২৬ জুলাই ২০২৫, গাজা/রাফাহ (রয়টার্স/বিবিসি) — আন্তর্জাতিক চাপ ও গুরুতর মানবিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল অবশেষে গাজায় খাদ্য সহায়তা পাঠাতে শুরু করেছে। সীমিত আকারে মানবিক করিডোর খুলে দেওয়ার পাশাপাশি, আকাশপথেও খাদ্যবাহী ত্রাণ পাঠানো শুরু হয়েছে।
মিশরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল কাহেরা নিউজ জানিয়েছে, রোববার সকালে মিশরের রাফাহ সীমান্ত হয়ে কারাম আবু সালেম (কিরেম শালোম) ক্রসিং দিয়ে ডজন ডজন ট্রাক গাজায় প্রবেশ করে। এই পথটি মার্চ থেকে বন্ধ ছিল এবং মে মাসে সীমিতভাবে চালু হলেও নতুন বিধিনিষেধ জারি করা হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, “আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায়” তারা উত্তর গাজায় সাতটি খাদ্যবাহী প্যালেট ফেলেছে, যাতে ময়দা, চিনি এবং টিনজাত খাদ্য ছিল।
এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, অক্টোবর ২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৮৫ শিশুসহ অন্তত ১২৭ জন মানুষ অপুষ্টিতে মারা গেছে। গত বুধবার ১০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, “গাজায় দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ছে”।
তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে আইডিএফ বলে, “গাজা উপত্যকায় দুর্ভিক্ষ চলছে না; এটি হামাসের ছড়ানো মিথ্যা প্রচারণা।” তাদের মতে, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাই সহায়তার সঠিক বণ্টনের জন্য দায়ী।
জাতিসংঘ পাল্টা বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েল তাদের উপর চরম সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে, যার কারণে সাহায্য বিতরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলছে, পর্যাপ্ত বিকল্প রুট না থাকায় কার্যকরী সহায়তা পাঠানো যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই, ইতালি থেকে রওনা হওয়া একটি আন্তর্জাতিক সহায়তা জাহাজ গাজার উপকূলে পৌঁছানোর আগেই ইসরায়েলি নৌবাহিনী দ্বারা আটকানো হয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় X (টুইটার)-এ জানিয়েছে, জাহাজটিকে “অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার জন্য” থামানো হয়েছে এবং যাত্রীদের নিরাপদে নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েল বলছে, তারা “হিউম্যানিটারিয়ান পজ” বা মানবিক বিরতির আওতায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ত্রাণ সরবরাহের সুযোগ দিচ্ছে। তবে, সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় তারা।
একই সঙ্গে, ইসরায়েল একটি বিদ্যুৎ লাইন যুক্ত করেছে, যা একটি ডেসালিনেশন প্লান্টে পানি সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে প্রায় ৯ লাখ গাজাবাসী প্রতিদিনের পানির চাহিদা পূরণ করতে পারবে।
এই সংকটের সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, যখন হামাস নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা ইসরায়েল সীমান্তে হামলা চালিয়ে ১২০০ জনকে হত্যা ও ২৫১ জনকে অপহরণ করে। প্রতিশোধমূলক হামলায় ইসরায়েল এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে বলে দাবি গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের।
এই প্রাথমিক সহায়তা উদ্যোগ যতই প্রচারিত হোক না কেন, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “এটি খুব সামান্য এবং অনেক দেরিতে নেওয়া পদক্ষেপ।”

