স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র ছাড়বে না হামাস

সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা; যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অচলাবস্থা

গাজা সিটি, ৩ আগস্ট ২০২৫ — গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যেই হামাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা অস্ত্র পরিত্যাগ করবে না। এই ঘোষণাটি এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে হামাস অস্ত্র ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

হামাস বলেছে, “আমরা অস্ত্র ও প্রতিরোধের অধিকার ত্যাগ করবো না, যতক্ষণ না জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।”

এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন ইসরায়েল হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে যুদ্ধবিরতির প্রধান শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ইসরায়েলের সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যতক্ষণ না জিম্মিদের মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ গাজায় যুদ্ধ বন্ধ হবে না।”

গেলো কয়েক দিনে ইউরোপ ও আরব বিশ্বের নানা দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে আগ্রহ দেখালেও, তারা চায় হামাস গাজা শাসন ছেড়ে দিক এবং অস্ত্র পরিত্যাগ করুক। ফ্রান্স, কানাডা এবং যুক্তরাজ্য এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আলোচনা চূড়ান্ত করেছে।

স্টিভ উইটকফ ইতোমধ্যে ইসরায়েল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও জিম্মিদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি গাজার দক্ষিণাঞ্চলে একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং বলেন, “আংশিক সমঝোতা নয়, পূর্ণ শান্তি দরকার।”

এদিকে, জাতিসংঘের তথ্যে বলা হয়েছে, মে মাসের পর থেকে খাবারের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে অন্তত ১,৩৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এখন পর্যন্ত ৬০,০০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, এর মধ্যে অপুষ্টিতে মারা গেছে ৯৩ শিশু।

ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের বাহিনী সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় না এবং হামাস ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোর কাছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

এই অচলাবস্থার মধ্যে হামাসের অনড় অবস্থান যুদ্ধবিরতির আলোচনায় নতুন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরের জাতিসংঘ অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির ইস্যু আন্তর্জাতিক পরিসরে আবারও জোরালোভাবে আলোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

spot_img