১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ৫০তম শাহাদাতবার্ষিকী উদযাপনে বাধা

ঢাকা, ১৫ আগস্ট – জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫০তম শাহাদাতবার্ষিকীতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ও টুঙ্গিপাড়ায় সমাধি সৌধ এলাকায় সাধারণ মানুষকে শ্রদ্ধা জানাতে দেওয়া হয়নি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশ, সেনা সদস্য ও বিএনপি-ছাত্রদল নেতাকর্মীরা একযোগে ব্যারিকেড বসিয়ে প্রবেশ ঠেকিয়ে দেয়।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা নারী, পুরুষ ও সাধারণ মানুষকে হেনস্তা, মারধর ও অপমানের শিকার হতে হয়েছে। এদিন অন্তত এক রিকশাচালক, কয়েকজন নারী ও একাধিক পরিবারকে আটক বা নির্যাতন করা হয়।

রিকশাচালক আজিজুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে ফুল কিনে এনেছি। আমি কোনো দলের লোক না ভাই। কিন্তু আমাকে মারধর করেছে।”

কঠোর নিরাপত্তা ও হয়রানি

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের দুই প্রান্তে লোহার ব্যারিকেড বসানো হয়। পুলিশের পাশাপাশি যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীরা মানুষকে আটকায়, তল্লাশি চালায় এবং আওয়ামী লীগ সমর্থক সন্দেহে লাঞ্ছিত করে।

শেরেবাংলা নগর থেকে আসা হালিমা নামের এক নারী বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ করি। বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।” তাকে জোর করে রিকশায় তুলে সরিয়ে দেয় পুলিশ।

টুঙ্গিপাড়ায়ও একই অবস্থা। বৃহস্পতিবার থেকেই সেখানে সেনা ও পুলিশের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়। ফুলের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়, বঙ্গবন্ধুর নামফলক ও ভাস্কর্য ঢেকে ফেলা হয়।

শোক দিবস বাতিলের ধারাবাহিকতা

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হতো। তবে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার দিনটির সরকারি মর্যাদা বাতিল করে। গত দুই বছর ধরে দিনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বলা হয়, “১৫ আগস্ট কেবল আগস্ট মাসের আরেকটি দিন মাত্র।”

সামাজিক মাধ্যমে শ্রদ্ধার ঢল

মাঠে-ময়দানে শ্রদ্ধা জানানো না গেলেও সামাজিক মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেছেন লাখো মানুষ। ফেসবুক জুড়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি ও কালো ব্যাজ ছড়িয়ে পড়ে।

আইনজীবী জেড আই খান পান্না আহ্বান জানান, “যারা পারেন, তারা যেন অনলাইনে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেন। প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করে জাতিকে জানান—আমরা বঙ্গবন্ধুকে ভুলিনি।”

আওয়ামী লীগ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

দেশত্যাগী শেখ হাসিনা এক বিবৃতিতে বলেন, “পঞ্চাশ বছর ধরে ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দিতে চেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কখনো তাকে ভুলবে না।”

তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আজ বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকীতে বাংলাদেশিদের শোক প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবুও জাতি তাকে মনে রেখেছে।”

আওয়ামী লীগ নেতারা একে ইতিহাস বিকৃতির জঘন্য প্রয়াস বলে আখ্যা দিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ওপর ভয়াবহ আঘাত হেনেছে।

spot_img