বাংলাদেশ এখন ইতিহাসের এক সংবেদনশীল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এবং সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (USCIRF) এক তথ্যপত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকার “ধর্মনিরপেক্ষতা” শব্দটি বাদ দিয়ে “বহুত্ববাদ” সংযোজনের যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা বাস্তবে কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। যখন সংখ্যালঘুদের মতামত নেওয়া হয় না, যখন মন্ত্রিসভায় হিন্দু-বৌদ্ধ প্রতিনিধি প্রায় অনুপস্থিত, তখন এমন পরিবর্তন কতটা অর্থবহ?
সরকার যেভাবে ইউএসসিআইআরএফ-এর প্রতিবেদনকে “ভুল তথ্যনির্ভর” বলে অস্বীকার করেছে, তা কেবল চিত্রনাট্য পাল্টানোর চেষ্টা নয়—এটি দায়িত্ব এড়ানোর বিপজ্জনক ইঙ্গিত। সরকার যদি প্রকৃত অর্থেই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় বিশ্বাস করে, তবে তাদের উচিত হতাহতের প্রকৃত তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং বিচারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর পুনরুত্থান এবং তাদের নারী অধিকার সংস্কারের বিরুদ্ধে প্রচারণা। ধর্মের নামে এসব সংগঠন রাজপথে যেভাবে জনমত গঠন করছে, তা বাংলাদেশের বহুত্ববাদের স্বপ্নকে বিপন্ন করছে।
এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। বাংলাদেশ কি সেই রাষ্ট্র হবে যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান মর্যাদায় বসবাস করতে পারে? নাকি ভয়ের রাজনীতিই চিরস্থায়ী হবে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণ করবে দেশের ভবিষ্যৎ—গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার।

