II এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন ll
বছর ঘুরে আবার ফিরে এসেছে বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত দিন ১৫ আগস্ট। ৫০ বছর আগে এইদিনে বাংলাদেশের ঢাকায় সংঘটিত হয় ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম ও জঘন্যতম হত্যাকান্ড।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির প্রত্যক্ষ মদদে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্যের হাতে ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়িতে সপরিবারে নিহত হন স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং বিশ্বের শোষিত বঞ্চিত মানুষের অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বিপন্ন বাংলাদেশ
গতবছর, ২০২৪ এর ৫ আগস্ট, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী ও বঙ্গবন্ধু হত্যার সমর্থকরা মুজিব কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর ১৫ আগস্ট ‘জাতীয় শোক দিবস’ বাতিল করেছে। যে বাড়িতে বঙ্গবন্ধু নিহত হয়েছিলেন এবং যে ভবন থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত ও স্বাধীন করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তসমূহ এসেছিল, ঢাকার ধানমন্ডি ৩২এর সেই স্মৃতি-জাদুঘরটি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দেওয়া এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গড়া গণমানুষের দল আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে।
দখলদার সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, এ বছর ১৫ আগস্ট শোক পালন উপলক্ষে কেউ কোনো কিছু আয়োজন করলে তাদের দমন করা হবে। মিডিয়ায় বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের সম্পর্কে সব ধরনের ইতিবাচক প্রচারণা বন্ধ করা হয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের বাড়িঘর ও প্রতিষ্ঠানে হামলা অব্যাহত আছে; লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। হত্যা এবং গণগ্রেপ্তার বিগত এক বছর যাবত একটি স্বাভাবিক চিত্র হয়ে গেছে। এমন ফ্যাসিবাদী দমননীতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের মানুষ তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগস্টের শুরু থেকেই অসংখ্য মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন্।
রক্তক্ষরণের ইতিহাস
১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী মহিয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।
পৃথিবীর এই নিষ্ঠুরতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ও জাতির পিতার ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।
বঙ্গবন্ধুর এই মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে পলাশী যুদ্ধের পর বাংলার স্বাধীনতার সূর্য আরেকবার অস্তমিত হয়ে পড়ে। সেই সাথে স্তব্ধ হয়ে যায় দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির চাকা। খুনি মোশতাক-জিয়া চক্র বাংলাদেশকে আবার স্বাধীনতার পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়। স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস এবং ৭১ ‘এর যুদ্ধাপরাধীরা সদর্পে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোস্তাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনীদের রক্ষা করতে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে আইন হিসেবে অনুমোদন করেন। (খুনী মোস্তাক, জেনারেল জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া পরে ঘাতকদের বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেন।)
সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গোটা বিশ্বে নেমে এসেছিল তীব্র শোকের ছায়া; ছড়িয়ে পড়েছিল ঘৃণার বিষবাষ্প। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী পশ্চিম জার্মানীর নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যে কোন জঘন্য কাজ করতে পারে।
বিচারের বাধা ডিঙিয়ে
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ একুশ বছর পর ক্ষমতায় আসলে ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর খুনীদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়।
১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশীট দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামীর উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়।
১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ স্বাধীনতা-বিরোধী চক্রের নানা বাধার কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদন্ড- প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ২০০১ সালের অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে বিচার কাজ বন্ধ থাকে। ২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর-২৯ দিনের শুনানির পর চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয় এবং আদালত ১৯ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওইদিন (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ৫ আসামীর দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করা হয়। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামীদের রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে দায়মুক্ত করা হয়।
উল্টো রথে যাত্রা
মূলত, ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট থেকেই বাংলাদেশে এক বিপরীত ধারার যাত্রা শুরু করে। বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক শাসনের অনাচারি ইতিহাস রচিত হতে থাকে ।
পঁচাত্তরের আগস্টের পর থেকে দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর দেশে সামরিক-বেসামরিক লেবাসে এক ধরনের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা বিরাজ করে। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে পুনরায় আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত। এ সময়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বেতারে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ নিষিদ্ধ করা হয়। আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীকে হত্যা এবং অত্যাচার চালিয়ে পঙ্গু করা হয়। কারাগারে বছরের পর বছর কাটাতে হয় বঙ্গবন্ধু আদর্শে উজ্জীবিত হাজার হাজার নিবেদিত প্রাণ নেতা-কর্মীকে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অধিকাংশই এ সময় শাসক গোষ্ঠীর অত্যাচার-নিপীড়ণে রাতে নিজেদের বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি। শুধু তাই নয়, পাঠ্যপুস্তকে ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রী ও নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়। দু:শাসনের সেই ২১ বছরে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সর্ম্পকে অনেক কিছুই জানতে পারেনি।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে
১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরার পর বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা আবার দলের নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করেন এবং দেশে গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু করেন। দীর্ঘ ২১ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং অগণিত নেতা-কর্মীর আত্মত্যাগের পর দেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশের শোষিত, বঞ্চিত ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে অনেকগুলো যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যার ফলশ্রুতিতে দেশ আবারও উন্নয়নের কক্ষপথে যাত্রা শুরু করে। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় অবদানকে ছাত্র-ছাত্রী ও তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। টেলিভিশন-বেতারসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার শুরু হয়। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতির জনকের অবিস্মরণীয় অবদান নতুন প্রজন্মসহ দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে স্বমহিমায় পূনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যর্থ হয়ে যায় সামরিক-বেসামরিক স্বৈরশাসকদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরনীয় অবদানকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা। এর মাধ্যমে আবার প্রমাণিত হয়েছে যে ইতিহাসকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না। একদিন না একদিন মানুষের কাছে উন্মোচিত হয় সঠিক, অভ্রান্ত ইতিহাস। যতদিন এই পৃথিবী টিকে থাকবে ও বাঙালি জাতি বেঁচে থাকবে ততদিন পযন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তাঁর অমর কীর্তির জন্য বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে চির জাগরুক থাকবেন।
কবি অন্নদাশঙ্কর রায় যেমনটি লিখেছেন —
“যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা গৌরী যমুনা বহমান
ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।”
জাতীয় শোক দিবসে স্বাধীনতার মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ ১৫ই আগস্টের সকল শহীদদের প্রতি আমরা বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই ও তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
প্রতিকূলতায় প্রত্যয়
গত বছরের ৫ আগস্ট মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মাধ্যমে দেশের লাল-সবুজের পতাকা আবার খামচে ধরেছে পুরনো শকুন। দখলদার ইউনূসকে সামনে রেখে দেশি-বিদেশি পুরনো পরাজিত শক্তি যারা ৭১ এ পাকিস্তানের পরাজয় মানতে পারেনি এবং যারা ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল তারা আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। ৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে তারা আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে চিরতরে নির্মূল করতে দেশে এক অরাজক পরিস্থিতি চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সংবিধান, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত আজ হুমকির মুখে। গণতন্ত্র, সুশাসন, সুবিচার, বাক স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলে কিছু নেই। মানুষের জীবনে নিরাপত্তা বলে কোন শব্দ নেই। হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, রাহাজানি, দখলদারি, চাঁদাবাজির ফলে মানুষ অসহায় দিন কাটাচ্ছে। আওয়ামি লীগের হাজার হাজার নেতা কর্মী আজ দেশ ও বাড়ি ছাড়া। সংখ্যালঘু ধর্মের মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শিক্ষা ব্যবস্থা আজ মুখ থুবরে পড়েছে। দেশে আজ গণতন্ত্রের পরিবর্তে ‘মবক্রেসি’ চলছে। এই অবস্থা বেশিদিন স্থায়ী হলে দেশ যে চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে এ ব্যাপারে কারও কোন সন্দেহ নেই।
দেশকে চুড়ান্ত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ভেদাভেদ ভুলে ৭১ এর ন্যায় আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যতদিন পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র ফিরে না আসে এবং একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা না হয় ততদিন পর্যন্ত রাজপথে তাদের আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে — এই হোক প্রত্যয়।
বঙ্গবন্ধুর ৫০তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে আমাদের নতুন প্রতিজ্ঞা হোক জাতির জনকের আজীবনের লালিত স্বপ্ন ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জন করা। বঙ্গবন্ধু থাকুন ইতিহাসের অমোঘ বাস্তবতায়, আমাদের প্রতিদিনের প্রত্যাশায় ও কবির পক্তিংতে —
“যদি রাত পোহালে শোনা যেত
বঙ্গবন্ধু মরে নাই —
তবে বিশ্ব পেত এক মহান নেতা
আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা।”

