মার্কিন তথ্যপত্রে সতর্কবার্তা: বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হতে পারে

হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ওপর চলমান আক্রমণ, ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে ‘বহুত্ববাদ’ বিতর্ক এবং নারীর অধিকার সংস্কারে ইসলামপন্থীদের প্রতিবাদ তুলে ধরা হয়েছে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ বিষয়েক মার্কিন প্রতিবেদনে।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন ইউএসসিআইআরএফ (ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম) তাদের সাম্প্রতিক এক তথ্যপত্রে বাংলাদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২১ জুলাই প্রকাশিত এই রিপোর্টটি ইউএসসিআইআরএফ প্রতিনিধিদের মে ২০২৫ ঢাকা সফরের পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে রচিত। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যেভাবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে এবং আগস্টে সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাতে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় উসকানিমূলক সহিংসতার ঝুঁকি রয়েছে বলে কমিশন সতর্ক করেছে। কমিশনের ভাষ্য, ২০২৬ সালের প্রথম দিকে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে; অথচ অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ মোতায়েন ছাড়া এমন সহিংসতা ঠেকাতে পূর্ণাঙ্গ কোনো কৌশল এখনো উপস্থাপন করেনি।

ইউএসসিআইআরএফ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও দেশে এখনো ঔপনিবেশিক আমলের “ধর্ম অবমাননা” আইন (দণ্ডবিধি ২৯৫এ) বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারা অনলাইনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয় এমন কোনো কনটেন্ট প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে, যার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ডের বিধান আছে। এসব আইনের অস্তিত্ব মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অপব্যবহার হচ্ছে বলে ইউএসসিআইআরএফ উদ্বেগ জানিয়েছে। কমিশন উল্লেখ করেছে যে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও সম্প্রদায়গুলোর পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর হয়নি। অনেক ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রতিনিধি ইউএসসিআইআরএফকে বলেছেন যে তারা এখনো নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রকাশ্যে ধর্মপালন নিয়ে শঙ্কিত বোধ করছেন।

নির্বাচনের আগে সহিংসতার আশঙ্কা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

প্রতিবেদনে বিগত কয়েক দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুই দলের মধ্যে পালাবদল করেছে এবং উভয় দলই সময়ে সময়ে রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করেছে। আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যগতভাবে নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ ও সংখ্যালঘু-বান্ধব বলে দাবি করলেও শেখ হাসিনার শাসনামলেও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে বিএনপিকে ইউএসসিআইআরএফ আরও রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে, যাদের ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিশেষ করে হাসিনা আমলে নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামী দলের সঙ্গে বিএনপির ঘনিষ্ঠতা ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের জনবিদ্রোহের পর প্রতিষ্ঠিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একাধিক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব এনেছে বটে, তবে নতুন শাসন ব্যবস্থায়ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।

ইউএসসিআইআরএফ-এর তথ্যপত্রে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচন ঘিরে ধর্মীয় হিংসা ছড়ানোর আশঙ্কা এখনও কাটেনি। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে লিখেছে যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর উসকানিমূলক হামলা হতে পারে বলে অনেকেই চিন্তিত। অথচ সরকার এখনো বাড়তি পুলিশ মোতায়েন ছাড়া কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি। কমিশনের মতে, নির্বাচন ধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়াতেও পারে, আবার উস্কে দিতেও পারে – ফলে প্রস্তুতির ঘাটতি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।

সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বনাম ‘বহুত্ববাদ’

চলমান সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইউএসসিআইআরএফ মনে করে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত সংস্কার কমিশন সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে ‘বহুত্ববাদ’ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড় বিরোধী দল বিএনপি কমিশনের প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে আবারও “সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্র আন্দোলন থেকে উত্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আংশিক সমর্থন জানিয়ে বলেছে যে ‘বহুত্ববাদ’ শব্দের বদলে বাংলায় ‘বহুসংস্কৃতিবাদ’ বা সমার্থক কোনো পরিভাষা ব্যবহার করা হোক।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে তারা সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছেন এবং এসব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্তে তাঁদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। রাজনীতি ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরেও তাদের প্রতিনিধিত্ব নগণ্য, যা দীর্ঘমেয়াদে বৈষম্য বাড়াতে পারে বলে তারা মনে করেন। ইউএসসিআইআরএফ রিপোর্টে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, সংবিধান পুনর্লিখনের সময় সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে বৈষম্যের গভীরতা বাড়তে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ব্যাহত হতে পারে। কমিশন সুপারিশ করেছে যে সংস্কার-প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সকল পক্ষের সমন্বিত অংশগ্রহণই টেকসই সমাধানের চাবিকাঠি হবে।

নারীর অধিকার সংস্কার নিয়ে ইসলামপন্থীদের বিক্ষোভ

ইউনূস সরকারের অধীনে গঠিত নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন গত মে মাসে নারীদের প্রতি বৈষম্য দূর করতে ৪৩৩টি সুপারিশ জমা দিয়েছে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল বিদ্যমান ধর্মভিত্তিক পারিবারিক আইনের পাশাপাশি একটি সিভিল কোড বা ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিক আইন চালু করা। এই প্রস্তাবগুলো রক্ষণশীল মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ইসলামী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম সহ কয়েকটি দল কমিশনের সুপারিশগুলোকে “ইসলামবিরোধী” আখ্যা দিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে। চলতি বছরের ৩ মে হেফাজতে ইসলাম প্রায় ২০ হাজার সমর্থক নিয়ে ঢাকার মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করে এসব সংস্কারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করে। তারা ১২ দফা দাবিতে নারী কমিশন বাতিল করা, সংবিধানের প্রস্তাবনায় “আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” বাক্যটি পুনঃস্থাপন, এবং হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে আগের সরকারের দায়ের করা সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানায়।

সমাবেশে হেফাজত নেতারা ঘোষণা করেন, “পুরুষ ও নারী কখনো সমান হতে পারে না”, কারণ ইসলাম পুরুষ-নারীর জন্য পৃথক ভূমিকা নির্ধারণ করেছে। তাঁদের দাবি, নারী উত্তরাধিকারসহ যেসব বিষয়ে সমতার কথা বলা হচ্ছে তা শরিয়া আইন পরিপন্থী এবং পশ্চিমা ধারণা থেকে উদ্ভূত। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল “আমাদের নারীদের ওপর পশ্চিমা আইন চাপিয়ে দেবেন না” – যা পরিবর্তনের বিরোধিতা করে। হেফাজতের মহাসচিব একে “বিপর্যয় ডেকে আনবে” বলে আখ্যা দেন এবং বলেন সরকার যদি দাবিমত ব্যবস্থা না নেয় তবে ২৩ মে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এছাড়া তারা সংবিধানে বহুত্ববাদ ধারণাকে “আত্মঘাতী ধারণা” বলে নিন্দা করে এবং দেশের ইসলামী ঐতিহ্য রক্ষার ডাক দেয়। এই ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট, নারী অধিকারের প্রশ্নে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বর্তমানে ইসলামপন্থীদের তীব্র বাধার মুখে পড়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে কমিশনের সুপারিশ প্রকাশের পর হেফাজতের কয়েকজন নেতা নারী কমিশন সদস্যদের নিয়ে অশালীন মন্তব্যও করেছিলেন। এর জেরে ৬ জন নারী আইনজীবী হেফাজতের নেতাদের নামে আইনি নোটিস পাঠান, পরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয় ওই সংগঠনের নেতারা। একই সময়ে আরেক ইসলামপন্থী দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করতে আন্দোলন করে এবং চাপের মুখে কর্তৃপক্ষ একটি কলেজের নারী ফুটবল খেলাও বাতিল করে। এমনকি নাদিরা ইয়াসমিন নামে এক মহিলা অধ্যাপিকাকে হুমকির মুখে কর্মস্থল বদলাতে হয়েছে। অর্থাৎ ক্যাম্পাস ও ক্রীড়াঙ্গনেও চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে কট্টরপন্থীরা নারীদের সমঅধিকার দাবিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে।

সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও আইনের শাসনের চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে বিক্ষিপ্তভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর সহিংস হামলা ও হয়রানি অব্যাহত আছে বলে একাধিক রিপোর্টে উঠে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রকাশ্যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর থেকে ঘটিত ২৯২৪টি সাম্প্রদায়িক হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তবে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ওই সহিংসতাগুলোর খুব কম ক্ষেত্রেই দোষীদের জবাবদিহি নিশ্চিত হয়েছে, কারণ ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের পরে পুলিশ বাহিনীতে চরম ভাঙন দেখা দেয় – অনেক পুলিশ সদস্যই প্রাণের ভয়ে আত্মগোপনে যান এবং সহিংস বিক্ষোভে কয়েক ডজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অগাস্টে সেনাবাহিনী পুলিশিংয়ের দায়িত্বে অংশ নিতে বাধ্য হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই দুর্বলতার সুযোগে বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করছেন।

ইউএসসিআইআরএফ একটি পুলিশের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, শেখ হাসিনার পদত্যাগের সপ্তাহে (৫–২০ আগস্ট ২০২৪) দেশে মোট ১,৭৬৯টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১,২৩৪টি রাজনৈতিক সহিংসতা, ২০টি স্পষ্টত সাম্প্রদায়িক এবং ১৬১টি গুজব-উদ্ঘূত হামলা ছিল। ওই শূন্যক্ষমতার সময় কিছু জায়গায় মুসলিম প্রতিবেশীরা নিজেরাই হিন্দু মন্দির ও ঘরবাড়ি পাহারা দিয়ে সম্প্রীতির নজির স্থাপন করেন, তবে অনেক এলাকা ছিল হামলাকারীদের দখলে। ঢাকা পতনের মাত্র ৩ দিনের মধ্যে সারা দেশে ২০০-এর বেশি মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে হামলা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে ওই সময় ৫২টি জেলায় হিন্দু-বৌদ্ধদের ওপর প্রায় ২০০টি হামলার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন স্থানে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও প্রতিমা ভাঙচুর চালানো হয়, যা বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়কে আতঙ্কিত ও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আসামের সীমান্তবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকাসহ দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনপদগুলোতেও হয়রানি ও সংঘাতের খবর মিলেছে, যেখানে পুলিশ অনেকক্ষেত্রে ধর্ষণ বা ভূমি দখলের মতো অপরাধ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। যদিও ২০২৪ সালের দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা বাড়াতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল, তবু প্রতিমাভাঙার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের ওপর ৯২টি হামলার ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ১১টি খুন, ৩টি ধর্ষণ, ২৫টি মন্দিরে আক্রমণ ও ২৮টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা রয়েছে। আরেক মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানায়, জানুয়ারি–এপ্রিলে ৪৮টি হামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যার ২৫টিই দেব-দেবীর মূর্তি ভাঙচুর। বহু হিন্দু ধর্মীয় নেতা ইউএসসিআইআরএফ প্রতিনিধিদের বলেছেন যে সম্প্রতি কিছু অঞ্চলে হিন্দু নারীরা হয়রানি এড়াতে চুড়ি ও সিঁদুর পরাও বন্ধ করে দিয়েছেন— এতটাই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

বাংলাদেশে গত এক দশকে বারবার দেখা গেছে, “ধর্ম অবমাননা”র গুজব তুলেই উগ্রমনা গোষ্ঠীগুলি সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালিয়েছে। সম্প্রতি এর পুনরাবৃত্তি ঘটেছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায়। জুলাই ২০২৫-এ সেখানে একটি মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণায় বলা হয়, স্থানীয় এক হিন্দু কলেজছাত্র মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তি করেছে। এর পর শত শত লোক জড়ো হয়ে ১৮টি হিন্দু পরিবারের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বহিরাগত হামলাকারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে সবাইকে পেটায় এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়; আতঙ্কে পরিবারগুলি গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা আক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি – অনেকেই এ নিষ্ক্রিয়তাকে প্রশাসনের প্রশ্রয় হিসেবে দেখছেন। পরে সেনাবাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে, যদিও আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। হামলাকারীরা প্রতিটি বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুরের পাশাপাশি মন্দির ও পূজামণ্ডপেও তাণ্ডব চালায়, কিছু নারীর ওপর নিপীড়নের ঘটনাও শোনা গেছে। স্থানীয় একটি সূত্রের ভাষ্যমতে, “প্রতিটি হামলার সঙ্গেই লুটপাট হচ্ছে, প্রতিমা ভাঙা হচ্ছে, নারীদের সম্মানহানি হচ্ছে”, যা ১৯৭১ সালের নির্মমতার কথাই মনে করিয়ে দেয়।

এই ঘটনার সূত্রপাত যে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে, সেই ১৭ বছরের হিন্দু ছাত্র রঞ্জন রায়কে পুলিশ আগেই গ্রেফতার করেছিল। পুলিশ জানায়, নবীকে কটূক্তির অভিযোগে তাকে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে জুভেনাইল সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের সন্দেহ, রঞ্জনের নামে যে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছে সেটি মাত্র দু’সপ্তাহ আগে খোলা এবং ছেলেটির নিজস্ব আইডি কিনা তা অনিশ্চিত। বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে বলেছে, যেহেতু অ্যাকাউন্টটি ভেরিফায়েড ছিল না, তাই সত্যিই রঞ্জন নবীকে অবমাননা করেছে কিনা তা নিশ্চিত প্রমাণসাপেক্ষ ব্যাপার। বিবিসি আরও মন্তব্য করে যে বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যত ঘটনাই ঘটুক না কেন, প্রায় কোনোটিরই সঠিক প্রমাণ মেলেনি এবং অনেকক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব অভিযোগ তুলে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হয়েছে।

রংপুরের সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাথমিকভাবে নীরব ছিল বলে সমালোচনা উঠেছে। সাধারণত দেখা যায়, এমন হামলার পর কর্তৃপক্ষ সরাসরি কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে পরে বিবৃতি দিয়ে বলে “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ” এবং সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের সব সরকারই কার্যত একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছে – প্রকাশ্যে সম্প্রীতির কথা বললেও পর্দার আড়ালে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলোর সাথে মিলেমিশে চলার প্রবণতা ছিল। ক্ষমতাসীনদের মদদে উগ্র গোষ্ঠীগুলো পার পেয়ে যাওয়ায় এক ধরনের দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তাই একাধিক সরকারের আমলেই রামু (২০১২), নাসিরনগর (২০১৬), কুমিল্লা (২০২১) থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গঙ্গাচড়া – প্রতিবারই অভিযুক্তরা শাস্তি এড়িয়ে গেছে, আর সরকারগুলো “আমাদের দেশে চমৎকার ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় আছে” বলে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া: দাবি “ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে”

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ইউএসসিআইআরএফ-এর এই প্রতিবেদনের অনেক বক্তব্য মানতে নারাজ। মার্চ ২০২৫-এর শেষদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন প্রতিবেদনে উল্লিখিত সহিংসতার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করা “একেবারেই সত্য নয়” এবং এসব অভিযোগ “ভুল ও একপেশে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা”। প্রেস উইং-এর বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়, “শেখ হাসিনাকে অপসারণের পর সংঘটিত সহিংসতার জন্য সরকারকে দোষারোপ করা হচ্ছে – এর কোনো শক্ত প্রমাণ নেই”। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সকল আলোচিত ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করেছে এবং এতে প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কোনও সুপরিকল্পিত হামলা বা সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্র হয়েছে। পুলিশের তদন্ত অনুসারে, রিপোর্টে উল্লেখিত বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, বরং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, দুর্ঘটনা, সম্পত্তিগত বিরোধ এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আত্মহত্যার কারণে ঘটেছে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ এই ঘটনাগুলোকে ধর্মীয় সহিংসতা বলে বর্ণনা করা “বিভ্রান্তিকর” এবং “ভিত্তিহীন” বলে সরকার দাবি করছে।

প্রেস উইং আরও বলেছে, শেখ হাসিনার বিদায়ের পর ধর্মীয় সহিংসতায় “শত শত হিন্দু হত্যা” হওয়ার যে বক্তব্য কিছু মহল থেকে এসেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সাম্প্রদায়িক হামলায় প্রায় কোনও হিন্দু কিংবা অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ নিহত হয়নি” – বরং এ সময়টি সংখ্যালঘুদের জন্য তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ সময় গেছে। ইউএসসিআইআরএফ রিপোর্টে এই ইতিবাচক বাস্তবতা উপেক্ষা করে বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অবনতি বলে তুলে ধরা হয়েছে বলে সরকার মনে করে। ঢাকা থেকে দেওয়া বিবৃতিতে দাবি করা হয়, “ভাইরাল গুজব ও অপপ্রচার” চালিয়ে একটি চক্র অন্তর্বর্তী সরকারকে বদনাম করার চেষ্টা করছে এবং দুঃখজনকভাবে ইউএসসিআইআরএফ সেই একপেশে সূত্রগুলোকে যাচাই না করেই প্রতিবেদনে গ্রহণ করেছে। শফিকুল আলম বলেন, “কিছু প্রচারমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে”, আর ইউএসসিআইআরএফ কোনও স্বতন্ত্র অনুসন্ধান না চালিয়ে সেই ভিত্তিহীন দাবিগুলোর ওপর নির্ভর করেছে।

সরকারের তরফে ছয়টি কারণ দেখিয়ে মার্কিন প্রতিবেদনের দাবিগুলো খণ্ডন করা হয়েছে। প্রথমত, সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতায় সরকারের জড়িত থাকার কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই বলে পুনরায় জোর দেয়া হয়। দ্বিতীয়ত, প্রতিবেদন যেসব মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছে তার বেশিরভাগই ধর্মীয় কারণে নয় – অর্থাৎ ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে কাউকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়নি, বরং ব্যক্তিগত-বারিবারিক কারণে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল। তৃতীয়ত, বাংলাদেশ পুলিশ ও প্রশাসনের তদন্তে মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি সংগঠিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রমাণ মিলেছে, যেটা কিছু মহলের “শত শত হত্যা” দাবির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। চতুর্থত, ইউএসসিআইআরএফ দেশে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দলীয় সংঘর্ষকে যেভাবে সরলীকরণ করে ধর্মীয় সহিংসতা হিসেবে চিত্রিত করেছে তা ঠিক নয় বলে সরকার মন্তব্য করে। বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশে সাম্প্রতিক যেসব রাজনৈতিক বিক্ষোভ-সংঘর্ষ হয়েছে সেগুলোকে ধর্মীয় সংঘাত বলে চালানোর একটা প্রবণতা দেখা গেছে, কিন্তু বাস্তবে সেগুলোর উৎস ছিল মূলত রাজনৈতিক বিভেদ। এ জটিল বাস্তবতাকে ধর্মীয় নিপীড়ন হিসেবে দেখানোটা একটি অতি সরলীকরণ”।

পঞ্চমত, সরকার জানিয়েছে তারা সবধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং এই সময়ে কোথাও বিশৃঙ্খলা দেখা গেলে তা মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী না থাকলেও প্রশাসন যে সরাসরি সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করে পূজা-পার্বণে নিরাপত্তা দিয়েছে, সে উদাহরণও তুলে ধরা হয়। ষষ্ঠত, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ করে কিছু দক্ষিণ এশীয় গণমাধ্যম নোবেলজয়ী ইউনূসের সরকারের বিপ্লবী পরিবর্তনকে “ইসলামী উগ্রবাদী আন্দোলন” হিসেবে চিত্রিত করতে বিভ্রান্তিকর ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে বলেও ইউনূস সরকার অভিযোগ করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস ইউএসসিআইআরএফ প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে কালিমালিপ্ত করতে একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে, তবে আমরা দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি”।

ঢাকায় ওই সাক্ষাতে ইউনূস আশ্বস্ত করেছেন যে তাঁর সরকারের যেকোনো সাংবিধানিক সংশোধনী সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষিত রেখেই করা হবে। তিনি বলেন, “সংখ্যালঘুদের অধিকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের সমানই থাকবে” এবং দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউনূস দেশের পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে যে কোনও বিদেশি সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, “গত এক বছরে বহু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বাংলাদেশ ঘুরে গেছে, কারও কাছে কিছু লুকানোর নেই”।

ইউএসসিআইআরএফ তার তথ্যপত্রের উপসংহারে বলেছে, সব ধর্মের মানুষ যাতে ভয়-प्रतिशোধের আশঙ্কা ছাড়া আপন বিশ্বাস পালন করতে পারে তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সংস্থাটি মনে করে, সাম্প্রতিক সংবিধান সংস্কার, নির্বাচনী পরিবেশ ও সামাজিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে নতুন করে ধর্মীয় সহনশীলতার দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তবে সরকার ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের এ বিষয়ে মতপার্থক্য এখনো প্রবল। একদিকে বিশ্বজনমত বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত, অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার দাবি করছে যে আশঙ্কার চেয়ে পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো এবং দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পথেই আছে। আসন্ন নির্বাচনী সময়ে এই বিরোধী বয়ানগুলোর মধ্যেই হয়তো প্রমাণ হবে বাংলাদেশের ধর্মীয় সৌহার্দ্যের বাস্তব অবস্থা কোন দিকে যাচ্ছে।

এক্সসার্প্ট: যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) এক তথ্যপত্রে বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংস্কার প্রচেষ্টায় সংখ্যালঘুদের মতামত উপেক্ষিত হচ্ছে এবং ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রিপোর্টে উল্লেখিত উগ্রপন্থীরা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে, গত এক বছরে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। নারীর অধিকার আইনে পরিবর্তনের সুপারিশ ইসলামী গোষ্ঠীগুলো “ইসলামবিরোধী” আখ্যা দিয়ে ২০ হাজার লোকের সমাবেশে বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এই চিত্রকে বিরোধীদের ‘গুজব ও ভুল তথ্যের প্রচার’ বলে আখ্যা দিয়ে বলছে, “বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ততটা ব্যাপক নয় যতটা বলা হচ্ছে” এবং তারা সকল সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

spot_img