আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইনুর বিচার: মানদণ্ড ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন

সংক্ষিপ্ত শুনানি, ফরেনসিক বিতর্ক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ঘিরে ন্যায্য বিচার নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) জুলাই–আগস্টের ঘটনাসংক্রান্ত একাধিক মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে প্রবীণ রাজনীতিক ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে চলমান মামলার শুনানি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং এখন রায়ের অপেক্ষা চলছে।

অভিযোগপক্ষ ও প্রতিরক্ষাপক্ষের উপস্থাপনার পর মামলাটি বর্তমানে বিচারিক সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বর্তমানে কারাবন্দী অবস্থায় আছেন, এবং তার পরিবার ও আইনজীবীদের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ ও প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত বিচার

এই মামলায় মাত্র ৯ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় একে সংক্ষিপ্ত বিচার হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

২০২৫ সালের ২ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেও অভিযুক্তের আইনজীবীরা ভয়েসকে বলেছেন, সাক্ষীদের জেরা করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। জেরার সময় সরকারপক্ষ থেকে অযাচিত বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। হাসানুল হক ইনুকে আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে মৌখিক জবানবন্দি দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি।

এরপর ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে মাত্র ৯ কর্মদিবসের মধ্যেই তা শেষ করা হয়। সরকারপক্ষের যুক্তি খণ্ডনের জন্য আসামীপক্ষকে মাত্র ১ দিন, অর্থাৎ প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। অধিকাংশ শুনানি সকাল ১১টার পর শুরু হয়ে দুপুর ২টার মধ্যেই শেষ হয়। কয়েকদিন একইসঙ্গে আদালতের অন্যান্য মামলার কার্যক্রমও পরিচালিত হয়েছে।

আইন সংশোধনের মাধ্যমে পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের আগের মামলাগুলোর তুলনায় এই মামলায় বিচারিক কার্যক্রমের মোট সময় ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। উদাহরণ হিসেবে গোলাম আযমের মামলায় দীর্ঘ সময়ব্যাপী শুনানি, আত্মপক্ষ সমর্থনের বিস্তৃত সুযোগ এবং প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের পর্যাপ্ত সময় নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে।

আইনজ্ঞদের মতে, এই পার্থক্য বিচারিক প্রক্রিয়ার গভীরতা, সময় এবং সমতার মানদণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তবে সরকারপক্ষের বক্তব্য, শুনানির সময় নির্ধারণ আদালতের নিজস্ব প্রক্রিয়াগত এখতিয়ারের বিষয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরিধি ও বিতর্ক

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মূলত ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের জন্য গঠিত।

সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক সহিংসতা ও পরবর্তী ঘটনাকে এই কাঠামোর আওতায় আনা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আইনজ্ঞদের মতে, এসব ঘটনা সাধারণ ফৌজদারি আদালতে বিচারযোগ্য হতে পারে; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধিক্ষেত্রভুক্ত আদৌ নয়। তাদের মতে রাষ্ট্রপক্ষ গায়ের জোরে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অধিভুক্ত করেছে।

নিহতের সংখ্যা ও এক পক্ষের বিচার

সরকারি ও বিভিন্ন সূত্রে জুলাই–আগস্টের ঘটনায় প্রায় ১৪০০ জন নিহত এবং হাজার হাজার আহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যানের স্বাধীন যাচাই ও পদ্ধতি নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত সংবাদ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকাল পর্যন্ত প্রায় ২০০ মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়। ঐদিন দেশব্যাপী ব্যাপক নৈরাজ্য ও অনেক অঘটন ঘটেছে। ফলে মৃত্যুর ঘটনাও অনেক ঘটেছে। তবে নিহত ব্যক্তিরা সবাই আন্দোলনকারী ছিল না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হচ্ছিল। বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারীরা মানুষকে হত্যা করে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রেখেছিল এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার করেছিল। এভাবে ভীতি সঞ্চার করে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। দেশব্যাপী থানাগুলোতে হামলা করা হয়েছিল। কারাগারে হামলা করে আসামি ও কয়েদিদের বের করে আনা হয়েছে। মানুষের জানমাল ও প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে গিয়ে এবং নিজেদের জীবন রক্ষা করতে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল। ফলে অনেক ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদেরও প্রাণ গেছে। ৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সরকার পতন হলে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। ঐদিন থেকে নৈরাজ্য আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১৪০০ মৃত্যুর আনুমানিক তথ্য উল্লেখ করেছে। এসব মৃত্যুর অধিকাংশ ঘটেছে সরকারের পতন ও শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরে।

সরকার আন্দোলনকারীদের দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে নতুন একটি আইন পাসের মাধ্যমে দায়মুক্তি দিয়ে আরেক পক্ষের বিচার করতে চাচ্ছে।

এই ঘটনাগুলোকে “মানবতাবিরোধী অপরাধ” বা “গণহত্যা” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার আইনি ভিত্তি নিয়েও ভিন্ন অবস্থান দেখা যাচ্ছে। কোনো সম্প্রদায়কে বা সুনির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে “আন্তর্জাতিক অপরাধ” বা “মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ” হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এমন অপরাধ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩-এর আওতায় ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য। আন্দোলনকে ঘিরে তেমন ঘটনা ঘটেনি। অথচ রাজনৈতিক সংঘর্ষের মৃত্যুতে এক পক্ষকে রেহাই দিয়ে আরেক পক্ষকে ট্রাইব্যুনালে এনে সংক্ষিপ্ত বিচার করা অগ্রহণযোগ্য মনে করছেন আইনজীবীরা।

ফরেনসিক ও তদন্ত সংক্রান্ত প্রশ্ন

ঘটনাপ্রবাহে ব্যবহৃত অস্ত্র, গুলির ধরন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন একাধিকবার বলেছেন, আহত ও নিহতদের শরীরে ৭.৬২ ক্যালিবারের গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী এই গুলি ব্যবহার করে না। তাহলে এই অস্ত্র কোথা থেকে এলো? এ বিষয়টি তদন্তের দাবি করা হলেও তা করা হয়নি। অস্ত্র ও গুলির ফরেনসিক প্রতিবেদন নেওয়া হয়নি।

আইনজীবীরা বলছেন, থানায় হামলা, অস্ত্র লুট এবং সহিংস পরিস্থিতির ঘটনাগুলো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সরকার তা করতে দিচ্ছে না। যেনতেনভাবে বিচার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ প্রবল।

অবহিত থাকার ফৌজদারি দায় নিয়ে প্রশ্ন

মামলার একটি কেন্দ্রীয় আইনি বিতর্ক হলো—কোনো ঘটনার বিষয়ে অবগত থাকা এবং তা প্রতিরোধ না করা ফৌজদারি দায় সৃষ্টি করে কি না।

আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী—

  • শুধুমাত্র “জানা” অপরাধের জন্য যথেষ্ট নয়
  • “না থামানো” তখনই দায় সৃষ্টি করে যখন কার্যকর নিয়ন্ত্রণ (effective control) থাকে
  • কমান্ড রেসপনসিবিলিটি (command responsibility) প্রমাণ করতে হয়
  • ইচ্ছাকৃত অবহেলা বা নির্দেশমূলক ভূমিকা প্রতিষ্ঠা জরুরি

অর্থাৎ, শুধুমাত্র তথ্য জানা থাকাকে এককভাবে অপরাধ প্রমাণের ভিত্তি হিসেবে ধরা যায় না—এমন মতও আইনি আলোচনায় উঠে আসছে। যেসব জায়গায় হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে তার কোথাও হাসানুল হক ইনু উপস্থিত ছিলেন না। যাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে দূর থেকে তাদের থামানোর কোনো সামর্থ তার ছিল না।

হাসানুল হক ইনুকে মামলায় আসামি করার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন হলো, ইনু সরকারি দলের কেউ নন। তিনি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা। ২০২৪ সালের ঘটনাবলির সময় তিনি সরকারের মন্ত্রী বা অন্য কোনো পদে ছিলেন না। শুধুমাত্র তার দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে তাকে কথিত “ফ্যাসিস্টের দোসর” তকমা দিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।

আসামী পক্ষের অবস্থান

মামলায় প্রতিরক্ষা পক্ষের আইনজীবীদের দাবি অনুযায়ী—

  • তিনি প্রশাসনিক বা নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন না
  • সরাসরি নির্দেশ বা কমান্ডের প্রমাণ নেই, ক্ষমতাও নেই
  • ফরেনসিক বা প্রযুক্তিগত যোগাযোগের প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি
  • “থামাতে পারতেন”—এই ধারণা তাঁকে অপরাধ আইনের আওতায় আনতে পারে না।

এ কারণে তাদের মতে, শুধুমাত্র “জানা ছিল কিন্তু প্রতিরোধ করেননি”—এই যুক্তি এককভাবে ফৌজদারি দায় প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।

আত্মপক্ষ সমর্থন ও প্রক্রিয়াগত অভিযোগ

প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি অনুযায়ী, হাসানুল হক ইনুকে আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবানবন্দি উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া ৬৮ পৃষ্ঠার একটি লিখিত বক্তব্যও আদালতে উপস্থাপন করতে দেওয়া হয়নি। সরকারের আইনজীবীরা শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য হাজির করেছেন। স্বাক্ষপ্রমাণ ও যুক্তির ধার ধরেননি। তারা বলছেন, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সহিংসতাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে বিচার করার একটি নতুন নজির তৈরি করতে পারে।

বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

একই ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শুধুমাত্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের বিচার চলমান থাকায় পুরো বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, মানদণ্ড এবং প্রয়োগ নিয়ে বিস্তৃত রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ কাঠামোর আওতায় আনার ক্ষেত্রে প্রমাণের মান, নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন এবং বিচারিক নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাসানুল হক ইনু দীর্ঘকাল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো প্রচারণা করেছেন এবং অতীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিচারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে সংঘটিত আগুন সন্ত্রাসের কট্টর সমালোচক ছিলেন। এ কারণেই তার ওপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য একতরফা বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে বলে আইনজীবীরা দাবি করেছেন।

সুবিচার নিশ্চিত হোক

হাসানুল হক ইনু একজন মুক্তিযোদ্ধা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। এই প্রেক্ষাপটে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন করা বিষয়টি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বলে বিবেচিত হচ্ছে। কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, এতে বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

ন্যায়বিচারের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে বিচারিক স্বচ্ছতা, প্রমাণের শক্ত ভিত্তি এবং প্রক্রিয়াগত সমতা বজায় রাখার ওপর।

ইনুর মামলার সংক্ষিপ্ত শুনানির সময়, ট্রাইব্যুনালের পরিধি নিয়ে বিতর্ক, এবং “তিনি জানতেন বলে তিনি দায়ী”—এরকম যুক্তি দেখিয়ে তাকে বিচারের মুখোমুখি করছে সরকারপক্ষ। এমন বিতর্কিত আইনি যুক্তি—সব মিলিয়ে এই বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

চূড়ান্তভাবে, বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে হলে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। রাজনৈতিক সংঘাত ও রাষ্ট্রীয় দমন—এই দুইয়ের সীমারেখা কোথায় টানা হবে, সেটিই এখন বিচারিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।

spot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles