ইসলামাবাদ, ১৭ আগস্ট ২০২৫ — আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার চার বছর পর পাকিস্তান আজ ভয়াবহ নিরাপত্তা সঙ্কটে জর্জরিত। জঙ্গি হামলার তীব্রতা বাড়ছে, সীমান্তে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কাবুলের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হচ্ছে। ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থানের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যেগুলো কাবুল থেকে অনুপ্রাণিত।
২০২১ সালের আগস্টে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), ইসলামিক স্টেট খোরাসান (আইএসকেপি) এবং বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হামলা জোরদার করে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজের গবেষক সাফদার সিয়াল বলেন, “টিটিপি ও আইএসকেপি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে তৎপরতা বাড়িয়েছে, আর বেলুচ বিদ্রোহীরা পাকিস্তানি সেনা ও চীনা কর্মীদের টার্গেট করছে”।
জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর পুনরুত্থান
২০১৪–২০২০ সালের মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযান ও মার্কিন ড্রোন হামলায় টিটিপি দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০২০ সালে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা নেমে আসে ২২০–তে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র–তালেবান শান্তি আলোচনার পর টিটিপির ছত্রভঙ্গ গোষ্ঠীগুলো আবার একত্রিত হয়। সাম্প্রতিক জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিটিপি এখন আফগান তালেবান সরকারের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তা পাচ্ছে।
পাকিস্তান-আফগান সম্পর্কের টানাপোড়েন
প্রথমদিকে পাকিস্তান ভেবেছিল কাবুলে তালেবান সরকার তার জন্য কৌশলগত সুবিধা হবে। কিন্তু টিটিপি প্রশ্নে তালেবানের নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। পাকিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছে, পাশাপাশি ২০২৩ সাল থেকে ১০ লাখেরও বেশি আফগান শরণার্থীকে বহিষ্কার করেছে।
কাবুলভিত্তিক গবেষক হযরত আলি সতর্ক করে বলেন, “টিটিপির ওপর কঠোর ব্যবস্থা নিলে তালেবান ভেতরেই ভাঙন ধরতে পারে, এমনকি কিছু যোদ্ধা আইএসকেপিতে যোগ দিতে পারে”।
কূটনৈতিক অচলাবস্থা
সম্প্রতি পাকিস্তানি মন্ত্রীদের কাবুল সফর এবং বাণিজ্যে কিছু ছাড় দেওয়া হলেও বিশ্লেষকদের মতে, টিটিপি সমস্যার সমাধান না হলে সম্পর্কের উন্নতি হবে না। ইসলামাবাদভিত্তিক বিশ্লেষক তাহির খান বলেন, “টিটিপি দমন ছাড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অগ্রগতি অসম্ভব”।
১৯৯৬ সালে তালেবান সরকারকে দ্রুত স্বীকৃতি দিলেও এবার পাকিস্তান দ্বিধাগ্রস্ত। এখন পর্যন্ত রাশিয়াই একমাত্র দেশ যারা আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্যর্থতা পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আঞ্চলিক পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি না হলে পাকিস্তান দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতায় নিমজ্জিত হতে পারে।

