রংপুরে হিন্দু পল্লিতে সাম্প্রদায়িক হামলা: একাত্তরের প্রহরীর প্রতিবাদ

“বর্তমান দখলদার সরকার বাংলাদেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। এই সরকারের মদতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয় সহিংসতা ছড়ানো হচ্ছে।”

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর চালানো সাম্প্রদায়িক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধপন্থী সংগঠন ‘একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশন’। তারা এই বর্বর হামলাকে “রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট ও পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক আক্রমণ” হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

ধর্ম অবমাননার অজুহাতে গুজব ও হামলা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে এক কিশোরকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই উত্তেজনা ছড়ায়। এরপর কয়েকটি গ্রামে হামলা চালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয় ও লুটপাট করা হয়। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং পুলিশ ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

একাত্তরের প্রহরীর বিবৃতি

একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক ড. নুরুন নবী এবং সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, “বর্তমান দখলদার সরকার বাংলাদেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। এই সরকারের মদতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয় সহিংসতা ছড়ানো হচ্ছে। তারা রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে দমন-পীড়নের মাধ্যমে বিরোধীদের দমন করছে।”

তারা অভিযোগ করেন, সরকার মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর দাঙ্গা বাধাচ্ছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “রংপুরে সেনাবাহিনী হিন্দুদের জানমাল রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক।”

মাইলস্টোন হত্যাকাণ্ড ও দখলদারিত্বের অভিযোগ

বিবৃতিতে সরকারকে দায়ী করে বলা হয়, “মাইলস্টোন ট্রাজেডির পরপরই সরকারের পরিকল্পনায় গ্রামের পর গ্রামে আক্রমণ চালানো হয়। একই সঙ্গে সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজি, অর্থপাচারসহ নানা অভিযোগ থাকলেও এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ও রাজনৈতিক প্রস্তাব

একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশন দাবি জানিয়েছে, “এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে যাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ সব দল অংশ নিতে পারে।”

তারা দেশপ্রেমিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে এই হামলার বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানোরও অনুরোধ করেছে।

ঐতিহ্যের প্রতি আহ্বান

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, “বাংলাদেশ ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশ। আমাদের প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে গড়ে তুলতে হবে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

spot_img