মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, থামছে না কান্না

ঢাকার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬এ দাঁড়িয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিশু। ঘটনাস্থলে ছিলো আতঙ্ক, বীরত্ব ও প্রশ্ন।

ঢাকা, বাংলাদেশ – জুলাই ২০২৫

আহজারি থামছে না। ভুক্তভোগীদের ঘরে ঘরে শিশু সন্তানদের হারানোর আর্তনাদ। হাসপাতালে কাতরিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার ফলে গতকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ এ। বিভিন্ন মিডিয়া এই সংখ্যা প্রকাশ হলেও মৃতের সংখ্যা নিয়ে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি কাটেনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি।

গত ২১ জুলাই ঢাকার উত্তরা এলাকার মাইলস্টোন স্কুলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী।

গতকাল প্রকাশিত বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৬৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪১ জন শিক্ষার্থী। তবে উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ বলছে, মৃতের সংখ্যা অনেক, যা সরকার গোপন করছে। এখনো সাতটি মরদেহ শনাক্ত হয়নি।

১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আহনাফ বিন হাসান জানান, “আকাশ থেকে যেন একসাথে ৩০-৪০টা বজ্রপাত পড়লো। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই জেটটা মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে স্কুলে আছড়ে পড়ে”।

বিমান বাহিনীর ভাষ্য মতে, প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালীন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পাইলট শেষ মুহূর্তে প্যারাশুটে ঝাঁপিয়ে পড়লেও হাসপাতালে মারা যান।

স্কুলের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ভবনে বিধ্বস্ত হয়ে বিমানটি ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটায়। “ক্লাউড” ও “স্কাই” নামের দুটি ক্লাসরুম একেবারে ধ্বংস হয়ে যায়। আহনাফ বলেন, “আমি এক ছাত্রের পোড়া শরীর কাঁধে তুলে মেডিকেল রুমে নিয়ে যাই।”

১১ বছর বয়সী ওয়াকিয়া ফিরদৌস নিধির পরিবার জানান, তাদের মেয়েকে দাঁতের গঠন ও চোখের সমস্যার মাধ্যমে শনাক্ত করলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মরদেহ হস্তান্তর করা হচ্ছে না।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে গতকাল বলা হয়েছে, সরকারি হিসাব ২৯ জন মৃত দেখালেও আইএসপিআর নিশ্চিত করেছে সংখ্যাটি ৩১। উত্থাপিত হয়েছে বিমান চলাচল, নিয়ন্ত্রণ, এবং জবাবদিহিতার প্রশ্ন।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য গোপনের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে, যেটি সশস্ত্র বাহিনী অস্বীকার করেছে। স্কুল প্রধান বিবিসি বাংলাকে জানান, এখনো পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।

ত্রাণকাজে অনেকেই বীরত্ব দেখান। শিক্ষক মাহরিন চৌধুরী প্রায় ২০ জন ছাত্রকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই ৮০ শতাংশ পুড়ে যান এবং মারা যান।

আহনাফ বলেন, “আমরা বিমান দেখে অভ্যস্ত ছিলাম, কিন্তু ভাবিনি কোনো দিন এটা গায়ে পড়ে যাবে। এখন চোখ বন্ধ করলে অন্ধকার দেখি না, দেখি ধোঁয়া।”

spot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles