ঢাকা | ২৬ আগস্ট ২০২৫ — রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মের পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শ্যামলী (৩০) নামে এক নারীকে হত্যার অভিযোগে তার প্রেমিক সুজনকে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)।
প্রেমের সম্পর্কে অবনতির জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। শ্যামলী নাটোরের বাসিন্দা; তিনি ঢাকার আজিমপুর এলাকায় থাকতেন। আটক সুজনের বাড়ি পাবনায়। ঘটনাটি সোমবার রাত ১১টার দিকে ঘটে; রাত ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল ও উদ্ধার
ঢাকা রেলওয়ে থানা (কমলাপুর) সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ প্ল্যাটফর্ম ৭-এর পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় শ্যামলীকে উদ্ধার করে ঢামেকে পাঠায়। তার মুখমণ্ডল ও গলায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই সন্দেহভাজন সুজনকে আটক করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী তথ্য ও প্রাথমিক তদন্ত
পুলিশের ভাষ্য, সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে প্ল্যাটফর্মের ভেতরেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল—দুই জায়গা থেকেই তদন্তের জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার শুরুতে কিছু গণমাধ্যমে নারীকে ‘অজ্ঞাতনামা’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
স্টেশনের নিরাপত্তা: কথায় কড়া, কাজে ঢিলা?
ঈদ বা ভিড়ের সময় কমলাপুরে ‘থ্রি-লেভেল’ নিরাপত্তা, ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি, এবং জিআরপি, আরএবি, এপিবিএন, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বিত মোতায়েনের কথা সরকারিভাবে বহুবার জানানো হয়েছে।
তবু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একই স্টেশনে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে—এর মধ্যে গত মাসে রংপুর এক্সপ্রেসের টয়লেটে ধর্ষণের অভিযোগে এক রেলকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ফলে, সিসিটিভি ও জনবল থাকার পরও বাস্তবিক প্রতিরোধ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠল।
‘আগস্ট’—অস্থিতিশীলতার জানালা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আগস্টকে বারবার মোড় ঘোরানো মাস হিসেবে দেখা হয়। এই সময়ে রাষ্ট্রবিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চক্র অতীতে নানাভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছে—এমন ধারণা জনমানসে প্রবল। গত বছরের আগস্টে সেনাবাহিনী ও ইসলামপন্থী গ্রুপগুলোর সহায়তায় শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের লোকজনকে খতমের জন্য মব ক্রাইমকে উৎসাহ দিয়েছে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে জনসমাগমস্থলে যেকোনো সহিংসতা কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; আইনশৃঙ্খলা দুর্বল করে সামাজিক আতঙ্ক ছড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও তা বিবেচিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে অপরাধ দমন, দ্রুত চার্জশিট ও দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করা—নিরাপত্তা কাঠামোর প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে জরুরি।

