী

আন্দোলনকারীদের তিন দফা—
১) নবম গ্রেড/সহকারী প্রকৌশলী সমমান—সবাইকে প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে; ন্যূনতম বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি আবশ্যক। কোনো কোটাভিত্তিক পদোন্নতি নয়; সমমানের নতুন পদ বানিয়ে পদোন্নতিও নয়।
২) দশম গ্রেড/উপসহকারী প্রকৌশলী সমমান—নিয়োগ পরীক্ষা ডিপ্লোমা ও বিএসসি উভয়ের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
৩) পদবির ব্যবহার ও মান নিশ্চিতকরণবিএসসি ডিগ্রি ছাড়া ‘প্রকৌশলী/ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি ব্যবহারে আইনি ব্যবস্থা; নন-অ্যাক্রেডিটেড বিএসসি প্রোগ্রাম দ্রুত BAETE/IEB মান্যতায় আনা। (BAETE হলো দেশের প্রকৌশল প্রোগ্রামের স্বীকায়ন সংস্থা; চার বছর মেয়াদি প্রোগ্রাম মানদণ্ড পূরণ করলেই কেবল তাদের অ্যাক্রেডিটেশন মেলে।)

কেন এই টানাপোড়েন

সরকারি প্রকৌশল নিয়োগ কাঠামোয় নবম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলী এবং দশম গ্রেডে উপসহকারী/সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট পদ চলে আসছে বহু দিন ধরে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অফিসিয়াল নথিতে (ম্যানেজমেন্ট ম্যানুয়াল) পদগুলোর দায়িত্ব বর্ণনা ও স্তরবিন্যাস আছে—যা দেখায়, মাঠপর্যায়ে সার্ভে-সুপারভিশন ধাঁচের কাজে দশম গ্রেডের ভূমিকা এবং নকশা-তদারকি-প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় নবম গ্রেডের নেতৃত্বগত ভূমিকা আলাদা। শিক্ষার্থীদের যুক্তি, এই স্তরবিন্যাস বজায় না রেখে কোটায় পদোন্নতি বা সমমানের নতুন পদ বানিয়ে নবম গ্রেডে উন্নীত করা হলে মেরিটভিত্তিক প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আইইবি (Institution of Engineers, Bangladesh)–এর বিধিমালায় সদস্যপদ/গ্রেড ছাড়া সংশ্লিষ্ট উপাধি ব্যবহারযোগ্য নয়—এমন সতর্কবার্তা আছে; শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি ব্যবহারে আইনি শৃঙ্খলা না থাকলে পেশাগত পরিচয়ে বিভ্রান্তি ও মানের ক্ষয় হয়। (iebbd.org)

অ্যাক্রেডিটেশন ও জনস্বার্থ

দেশে প্রকৌশল শিক্ষার মানদণ্ড নির্ধারণে BAETE-র স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ। চার বছর মেয়াদি স্নাতক প্রোগ্রাম, গণিত-বিজ্ঞানভিত্তিক কারিকুলাম ও ল্যাব-ইন্ডাস্ট্রি-লিঙ্কেজ পূরণ করলেই প্রোগ্রাম অ্যাক্রেডিট হয়—তাই নিয়োগে BAETE- বিবেচনার দাবি তুলছেন শিক্ষার্থীরা। আন্তর্জাতিকভাবে অ্যাক্রেডিটেশন প্রোগ্রামভিত্তিক—প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নয়—এ কথাও তাঁরা তুলে ধরছেন।

শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন—তিন দফা বাস্তবায়ন, হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তার ও খোলা প্রতিযোগিতাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে; পেশাজীবী সংগঠনগুলোর কাছ থেকেও সংলাপ ও মানসম্মত সমাধান প্রত্যাশিত।

spot_img