নেতানিয়াহুর ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ মন্তব্যে আরব-ইসলামি বিশ্বের ক্ষোভ

পশ্চিম তীরে নতুন বসতি পরিকল্পনা দুই-রাষ্ট্র সমাধানকে ‘সমাধিস্থ’ করবে—সতর্কবার্তা

জেরুজালেম, ১৬ আগস্ট ২০২৫ — ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তথাকথিত “গ্রেটার ইসরায়েল” বা “বৃহত্তর ইসরায়েল” প্রতিষ্ঠার ধারণার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এ ঘটনায় আরব ও ইসলামি দেশগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের শামিল এবং সরাসরি আরব জাতির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি।

নেতানিয়াহুর বক্তব্য

ইসরায়েলের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক নেতানিয়াহুকে জিজ্ঞাসা করেন—তিনি কি “গ্রেটার ইসরায়েল” ধারণায় বিশ্বাস করেন? উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, “অবশ্যই, খুবই।” এই ধারণা অনুযায়ী ইসরায়েলের সীমা শুধু পশ্চিম তীর বা গাজাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং লেবানন, সিরিয়া, মিশর ও জর্ডানের কিছু অংশও তার অন্তর্ভুক্ত হবে।

আরব ও ইসলামি দেশগুলোর কঠোর নিন্দা

আরব লীগ, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)–এর মহাসচিবসহ ৩১টি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। এটি আরব নিরাপত্তা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।”

বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর বক্তব্য ছাড়াও পশ্চিম তীরে নতুন করে বসতি নির্মাণের পরিকল্পনারও কঠোর সমালোচনা করা হয়।

পশ্চিম তীরে নতুন বসতি পরিকল্পনা

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ঘোষণা করেছেন, তিনি জেরুজালেমের পূর্বদিকে বিতর্কিত “ই–ওয়ান” (E1) এলাকাতে তিন হাজারেরও বেশি নতুন ঘর নির্মাণের অনুমোদন দেবেন। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকেই “চিরতরে সমাধিস্থ” করবে।

আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই বসতি পরিকল্পনা কার্যকর হলে পশ্চিম তীর কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

গাজা নিয়ে নেতানিয়াহুর নতুন বিতর্কিত মন্তব্য

এর পাশাপাশি নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বলেন, গাজার মানুষ চাইলে “চলে যাওয়ার সুযোগ” পাবে। তিনি দাবি করেন, “আমরা তাদের তাড়াচ্ছি না, আমরা শুধু যাওয়ার পথ খুলে দিচ্ছি।” কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি আসলে জোরপূর্বক উচ্ছেদকে বৈধ করার কৌশল।

যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক মূল্য

প্রায় ২২ মাস ধরে গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৬১ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং এক লাখ ৫৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ ও রোগব্যাধির ঝুঁকি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ইসরায়েলকে ১২ মাসের মধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতও (আইসিজে) বলেছে, ইসরায়েলের দখলদারিত্ব আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী এবং এটি দ্রুত শেষ করতে হবে।

সামনে কী?

আরব ও ইসলামি দেশগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—ফিলিস্তিনিদের জোর করে দেশান্তর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারা যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

spot_img