মিয়ানমারের রাখাইনে আরাকান আর্মি (এএ), রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এ প্রেক্ষাপটে টেকনাফের বিপরীত তীরে—জালিয়া দ্বীপের সামনে লালদ্বীপ এলাকাসহ—নাফ নদীর ওপারে ৩০০–৪০০ রোহিঙ্গা জড়ো হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতারা।
নজরদারির কথা বলা হলেও প্রতিদিন অনেক শরণার্থী বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রবেশ করছেন বলে রোহিঙ্গা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকেও উঠেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের মানচিত্র বদলে গেছে
গত এক বছরে আরাকান আর্মি রাখাইনের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিলেও নতুন বাস্তবতা কোন দিকে যাচ্ছে বলা মুস্কিল। রাখাইনের ১৭টির মধ্যে কমপক্ষে ১৪টি টাউনশিপ আরাকান আর্মি দখলে নিলেও পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে বলে সূত্রগুলো জানাচ্ছে।
মংডু, বুথিডংসহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে বিমান ও ড্রোন হামলা বেড়েছে। জানুয়ারিতেও রাখাইনে সেনাবাহিনীর হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে বেসামরিকদের বাংলাদেশ সীমান্তমুখী স্রোত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। (সূত্র: Jamestown, CSIS, Reuters)
রোহিঙ্গা শিবিরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য, সমুদ্র উত্তাল থাকায় নৌকা চলাচল কার্যত বন্ধ; সীমান্তে কড়া টহল থাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশও নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প–২৭-এর নেতা মোহাম্মদ কামাল বলেনছে, “প্রতিদিন অল্পসংখ্যক মানুষ ঢুকে পড়ছে; নাফের ওপারে লালদ্বীপ এলাকায় তিন শতাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন।”
সীমান্তে ছিটকে পড়া সহিংসতা
গত সপ্তাহে বান্দরবানের নাইখ্যংছড়ি–ঘুমধুম সীমান্ত থেকে একজন সশস্ত্র আরাকান আর্মি সদস্যকে আটক করার কথা জানিয়েছে বিজিবি—যা সীমান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির দিকটিও দেখায়।
বাংলাদেশে আশ্রয়–সঙ্কট ও তহবিল ঘাটতি
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, বাংলাদেশের কক্সবাজার ও ভাসানচরে বর্তমানে ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রিত। ২০২৫ সালে বড় ধরনের তহবিল ঘাটতির কারণে খাদ্য ও সেবায় কাটছাঁট হওয়ায় বিপন্নতা বাড়ছে; সমুদ্রে প্রাণঘাতী নৌযাত্রাও বেড়েছে বলে সতর্ক করেছে ইউএনএইচসিআর ও জাতিসংঘ। (সূত্র: UNHCR Data Portal, AP News)
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে রাখাইনের দ্রুত পালাবদল, অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন—এই দ্বিমুখী সংকটে সীমান্ত–নীতি নির্ধারণ কঠিন হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার প্রস্তুতি জোরদারের পাশাপাশি সীমান্তে জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা রাখতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আহ্বান জানাচ্ছে।

