সিডনি হারবার ব্রিজে ইতিহাস: হাজারো মানুষের পদযাত্রায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি

তুমুল বৃষ্টির মধ্যেও বিক্ষোভকারীদের ঢল, উপস্থিত জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ, এমপি এড হুসিক, ও সাবেক প্রিমিয়ার বব কার

সিডনি, ৩ আগস্ট ২০২৫ — গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির হারবার ব্রিজে হাজার হাজার মানুষ পদযাত্রা করেছে। ‘মানবতার পক্ষে মিছিল’ শিরোনামের এই বিশাল বিক্ষোভটি শেষ মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনের পর অনুষ্ঠিত হয়।

পালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপ এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। সংগঠনের নেতা জোশ লিস বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।” বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের পক্ষে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও মানবিক সহায়তা দাবি করে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

“শেম শেম ইসরায়েল, শেম শেম ইউএসএ” এবং “যুদ্ধবিরতি চাই, এখনই চাই”— এই স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ব্রিজের আকাশ। শিশু, বৃদ্ধ, তরুণ-তরুণীরা সকলে অংশ নেয় এই শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায়। উপস্থিত ছিলেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ, ফেডারেল এমপি এড হুসিক এবং সাবেক নিউ সাউথ ওয়েলস প্রিমিয়ার বব কার।

বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মিছিল থামিয়ে দিতে বলে এবং শহরের দিকে ফেরার নির্দেশ দেয়। তবে কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

এটি ছিল সিডনি হারবার ব্রিজের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো এমন বিশাল জনসমাবেশ। এর আগে ২০২৩ সালে ওয়ার্ল্ড প্রাইড উপলক্ষে ব্রিজ বন্ধ হয়েছিল।

আন্তর্জাতিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার ওপর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার চাপ বাড়ছে। ফ্রান্স, কানাডা এবং যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে জাতিসংঘে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, “আমরা কোনো চাপে সিদ্ধান্ত নেব না। আগে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

এদিকে নিউ সাউথ ওয়েলস জিউইশ বোর্ড অব ডেপুটিস আদালতের রায়ে ‘হতাশা’ প্রকাশ করেছে।

পুলিশের আপত্তির মুখে বিচারক বেলিন্ডা রিগ বলেন, মানবিক বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই বিক্ষোভের অনুমতি জরুরি ছিল। ফলে বিক্ষোভকারীরা কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই অংশগ্রহণ করতে পেরেছেন।

এই পদযাত্রা অস্ট্রেলিয়ার ফিলিস্তিন নীতিতে একটি মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

spot_img