ছাত্রলীগ ছাড়াই একতরফা ডাকসু নির্বাচন; ২৮ পদে ৬৫৮ প্রার্থী

সময় বাড়ানো, ‘মব’ বাধার অভিযোগে তদন্ত—ছয় বছর পর ক্যাম্পাস রাজনীতির বড় পরীক্ষা

ছয় বছর পর আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন হতে যাচ্ছে ৯ সেপ্টেম্বর। ২৮টি পদে ৬৫৮টি মনোনয়ন ফরম কেনা হয়েছে; হল সংসদে বিক্রি হয়েছে ১,৪২৭ ফরম। দেশের বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে বাইরে রেখে একতরফাভাবে এই নির্বাচন আয়োজন হচ্ছে।

শেষ মুহূর্তে ফজিলাতুননেছা মুজিব হলে মনোনয়ন তুলতে “মব” বাধার অভিযোগ উঠলে নির্বাচন কমিশন একদিন সময় বাড়িয়েছে এবং সহকারী প্রক্টর মো. রাবিউল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পক্ষপাতের অভিযোগ নাকচ করেছে।

প্যানেল গঠনে টানাপোড়েন

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে আজ বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ইতিমধ্যে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রয়েছেন ৩৯,৭৭৫ জন—২০,৮৭৩ ছাত্র ও ১৮,৯০২ ছাত্রী।

এখন পর্যন্ত ছাত্রদল পূর্ণাঙ্গ প্যানেল চূড়ান্ত করতে পারেনি; ইসলামী ছাত্রশিবির ২৮ সদস্যের পূর্ণ প্যানেল দিয়েছে; বামধারার গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট (প্রতিরোধ পরিষদ) আংশিক প্যানেল ঘোষণা করেছে; স্বতন্ত্ররাও মাঠে। সময় বাড়ানোয় “বিশেষ সুবিধা” দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে কয়েকটি সংগঠন—প্রশাসন বলছে, “অধিকার প্রয়োগে সমান সুযোগ” নিশ্চিত করতেই সিদ্ধান্ত।

ছাত্রলীগ ছাড়া নির্বাচন

ডাকসুর এই নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনকে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। সর্বশেষ ২০১৯-এর ডাকসুতে বেশির ভাগ পদ জিতেছিল ছাত্রলীগ।

গত বছর চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা বাতিলের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় আওয়ামী লীগকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর নির্মম দমননীতি সুরু করে।

মব লেলিয়ে দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগৈর অনেক নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়। অনেক স্থানে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর লুটপাট করে আাগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ছাত্রলীগের কর্মীদের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিয়ে তাদের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়।

আর ২৩ অক্টোবর ২০২৪ দেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শক্তি বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তবর্তী সরকার। এমন একটি পরিস্থিতিতে একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতির ‘দ্বিতীয় সংসদ’ নামে পরিচিত ডাকসু’র নির্বাচন।

ভোট হবে হলের বাইরে ৬ কেন্দ্রে

এই প্রথম ভোটাররা হলে নয়, ক্যাম্পাসের ৬টি নিরপেক্ষ কেন্দ্রে ব্যালট দেবেন—কার্জন হল পরীক্ষা কেন্দ্র, টিএসসি, ডিইউ ক্লাব, সিনেট ভবন, ফিজিক্যাল এডুকেশন সেন্টার, উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ইত্যাদি। ভোট হবে সকাল ৮টা থেকে ৩টা। প্রাথমিক প্রার্থিতার তালিকা ২১ আগস্ট (দুপুর ১টা); প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২৫ আগস্ট (দুপুর ১টা); চূড়ান্ত তালিকা ২৬ আগস্ট (বিকেল ৪টা)—তফসিল বলছে।

spot_img