দুই সপ্তাহের মধ্যে পুতিন–জেলেনস্কি বৈঠক: জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎস

নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ইঙ্গিত; ইউরোপের যুদ্ধবিরতির দাবি

যুদ্ধ থামানোর জন্য দুই সপ্তাহের মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ড ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠক হওয়ার ব্যাপারে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুতিনকে ফোন করার পর এই অগ্রগতি হয়েছে বলে মিডিয়াকে জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। বৈঠকের স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনকে যুদ্ধোত্তর নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে সহায়তা করবে বলে ইঙ্গিত দেন—যা জেলেনস্কি “বড় অগ্রগতি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী ইউক্রেনে মোতায়েনের সম্ভাবনায় মস্কো ইতোমধ্যেই আপত্তি জানিয়েছে। হাঙ্গেরি সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে আলোচনায় রয়েছে, যদিও ক্রেমলিন প্রকাশ্যে পূর্ণ সম্মতি নিশ্চিত করেনি।

বিরতি না সমান্তরাল আলোচনা—ইউরোপ–আমেরিকার ফারাক

ইউরোপীয় নেতারা (মের্ৎস ও ম্যাক্রোঁসহ) মুখোমুখি আলোচনার আগে যুদ্ধবিরতির পক্ষে। কিন্তু আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্পের অবস্থান কিছুটা ঘুরেছে—তিনি বলছেন, যুদ্ধবিরতি না হলেও সমান্তরালভাবে সর্বসম্মত শান্তিচুক্তির আলোচনায় এগোনো যেতে পারে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ আলোচনায় নেই; বরং ‘আর্টিকেল-৫ সদৃশ’ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে কথা হচ্ছে। (-রয়টার্স)

ভূখণ্ড ছাড় নয়—‘ফ্লোরিডা ছেড়ে দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা

ডনবাসের অবশিষ্ট মুক্ত অংশ ছেড়ে দেওয়ার মতো চাপে কিয়েভকে রাখা যাবে না—এ কথা স্পষ্ট করে মের্ৎস তুলনা টানেন, “এটা যেন যুক্তরাষ্ট্রকে ফ্লোরিডা ছেড়ে দিতে বলা।” ইউরোপে ‘ভূমি দিয়ে শান্তি’ ফর্মুলা নিয়ে যে উদ্বেগ আছে, তারই প্রতিফলন এই মন্তব্যে।

শান্তিরক্ষী বাহিনী কি যাবে?

ডিডাব্লিউ-এর ওয়াশিংটন ব্যুরো চিফ ইনেস পোল জিজ্ঞেস করলে মের্ৎস বলেন, ইউরোপ অবশ্যই সম্পৃক্ত থাকবে; কিন্তু কারা যাবে, কতটা পরিসরে যাবে—তা অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়। জার্মান বাহিনী পাঠাতে হলে বুন্ডেসটাগের অনুমোদন দরকার হবে। অন্যদিকে, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ন্যাটোর কোনো শান্তিরক্ষী উপস্থিতি সাফ নাকচ করেছে।

সামনে কী

পুতিন–জেলেনস্কি বৈঠক হলে ট্রাম্প নিজেকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন। বাজার ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য সমঝোতার প্রভাব কষছে; তবে যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই অব্যাহত, আর ক্রেমলিনের বক্তব্যও দ্ব্যর্থ—ফলে দ্রুত কোনো ব্রেকথ্রুর নিশ্চয়তা নেই। ২০২২ সালের রুশ আগ্রাসনের পর থেকে লক্ষাধিক মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন; অবকাঠামো ধ্বংসে ইউক্রেনের বহু অঞ্চল বিপর্যস্ত।

spot_img