ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০২৫ — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গণপিটুনির শিকার হওয়া রিকশাচালক আজিজুর রহমানকে এবার গত বছরের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার আজিজুরকে ঢাকা মহানগর হাকিম ইসরাত জেনিফার জেরিনের আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, গত বছরের ৪ আগস্ট ধানমন্ডির সায়েন্স ল্যাব এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ধানমন্ডি ৩২–এর ঘটনা
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গেলে স্থানীয় সরকার–সমর্থক কিছু লোক তাঁকে মারধর করে। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মামলার বাদী আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, গত বছরের ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে আজিজুরকে হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অন্তত ৩১৮ জন নিহত হন বলে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে। শেখ হাসিনার পতনের পর গঠিত সেনা–সমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ–সমর্থকদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির অভিযোগ বেড়েছে।
বিতর্কিত বিচার প্রক্রিয়া
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, আজিজুরের মতো সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দেশের বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা বলছেন, শোক দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া একজন সাধারণ রিকশাচালককে হত্যাচেষ্টা মামলায় জড়ানো প্রমাণ করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কতটা ভঙ্গুর।
বিশ্লেষকদের মতে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার পালাবদল বাংলাদেশে বিচার ও রাজনীতির সীমারেখাকে আরও ঘোলাটে করেছে। ফলে শোক, প্রতিবাদ কিংবা গণআন্দোলন—সবকিছুই এখন রাজনৈতিক প্রতিশোধের অজুহাত হয়ে উঠছে।

