বরিশাল, ১২ আগস্ট ২০২৫: দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ‘অব্যবস্থাপনা, রোগী হয়রানি ও সিন্ডিকেট’ ভাঙার দাবিতে বরিশালে টানা আন্দোলন তীব্র আকার নিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালসংলগ্ন ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক, সদর রোড ও বেশ কয়েকটি মোড়ে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থী–জনতা।
একই সময়ে শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের প্রধান ফটকে কয়েকজন শিক্ষার্থী অনির্দিষ্টকালের আমরণ অনশন শুরু করেন। এতে উভয় দিকে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও দাবিসমূহ
প্রতিদিনের মতো আজও দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। আন্দোলনের ব্যানার ‘ছাত্র–জনতা’র পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
প্রাথমিকভাবে তিন দফা দাবি—(১) সরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি বন্ধ, (২) রোগীর হয়রানি বন্ধ, (৩) ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙা—উত্থাপন করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে প্রায় প্রতিদিনই কয়েক ঘণ্টা করে মহাসড়ক বন্ধ থাকছে; কখনও ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্লকেড চলে।
রোববার বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে আন্দোলনকারীরা জানান —বরিশালে এসে শেবাচিমের অনিয়ম–দুর্নীতি পরিদর্শন করে স্পষ্ট আশ্বাস না দিলে লাগাতার ‘বরিশাল ব্লকেড’ চলবে। আলটিমেটামের পরও তিনি না আসায় আজও সড়ক অবরোধ হয়েছে বলে জানানো হয়।
মুখোমুখি অবস্থা, আহতের ঘটনাও
গত ৪৮ ঘণ্টায় আন্দোলনে ভেতরেও উত্তেজনা দেখা গেছে। রোববার রাতে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন; এর মধ্যে আন্দোলনের অন্যতম নেতা মহিউদ্দিন রনিও আছেন।
ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও প্রশাসন চেষ্টা চালাচ্ছে বলে এয়ারপোর্ট থানার ওসি জসিম শিকদার জানান। ”ধাপে ধাপে রাস্তা খুলে দেওয়া হচ্ছে,” ভয়েসকে বলেন তিনি।
কেন এই ক্ষোভ?
শেবাচিমসহ দেশের সরকারি হাসপাতালে শয্যাসঙ্কট, যন্ত্রপাতি অকেজো হওয়া, জনবল ঘাটতি, তদারকি দুর্বলতা, দালালচক্র ও সরবরাহ–সিন্ডিকেট নিয়ে বহুদিনের অভিযোগ আছে। আন্দোলনকারীরা বলেন—এই ‘প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যাগুলো’ সমাধান ছাড়া আউটপুট মিলবে না। এ কারণেই আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয়ভাবে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার উপস্থিতি ও সময়াবদ্ধ রোডম্যাপ চাইছেন।
সরকারের কাছে আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব
-
শেবাচিমসহ সরকারি হাসপাতালে জরুরি অডিট, হোয়াটলাইন ও ‘পাবলিক ডিসপ্লোজার’ ব্যবস্থার ঘোষণা
-
ভর্তুকি–নির্ভর ক্রয়পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন মনিটরিং টিম
-
দালালচক্র ও কমিশন–সিন্ডিকেট ভাঙতে বিশেষ অভিযান
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অবিশ্বাস
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও প্রশাসনিক সংস্কারের ধীরগতি আন্দোলনের পটভূমি রচনায় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সময়োপযোগী স্বাস্থ্যখাত রোডম্যাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা, এবং স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহির ঘাটতি— ইত্যাদি বিষয়ও ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
শিক্ষার্থী–জনতার লাগাতার অবরোধ ও অনশন স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ ও সময়সীমাবদ্ধ প্রতিশ্রুতি না এলে ‘বরিশাল ব্লকেড’ আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীদের নেতা মহিউদ্দিন রনি।

